রবিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২১

শিরোনাম

প্রকাশ : 2019-11-09

ক্যাসিনোর জন্য প্রশাসন দায়ী

বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র। কিন্তু এ শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রকে অশান্তিতে ভরিয়ে তুলেছে কিছুসংখ্যক অসৎ মানুষ। তারা কোনোদিন এ দেশের ভালো চায়নি, আজও চায় না। এ অসৎ মানুষদের কারণেই সৃষ্টি হচ্ছে নানা সমস্যা; যার সমাধান করাও একটু জটিল হয়ে পড়েছে। তবে দৃঢ় অঙ্গীকার থাকলে তা করা সম্ভব।

দেশে জুয়া খেলার ব্যবসা ক্যাসিনো চালু হয়েছে অনেকদিন আগেই। দীর্ঘদিন অবৈধ ক্যাসিনোগুলো চলার পেছনে প্রশাসনের সহায়তা ছিল। দেশের ক্লাবগুলো একেকটি জুয়াখেলার হাউসে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এগুলোতে অভিযান চালানো হয়। কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়। প্রশ্ন হল, যে কাজে পুলিশেরই একটি অংশের সহায়তা ছিল, সেখানে তারা লোক দেখানো কয়েকজনকে গ্রেফতার করে কী করবে?

পুলিশের ভাষ্য হল, ক্লাবগুলোতে জুয়াখেলা হয় জানতাম; কিন্তু ক্যাসিনো আছে সেটি জানতাম না! অথচ সত্য হল, ক্যাসিনোগুলোর অবস্থান থানা বা পুলিশ স্টেশন থেকে অল্প দূরত্বে। কাজেই কোনো নির্বোধও বিশ্বাস করবে না, এসব কার্যকলাপ পুলিশ বা প্রশাসনের নজরের বাইরে ছিল। আর যদি তাদের নজরে বাইরে থেকে থাকেও, সেটাও তাদের দায়িত্বে অবহেলা।

আসলে ক্যাসিনোগুলো চলছিল রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে। অবৈধ ক্যাসিনো চলত পুলিশের পাহারায়। শুধু পুলিশই নয়, গোয়েন্দা সংস্থার অনেক সদস্যও এ অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, দেশে ক্যাসিনোর অস্তিত্ব সম্পর্কে ২০১৭ সালের জুনেই পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারে। পরের বছর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। তারপরও ক্যাসিনোগুলো বন্ধের কোনো উদ্যোগ নেয়নি পুলিশ। ক্যাসিনো বন্ধ করলে পুলিশের মোটা অঙ্কের অর্থ পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে, এটিই কি এর কারণ?

যে দেশের প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দুর্নীতিপরায়ণ, সে দেশে আর যাই হোক, শান্তি বা শৃঙ্খলা আশা করা যায় না। যারা নিজেরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তারা কীভাবে অপরাধী খুঁজে বের করবে? আর অপরাধী খুঁজতে গেলে তো সর্বপ্রথম নিজেদের দিকেই আঙুল উঠবে। তাই তারা বিভিন্ন সময় হাতের নাগালে থাকা অপরাধীকেও এড়িয়ে যায় নিজেদের স্বার্থে।

সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে, এসব ক্লাবের উদ্যোক্তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকায় কেউ কেউ অন্য দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বলে সরকারি দল করি। এগুলো গড়ে ওঠার জন্য দেশের প্রশাসন দায়ী। এ অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে ফেরার কোনো উপায় আছে কি? যদিও জানি, বিদ্যমান ব্যবস্থায় অনেক দুর্নীতিই স্বাভাবিক। এ অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে রক্ষার জন্য সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ জরুরি।

কল্পনা আক্তার : শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

সর্বশেষ সংবাদ