রবিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২১

শিরোনাম

প্রকাশ : 2020-12-13

ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে নানান কান্ড!

নগরীর বলুয়ারদীঘির পাড় কারখানায় ১৭ বছর বয়সী কিশােরী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ভুক্তভােগী পরিবার এলাকা ছাড়া হয়ে গেছে। মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষের হুমকি ধমকির মুখে পরিবারটি অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর কোতােয়ালী থানাধীন বলুয়ারদীঘির পশ্চিম পাড়ে একটি জর্দা তৈরির কারখানায় ধর্ষণের শিকার হয় ওই কারখানারই কর্মচারী এক কিশােরী। ঘটনার এক সপ্তাহ পর ওই কিশােরী ধর্ষণের বিষয়টি পরিবারের কাছে বললে পরিবারের পক্ষ থেকে কারাখানার মালিক নজরুল ইসলামের ভাই নুর ইসলামকে আসামি করে কোতােয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভােগী কিশােরী বাবা-মায়ের সঙ্গে বলুয়ারদীঘির পাড়ে কারখানার কাছেই একটি ভাড়া বাসায় থাকত।

মামলার বাদী ও কিশােরীর বাবা লাল মিয়া বলেন, আমরা গরীব। সামান্য কর্ম করে আমাদের পরিবার চলছে। মামলার বিষয় কিছু বুঝি না। এতসব ঝামেলায় না গিয়ে প্রাণে বাঁচতে পরিবার নিয়ে বলুয়ারদীঘির পাড়ের বাসা ছেড়ে অন্য থানা এলাকায় বাসা নিয়েছি। মেয়েটি এখন একটি গার্মেন্টে চাকরি করছে।

জানতে চাইলে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা মাে. ইকবাল হােসেন ভূঁইয়া গতকাল  বলেন, মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। আসামি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বন্ধের দিন কারখানায় কাজের কথা বলে শােরী ফোন করে ডেকে আনা হয়। পরে কু প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে অভিযুক্ত নূর ইসলাম। ঘটনার বিষয়টি কাউকে জানালে ভুক্তভােগী কিশােরীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

২০ নং দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রফিকুল আলম বাপ্পীর ব্যবসায়ীক অংশীদার নজরুল ইসলামের  ছোট ভাই নুর ইসলাম কতৃক  গত ২৫/০৯/২০২০ তারিখে বলুয়ারদীঘি পশ্চিমপাড়স্হ জামাল সওদাগর কলোনীর নজরুল জর্দা ফেক্টরির ভিতর  ইয়াসমিন আক্তার (১৭) নামের অসহায় গরিব অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরী  ধর্ষণের ঘটনা দামাচাপা দিতে ধর্ষন মামলা হওয়ার দেড় মাস পর মামলা নং-৭ ২/১০/২০২০  রফিকুল আলম বাপ্পি ধর্ষিতা কিশোরি ও তার বাবা মা কে বলুয়ারদীঘির পূর্বপাড়স্থ তার অফিসে লোকজন দিয়ে  জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন  করে আসামীর উপস্থিতিতে জলিল বিল্ডিং কোরবানিগন্জ কাজী অফিসের  কাজি হাফিজুর রহমান এর সহায়তায় বিয়ে পরিয়ে ১০ মিনিটের মাথায় আবার তালাক নামায় জোরপূর্বক  সাক্ষর ও অলিখিত খালি স্টাম্প এ সাক্ষর  নিয়ে  ধর্ষিতার  পরিবারকে দেওয়ার নামে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এক টাকাও না দিয়ে উল্টা মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছে। বর্তমানে বাপ্পির লাগাতার  হুমকি ধমকিতে অসহায় পরিবারটি  চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে ধর্ষিতার পিতা লাল মিয়া জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

চট্টগ্রাম প্রতিদিন পাতার আরো খবর