সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

পিছিয়েছে গ্যাটকো মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানো হয়েছে। আগামী ২২ ডিসেম্বর শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (১৮ নভেম্বর) মামলা অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য থাকলে অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না বিএনপির চেয়ারপারসন। অনুপস্থিতির জন্য তার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবীর প্রার্থনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা তিন নম্বর বিশেষ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক নজরুল ইসলাম শুনানি মুলতবি করে নতুন দিন ধার্য করেন।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী চারদলীয় জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন।

...

বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে ছাত্রলীগ সভাপতির জন্মদিন উদযাপন

করোনা মহামারীর ছোবলে বিদ্ধস্ত ও আক্রান্ত নাগরিক জীবন। তাই পরিবেশের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা বেড়ে গেছে অনেকখানি। এমন প্রতিকূল সময়ে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ভাইয়ের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর সার্বিক দিক নির্দেশনা এবং সম্মিলিত বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হাকিম সম্রাটের উদ্যোগে আজ ৩০ অক্টোবর, ২০২০ ইং এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করা হয়। 

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ নুরুল হাসনাত শুভ এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিদ আল জাহিদ সহ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। 

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হাকিম সম্রাট বলেন, 'বাংলার ছাত্রসমাজের দিকপাল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ভাই এর জন্মদিন উপলক্ষে এই বৃক্ষরোপনের উদ্যোগ। করোনা মহামারীতে সৃষ্ট সংকটে বিপর্যস্ত দেশ। এমতাবস্থায় জয় ভাইয়ের পরামর্শ ও নির্দেশনা ছিল, কোনো আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন নয় বরং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে সমাজ ও পরিবেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কিছু করা।এই জায়গা থেকেই এই উদ্যোগ। আসুন আমরা পরিবেশের প্রতি আরো বেশি সচেতন হয়ে উঠি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করি।'

...

প্রতিটি ক্ষেত্রেই মিথ্যাচার করছে সরকার: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি, প্রণোদনাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই মিথ্যাচার করছে সরকার। জনগণের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘কোভিড ১৯ এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের কৃষি সেক্টরে কৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। এ সেমিনারের আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বৈরাচারী সরকার, ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না। সরকারের কোনো কাজ নেই বলেই বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলে।

...

কর্ণফুলী রক্ষায় আয়োজিত হচ্ছে এই সাংস্কৃতিক আন্দোলন- আ জ ম নাছির উদ্দীন

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে নগর আ'লীগের দুই দিন ব্যাপী সাম্পান উৎসব। 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে দুই দিন ব্যাপী সাম্পান উৎসবের আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ । কর্ণফুলী ও দেশের নদ-নদী দখল, দূষণ মুক্ত করণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 
এই উপলক্ষে আজ ১৩ অক্টোবর সকালে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।  সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, অর্থনীতির সঞ্চালক কর্ণফুলী এখন দখল,দূষণ ও ভরাটসহ নানামুখী সমস্যার কবলে পড়েছে। শুধু কর্ণফুলী নয় দেশের সকল নদনদীগুলোই আজ দখল,দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। তাই কর্ণফুলীসহ দেশের সকল নদনদী  দখল ও দূষনমুক্ত করণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই চট্টগ্রাম থেকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ, আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০ টায় কর্ণফুলীর অভয়মিত্র ঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু এলাকা পর্যন্ত সাম্পান শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী এই শোভাযাত্রা উদ্বোধন করবেন। পরদিন ১৭ অক্টোবর শনিবার বিকাল ৩ টায় অভয় মিত্র ঘাট(নেভাল টু) এলাকায় সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলা অনুষ্ঠিত হবে।  এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ এমপি। 
সাম্পান শোভাযাত্রা ও সাম্পান খেলায় ১০ জন মাঝি ও তাদের দল অংশগ্রহন করছে। অংশগ্রহণকারীরা হলেন- চট্টগ্রাম ইছানগর বাংলাবাজার সাম্পান মালিক কল্যান সমিতি, ইছানগর সদরঘাট সাম্পান মালিক কল্যান সমিতি, চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান চালক কল্যাণ সমিতি,চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, পুরাতন ব্রিজঘাট ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী সমিতি, মালেক শাহ দ্বীপ কালা মোড়ল সমিতি, শিকলবাহার আহমদ উল্লাহ শাহ, মাদ্রাসা পাড়ার মোহাম্মদ তারেক, শিকলবাহার শেখ আহমদ মাঝি ও সদরঘাট সাম্পান মালিক সমিতির নূর মোহাম্মদ। আয়োজনের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র ও কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যান সমিতি। 
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা চাঁটগাইয়া নওজোয়ান। বুক পেতে  দিয়ে সকল ঝড়তুফান ঠেকিয়ে সামনে এগিয়ে চলার মন্ত্র নিয়ে আমরা বেড়ে উঠি। কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানোর জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই  আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নগর আওয়ামী লীগের মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ক্রীড়া বিভাগের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম চৌধুরী।  এসময় নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মসিউর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, ত্রাণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, সাংবাদিক আলীউর রহমান, চৌধুরী ফরিদসহ সংশ্লিষ্ট সাম্পান মাঝিরা উপস্থিত ছিলেন

...

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চীনের প্রভাব আরো বাড়বে

করোনাভাইরাস ইস্যুতে চীন থেকে সরে যাওয়া বিদেশি বিনিয়োগের কিছু অংশ যাতে বাংলাদেশে আসে, সে লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির গতি-প্রকৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। এ সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে চীন থেকে বড় ধরনের বিনিয়োগ পাওয়ার আশায় রয়েছে সরকার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব কারণে আগামীতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চীনের প্রভাব আরও বাড়বে।

এদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ নেওয়াসহ বিভিন্ন নীতিমালা সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বৈদেশিক মুদ্রার (এফসি) অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে এখন থেকে বাংলাদেশের কোনও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা কোনও বিদেশি বিনিয়োগকারী তার লভ্যাংশের অর্থ এফসি অ্যাকাউন্টে রাখতে পারবেন। যেকোনও সময় অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ নিজ দেশে বা অন্য দেশে নিয়ে যেতে পারবেন। আবার বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে লভ্যাংশের অর্থ বাংলাদেশে বিনিয়োগও করতে পারবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নানা উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই শিথিলতা এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

যদিও এর আগে একই বিষয়ে নানা ধরনের বিধিনিষেধ ছিল। মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগ বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চীনে দাপট আরও বাড়বে। কারণ, সারা পৃথিবীর মধ্যে সম্পদশালী দেশ এখন চীন। এছাড়া, সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগও চীনেরই। ফলে করোনা ইস্যুতে চীন থেকে কেউ তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিলেও চীনের অর্থনীতিতে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়বে।’

তিনি উল্লেখ করেন, অন্যান্য নতুন দেশ শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার দেখে এই দেশে বিনিয়োগ বাড়াবে না। কিন্তু চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে লভ্যাংশের অর্থ বাংলাদেশে বিনিয়োগও করতে পারবে। তিনি মনে করেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে অনেক কিছু সহজ করতে হবে। যেমন, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য এখানে বিনামূল্যে জমি দেওয়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমাতে হবে। রাস্তাঘাট ভালো করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে তিনটি দেশের দিকে নজর দিতে হবে। এই দেশ তিনটি হলো— প্রথমত চীন, এছাড়া জাপান ও কোরিয়া।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চীনের প্রভাব এখন সবচেয়ে বেশি। ২০১৬ সালের পর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে দেশটি। ফলে এই মুহূর্তে চীনই বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র।

এখন পর্যন্ত চীন থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ এসেছে (স্টক বিনিয়োগ) ২ হাজার ৯০৭ মিলিয়ন ডলার। শুধু ২০১৯ সালে চীন থেকে নতুন বিনিয়োগ এসেছে এক হাজার ৪০৮ মিলিয়ন ডলার।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল ৩৬০ কোটি ডলার। এরমধ্যে চীনই করেছে বেশি। গত বছর চীনের পর নেদারল্যান্ড ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র। দেশটি এখানে বিনিয়োগ করেছে ৬৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। ৩৭ কোটি ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রিটেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থান চতুর্থ। যদিও একসময় যুক্তরাষ্ট্রই ছিল শীর্ষে। ২০১৮ সালে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে চতুর্থ স্থানে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৮০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ১৯৯৫ সালে মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ। এরপরই নরওয়ের টেলিনর ও মিসরের ওরাশকমের মতো টেলিকম জায়ান্ট বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

জানা গেছে, মহামারি করোনার সংক্রমণ শুরুর পর চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে চীনে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ১০ শতাংশ কমেছে। চীন থেকে সরতে চাওয়া বিদেশিদের আকর্ষণের জন্য ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ নানা রকম চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশও সেটা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ খুরশিদ ওয়াহাব বলেন, ‘চীন থেকে সরে যাওয়া বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গত ২৬ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে অনায়াসে তাদের বিনিয়োগের অর্থ-লভ্যাংশ নিজ দেশ বা অন্যত্র নিয়ে যেতে পারেন, সে ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছিল।’

সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এফসি অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে বলে মনে করেন মোহাম্মদ খুরশিদ ওয়াহাব। তিনি উল্লেখ করেন, এতদিন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের লভ্যাংশের অর্থ তাদের নিজ দেশে নিয়ে যেতে পারতেন। এখন এফসি অ্যাকাউন্ট খুলে ওই অ্যাকাউন্টে লভ্যাংশের অর্থ রাখতে পারবেন। আবার যখন খুশি বিনিয়োগকারীরা তার লভ্যাংশের অর্থ বাংলাদেশে যেকোনও প্রতিষ্ঠানে পুনঃবিনিয়োগ করতে পারবেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ‍তুলছে সরকার। এছাড়া বিদ্যমান ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট যুগোপযোগী করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি একটি খসড়া তৈরি করেছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এই আইনে আর কী কী পরিবর্তন আনা দরকার, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুততম সময়ে আইনটি পাস করার ওপর জোর দেওয়া হয় চিঠিতে। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তা কাজে লাগাতে ব্যাংকিং কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বিদ্যমান আইনগত, নীতিগত এবং পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) বিভিন্ন খাতে সব মিলিয়ে ৩৭২ কোটি ৮০ লাখ ডলার এফডিআই বা সরাসরি বিনিয়োগ এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ কম।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চীন থেকে আমদানি হয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। একই সময়ে সর্বোচ্চ দ্বিতীয় আমদানিকারক দেশ ভারত থেকে ৭ হাজার ৬৪৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ ভারতের চেয়ে চীন থেকে প্রায় দ্বিগুণ পণ্য আমদানি করেছে। এছাড়া চীনে পণ্য রফতানি হয়েছে ৭৪৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের। এদিকে বাংলাদেশের রফতানি বাড়াতে সম্প্রতি চীন বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে চীনের বাজারে আরও ৫ হাজার ১৬১ পণ্যের ৯৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশ এ সুবিধা পাচ্ছে। আর এটি বলবৎ থাকবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। অবশ্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীন থেকে এপিটির আওতায় ৩ হাজার ৯৫টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছিল। ওই সুবিধার বাইরে ৯৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হলো। এতে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় চীনের বাজারে বাংলাদেশের ৮ হাজার ২৫৬টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় এসেছে।

সরকারি তথ্য বলছে, এত কিছুর পরও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে ১২ হাজার ৮৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

...

ম্যারাডোনার স্মৃতিতে দুই বোন হলেন ম্যারা ডোনা

ফুটবল জাদুকর ম্যারাডোনার বিদায়ে কাঁদছে বিশ্ব। শোকে স্তব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা। মাঠের দ্যুতি ছড়ানো এই নক্ষত্রকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ভক্ত-সমর্থকরা। কিন্তু চলে যাওয়া মানেই তো প্রস্থান নয়। তাই হয়তো প্রিয় তারকার স্মৃতি ধরে রাখতে ভক্তদের নানা আয়োজন। স্মৃতির মানসপটে ম্যারাডোনাকে ধরে রাখার কতশত প্রচেষ্টা। ম্যারাডোনার বেলায় এটাই হয়তো স্বাভাবিক। কেননা তিনি যে ফুটবল ঈশ্বর। ফুটবলের রাজপুত্র, কিংবদন্তি।  

আর্জেন্টাইন এ কিংবদন্তি হয়তো দীর্ঘকাল মানুষের মনে থাকবেন। তবুও ম্যারাডোনার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে সমর্থকদের ভিন্নধর্মী আয়োজন অবাক করার মতোই। আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্সের এক পরিবারে দেখা গেল তারই নিদর্শন। ম্যারাডোনার অন্ধ ভক্ত বুয়েন্স আয়োর্সের এক বাবা তার দুই যমজ কন্যার নাম রাখলেন ম্যারাডোনার নামে। ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর নয় বছরের দুই শিশুকন্যাকে এই কিংবদন্তির নামে ডাকা শুরু করেছেন তিনি। 

ম্যারাডোনা নামকে দুই ভাগে ভাগ করে একজনের নাম রেখেছেন ম্যারা আর অন্যজনের নাম দিয়েছেন ডোনা। শুধু তাই না ‘ম্যারা’ এবং ‘ডোনা’ দুই নামে দুটি জার্সিও তৈরি করে দিয়েছেন তাদের। আর তাদের জার্সি নম্বরও ১০।   

তবে যমজ মেয়েদের নামকরণটা হঠাৎ করেই রাখা বিষয়টি এমন নয়। বাবা ওয়ালটার জানান, ১৯৯০'র বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার খেলা দেখে আমি তার ভক্ত হয়ে যাই। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে যাওয়ার পর তার কান্না দেখেছি। ওই বিশ্বকাপের পর আমার স্ত্রী স্টেলা ম্যারিসের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে আমরা ঠিক করে রেখেছিলাম ম্যারাডোনার নামে নাম রাখব আমাদের সন্তানদের।   

 

এই দুই যমজ কন্যার মধ্যে ‘ম্যারা' বয়সে এক মিনিটের বড়। তাই নামের প্রথম অংশ তাকেই দেওয়া হয়েছে। ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনা সম্পর্কে ম্যারা জানায়, নতুন নামে আমি অনেক আনন্দিত। এটা জেনে ভালো লাগছে যে, এই নামে বিখ্যাত এক কিংবদন্তি ফুটবলার ছিলেন। যিনি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ছিলেন। ছোট বোন ডোনা জানায়, ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর শুনেছি। এটা খুবই দুঃখের বিষয়। তিনি খুব ভালো ফুটবলার ছিলেন শুনেছি। আমার বিশ্বাস হয় না, তিনি আর আমাদের মাঝে নেই।

...

মুরগির খামার দিচ্ছেন ধোনি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধোনি। সম্প্রতি আইপিএল আসরও শেষ করলেন। কিন্তু ক্রিকেট না থাকার অবসরে কী করছেন? এমন কৌতূহল ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে থাকাটাই স্বাভাবিক। 

উত্তর জানান গেল, ক্রিকেটের পাশাপাশি এবার অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন ধোনি। মুরগির খামার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন ভারতের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধোনি। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে এ তথ্য। 

ভারতের বিখ্যাত কালো রঙের ‘কড়কনাথ’ প্রজাতির মুরগির খামার শুরু করতে যাচ্ছেন ধোনি। ইতোমধ্যে ২ হাজার মুরগির অর্ডারও করেছেন ধোনি। বিনোদ মেন্দার নামে স্থানীয় এক আদিবাসী খামারির কাছে এ অর্ডার দিয়েছেন তিনি। ওই খামারি জানান, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ধোনির খামারে পৌঁছে দেবেন মুরগি।

এদিকে কড়কনাথ মুরগি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক আইএস তোমার জানান, কড়কনাথ মুরগি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। এটি অতিরিক্ত চর্বি এবং কোলেস্টেরলমুক্ত।  

...

আমার মতন ভুল যেনো কেউ না করেঃ সাকিব

সাকিব আল হাসান ফিরছেন। ক্রিকেট মাঠে ফিরতে পারবেন যে কোনো সময়। তার আগে ফিরছেন দেশে। তারও আগে যুক্তরাষ্ট্রে বসে গণমাধ্যম ও সমর্থকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানেই বলেছেন, তার মতো ভুল যেন আর কেউ না করে। 

সাকিব বলেন, নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর অবশ্যই আফসোস হয়েছে এবং আমি অনুতপ্তও হয়েছি। আমার এরকম একটা মিসটেক করা উচিত হয়নি। এখান থেকে আমি বড় একটা শিক্ষা নিয়েছি। আমাকে যে শাস্তি দিয়েছে সেটাই আমি মাথা পেতে নিয়েছি। আমি চাই এই ভুল যেন কেউ না করে। সবাইকে সাবধানী হতে হবে। এ ধরণের কোনো প্রস্তাব পেলে সঙ্গে সঙ্গে আইসিসি বা বিসিবিকে জানাতে হবে। বিতর্ক কেউ অযথা চায় না। তবে, আমি সবসময় বিতর্ক এড়াতে পারিনি। সামনের সময়টাতে চাইবো, যাতে এ ধরণের ঝামেলায় না পড়ি।

২০২৩ সালের মধ্যে তিনটি বিশ্বকাপ খেলবেন সাকিব। তাই শুধু নিজেকে নিয়ে নয়। বাংলাদেশ দল নিয়েও আছে তার পরিকল্পনা। 

তিনি বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র বলে কাউকে মূল্যায়ন করিনা। যারা পারফর্ম করবে, তাদেরকেই সুযোগ দেয়া উচিত।

নিষেধাজ্ঞার এই কঠিন সময়ে যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, নিজের সেসব শুভাকাঙ্খী এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সাকিব আল হাসান। কথা দিয়েছেন আস্থার প্রতিদান দেবেন মাঠে পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে।

তিনি বলেন, আমি যতোটুকু আশা করেছিলাম তারচেয়েও অনেক বেশি সমর্থন পেয়েছি ভক্ত এবং বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কাছ থেকে। আমি আশা করি সবার এমন ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারবো মাঠে পারফর্ম করে। 

...

অবশেষে করোনা মুক্ত সি আর সেভেন

অবশেষে করোনা মুক্ত হলেন য়্যুভেন্তাস ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। চতুর্থ দফার টেস্টে তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচের পর গেল ১৩ অক্টোবর করোনা পজিটিভ হন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পরদিনই লিসবন থেকে তুরিনে ফিরে আসেন পর্তুগিজ তারকা। নিয়ম মেনে প্রথম টেস্টের ১০ দিন পর কোরনা টেস্ট করান তিনি। কিন্তু তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

এরপর ২৭ অক্টোবর তৃতীয় বারের মত কভিড টেস্ট করান তিনি। তাতেও রোনালদোর রিপোর্ট পজিটিভ আসলে বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও শারিরীক ভাবে কোন সমস্যাই ছিলো না তার।

শুক্রবার চতুর্থ বারের মত করোনা টেস্ট করানো হয় সি আর সেভেনের। সেখানে তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে বলে নিশ্চিত করে য়্যুভেন্তাস।

...

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চীনের প্রভাব আরো বাড়বে

করোনাভাইরাস ইস্যুতে চীন থেকে সরে যাওয়া বিদেশি বিনিয়োগের কিছু অংশ যাতে বাংলাদেশে আসে, সে লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির গতি-প্রকৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। এ সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে চীন থেকে বড় ধরনের বিনিয়োগ পাওয়ার আশায় রয়েছে সরকার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব কারণে আগামীতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চীনের প্রভাব আরও বাড়বে।

এদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ নেওয়াসহ বিভিন্ন নীতিমালা সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বৈদেশিক মুদ্রার (এফসি) অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে এখন থেকে বাংলাদেশের কোনও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা কোনও বিদেশি বিনিয়োগকারী তার লভ্যাংশের অর্থ এফসি অ্যাকাউন্টে রাখতে পারবেন। যেকোনও সময় অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ নিজ দেশে বা অন্য দেশে নিয়ে যেতে পারবেন। আবার বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে লভ্যাংশের অর্থ বাংলাদেশে বিনিয়োগও করতে পারবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নানা উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই শিথিলতা এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

যদিও এর আগে একই বিষয়ে নানা ধরনের বিধিনিষেধ ছিল। মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগ বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চীনে দাপট আরও বাড়বে। কারণ, সারা পৃথিবীর মধ্যে সম্পদশালী দেশ এখন চীন। এছাড়া, সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগও চীনেরই। ফলে করোনা ইস্যুতে চীন থেকে কেউ তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিলেও চীনের অর্থনীতিতে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়বে।’

তিনি উল্লেখ করেন, অন্যান্য নতুন দেশ শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার দেখে এই দেশে বিনিয়োগ বাড়াবে না। কিন্তু চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে লভ্যাংশের অর্থ বাংলাদেশে বিনিয়োগও করতে পারবে। তিনি মনে করেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে অনেক কিছু সহজ করতে হবে। যেমন, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য এখানে বিনামূল্যে জমি দেওয়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমাতে হবে। রাস্তাঘাট ভালো করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে তিনটি দেশের দিকে নজর দিতে হবে। এই দেশ তিনটি হলো— প্রথমত চীন, এছাড়া জাপান ও কোরিয়া।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চীনের প্রভাব এখন সবচেয়ে বেশি। ২০১৬ সালের পর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে দেশটি। ফলে এই মুহূর্তে চীনই বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র।

এখন পর্যন্ত চীন থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ এসেছে (স্টক বিনিয়োগ) ২ হাজার ৯০৭ মিলিয়ন ডলার। শুধু ২০১৯ সালে চীন থেকে নতুন বিনিয়োগ এসেছে এক হাজার ৪০৮ মিলিয়ন ডলার।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল ৩৬০ কোটি ডলার। এরমধ্যে চীনই করেছে বেশি। গত বছর চীনের পর নেদারল্যান্ড ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র। দেশটি এখানে বিনিয়োগ করেছে ৬৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। ৩৭ কোটি ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রিটেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থান চতুর্থ। যদিও একসময় যুক্তরাষ্ট্রই ছিল শীর্ষে। ২০১৮ সালে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে চতুর্থ স্থানে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৮০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ১৯৯৫ সালে মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ। এরপরই নরওয়ের টেলিনর ও মিসরের ওরাশকমের মতো টেলিকম জায়ান্ট বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

জানা গেছে, মহামারি করোনার সংক্রমণ শুরুর পর চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে চীনে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ১০ শতাংশ কমেছে। চীন থেকে সরতে চাওয়া বিদেশিদের আকর্ষণের জন্য ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ নানা রকম চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশও সেটা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ খুরশিদ ওয়াহাব বলেন, ‘চীন থেকে সরে যাওয়া বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গত ২৬ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে অনায়াসে তাদের বিনিয়োগের অর্থ-লভ্যাংশ নিজ দেশ বা অন্যত্র নিয়ে যেতে পারেন, সে ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছিল।’

সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এফসি অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে বলে মনে করেন মোহাম্মদ খুরশিদ ওয়াহাব। তিনি উল্লেখ করেন, এতদিন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের লভ্যাংশের অর্থ তাদের নিজ দেশে নিয়ে যেতে পারতেন। এখন এফসি অ্যাকাউন্ট খুলে ওই অ্যাকাউন্টে লভ্যাংশের অর্থ রাখতে পারবেন। আবার যখন খুশি বিনিয়োগকারীরা তার লভ্যাংশের অর্থ বাংলাদেশে যেকোনও প্রতিষ্ঠানে পুনঃবিনিয়োগ করতে পারবেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ‍তুলছে সরকার। এছাড়া বিদ্যমান ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট যুগোপযোগী করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি একটি খসড়া তৈরি করেছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এই আইনে আর কী কী পরিবর্তন আনা দরকার, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুততম সময়ে আইনটি পাস করার ওপর জোর দেওয়া হয় চিঠিতে। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তা কাজে লাগাতে ব্যাংকিং কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বিদ্যমান আইনগত, নীতিগত এবং পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) বিভিন্ন খাতে সব মিলিয়ে ৩৭২ কোটি ৮০ লাখ ডলার এফডিআই বা সরাসরি বিনিয়োগ এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ কম।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চীন থেকে আমদানি হয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। একই সময়ে সর্বোচ্চ দ্বিতীয় আমদানিকারক দেশ ভারত থেকে ৭ হাজার ৬৪৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ ভারতের চেয়ে চীন থেকে প্রায় দ্বিগুণ পণ্য আমদানি করেছে। এছাড়া চীনে পণ্য রফতানি হয়েছে ৭৪৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের। এদিকে বাংলাদেশের রফতানি বাড়াতে সম্প্রতি চীন বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে চীনের বাজারে আরও ৫ হাজার ১৬১ পণ্যের ৯৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশ এ সুবিধা পাচ্ছে। আর এটি বলবৎ থাকবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। অবশ্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীন থেকে এপিটির আওতায় ৩ হাজার ৯৫টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছিল। ওই সুবিধার বাইরে ৯৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হলো। এতে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় চীনের বাজারে বাংলাদেশের ৮ হাজার ২৫৬টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় এসেছে।

সরকারি তথ্য বলছে, এত কিছুর পরও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে ১২ হাজার ৮৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

...

সোনার দামে রেকর্ড

লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সোনার দাম। বিশ্বজুড়ে দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। বুধবার (৮ জুলাই) বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে প্রতি আউন্স এক হাজার ৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে। যা গত ৯ বছরের রেকর্ড।

এর আগে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে এমন দাম বেড়েছিল। তবে এবার সোনার দাম বাড়ার পেছনে নিরাপদ বিনিয়োগকে কারণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বুধবার যুক্তরাজ্যের বাজারে সোনার দাম বেড়ে প্রতি আউন্স হয় এক হাজার ৮০০ দশমিক ৮৬ ডলার, যা গত সাড়ে আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ২০১১ সালে সোনার দাম উঠেছিল ৯২১ দশমিক ১৮ ডলার।

গত বছরের শেষদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১৪৫৪ ডলার। এরপর করোনাভাইরাস প্রকোপের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬০ ডলারে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার এই দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হয়।

এছাড়া, গত ফেব্রুয়ারিতে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম রেকর্ড ৬১ হাজার ৫২৭ টাকায় ওঠে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫৯ হাজার ১৯৪ এবং ১৮ ক্যারেটের ৫৪ হাজার ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতিতে সোনার দাম নির্ধারণ হয় ৪১ হাজার ৪০৭ টাকা।

তবে মার্চে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় পতন হয়। এক ধাক্কায় দাম কমে প্রতি আউন্স ১৪৬৯ ডলারে নেমে আসে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারেও সোনার দাম কমানো হয়।

...

এইচএসসি’র ফলাফল প্রকাশে তৈরি হচ্ছে নীতিমালা

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ফলাফল তৈরিতে গ্রেড নির্ণয়ের একটি রূপরেখা রেখা চলতি মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে গ্রেড মূল্যায়ন টেকনিক্যাল কমিটি। এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে একটি নীতিমালা তৈরি করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও গ্রেড মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মো. জিয়াউল হক এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, জেএসসি বা জেডিসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। আগের দুই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে গ্রেড পয়েন্ট নির্ধারণ করা হবে।

অধ্যাপক মো. জিয়াউল হক বলেন, অটোপাসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের গ্রেড নির্ণয় করতে আট সদস্যের একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা চারটি সভা করে একাধিক প্রস্তাব তৈরি করেছি। সেখান থেকে চূড়ান্ত একটি প্রস্তাব নির্বাচন করে নভেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এর ভিত্তিতে নীতিমালা তৈরি করে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফল তৈরি করা হবে। আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আট সদস্যের এ কমিটি গঠিত হয়েছে। যেখানে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের প্রতিনিধি এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। করোনা কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে।

...

প্রাথমিকে শিক্ষক বদলিতে আসছে বড় পরিবর্তন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগে আসছে বড় পরিবর্তন। এবার শুরু হচ্ছে বদলির অনলাইন কার্যক্রম। একজন শিক্ষক একাধিক বিদ্যালয়ে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা অধিদফতর। ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে মার্চে এই কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা অধিদফতর। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করা হচ্ছে। এ নিয়োগ কার্যক্রমে নানা ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তার মধ্যে একজন শিক্ষক অনলাইনে পছন্দ নির্বাচন করে একাধিক বিদ্যালয়ে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন প্রথমে সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে যাবে। আবেদন করার পরবর্তী তিন দিন সেই মাঠকর্মকর্তা তাতে সুপারিশ বা মন্তব্য না লিখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ক্ষমতা ব্লক হয়ে উপরস্থ কর্মকর্তার কাছে চলে যাবে। এভাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক পর্যন্ত চলে যাবে। এতে করে শিক্ষকদের হয়রানি ও নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ হবে। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শিক্ষক বদলি করা হবে।

 আগামী ১ জানুয়ারি থেকে অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে। মার্চের মধ্যে বদলি কার্যক্রম শেষ করা হবে। শিক্ষকরা আবেদন করলে তার নামে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি হবে। তিনি নিজস্ব পাসওয়ার্ড দিয়ে তাতে প্রবেশ করতে পারবেন। আবেদন করে কেউ বদলি না হলে তার কারণ উল্লেখ করা হবে। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। সেটিতে আরও নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

এই আবেদন মাঠ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক পর্যন্ত চলে যাবে। একেক ধাপে কর্মকর্তারা তাদের সুপারিশ বা মন্তব্য জানাবেন। কেউ বদলি হতে না পারলে তার কারণ জানিয়ে দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমে জানা গেছে।

...

দূর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন সিঙ্গেল মিমি!

টলিউড সুন্দরী মিমি চক্রবর্তী। ২০১০ সাল থেকে শোবিজ দুনিয়ায় হাঁটছেন। মডেলিং দিয়ে যাত্রা শুরু। এখন থিতু হয়েছেন বড়পর্দায়। স্টার জলসার ‘গানের ওপারে’ সিরিয়ালে ‘পুপে’ চরিত্রে অভিনয় করে নজরে আসেন মিমি। তার আগে অভিনয় করেছেন আকাশ বাংলার ‘চ্যাম্পিয়ন’ সিরিয়ালে।

বড়পর্দায় মিমির অভিষেক ২০১২ সালে। অর্জুন চক্রবর্তীর বিপরীতে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেই ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন মিমি। তারপর রাজ চক্রবর্তীর ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে নিয়ে যান অন্য উচ্চতায়। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত অভিনয় করেছেন প্রায় ১৫টি সিনেমায়। স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ‘টেলিকন্যা’, ‘বিগ বাংলা রাইজিং স্টার’ সম্মাননা।

টলিপাড়ার ওপেন সিক্রেট, পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে গভীর প্রেম ছিল মিমির। পরে ভেঙে যায় সে সম্পর্ক। ২০১৮ সালের ৭ মার্চ রাজ বিয়ে করেন শুভশ্রীকে। রাজ-মিমির সম্পর্ক ছেদ হওয়ার পর থেকে এখনও সিঙ্গেল এ অভিনেত্রী। যদিও টলিপাড়ায় কিছুদিন আগে উঠেছিল তার নতুন প্রেমের গুঞ্জন। কিন্তু ধোপে টিকেনি।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির এ মেয়ে একা থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। আর একা থেকেই জীবনের দূর্দান্ত সময়টা কাটাচ্ছেন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেও বিষয়টি বুঝতে পারা যায়। মিমির বান্ধবী নুসরাতের বিয়ের পর শোনা গিয়েছিল- এবার বিয়ে করবেন মিমি। কিন্তু সে খবর উড়ে গেছে বাতাসে। কবে বিয়ে করবেন মিমি? ভারতীয় গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নে ওই সময় মুখে পুরোপুরি কুলুপ এটেঁছিলেন তিনি। মিমির ঘনিষ্ঠজনেরাও এ ব্যাপারে পরিষ্কার কিছুই বলছেন না।

অভিনেত্রী মিমি নেত্রী হওয়ার সুযোগ পান ২০১৯ সালের ভারতের লোকসভা নির্বাচনে। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকেট পেয়ে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে নির্বাচন করেন তিনি। বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য হয়ে যান মিমি। অভিনয়ের বাইরে এখন জনসেবা নিয়েই বেশি সময় কাটান তিনি।

নিউ নরমাল পরিস্থিতি মিমি অভিনয় করেছেন ‘এসওএস কলকাতা’ সিনেমায়। গত ২১ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছিল সিনেমাটি। এদিকে, মুক্তির অপেক্ষায় আছে মিমি-জিৎ জুটির নতুন সিনেমা ‘বাজি’। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সিনেমার ট্রেলার। ট্রেলারে মিমির চুম্বন ও অ্যাকশন দৃশ্য নজর কেড়েছে ভক্তদের। জিতের প্রযোজনা সংস্থা থেকে নির্মিত এ সিনেমাটি মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে শিগগিরই।

...

স্টার জলসা, স্টার প্লাস সহ বিভিন্ন ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ

স্টার জলসা, স্টার প্লাসসহ বিভিন্ন ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। চ্যানেলগুলো পরিবেশক জাদু ভিশনের সঙ্গে সমস্যা সমাধান না হওয়ায় বাংলাদেশে স্টার গ্রুপের ওই চ্যানেলগুলো বুধবার থেকে সম্প্রচার বন্ধ রেখেছে কেবল অপারেটররা।

কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম আনোয়ার পারভেজ সাংবাদিকদের বলেন, “পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে স্টার গ্রুপের (স্টার প্লাস, স্টার জলসা, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, স্টার গোল্ড ও লাইফ ওকে) সম্প্রচার বন্ধ রেখেছে কেবল অপারেটররা।”

তবে যেসব অপারেটর কোয়াবের সদস্য নয়, তারা সম্প্রচার চালু রেখেছে জানিয়ে আনোয়ার পারভেজ বলেন, “আমরা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছি, এর ফলে দেশের মোট ৭৫ শতাংশ দর্শক এবং ঢাকার প্রায় ৯০ শতাংশ দর্শক এসব চ্যানেল দেখতে পারছে না।”

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে স্টারগ্রুপের চ্যানেল বন্ধের হুমকি দিয়েছিল ক্যাবল অপারেটর্স অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। সে সময় জানানো হয়, সাতদিনের মধ্যে জাদু ভিশন লিমিটেড তাদের দাবি না মানলে স্টার গ্রুপের সাত টিভি চ্যানেল বর্জন করবে।

সে অনুযায়ী, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তারা চ্যানেলগুলোকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে কোয়াব। এতে কোয়াবের প্রেসিডেন্ট এসএম আনোয়ার পারভেজ বলেন, দেশজুড়ে ক্যাবল অপারেটরদের এসব চ্যানেল প্রদর্শন না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কোয়াব প্রেসিডেন্ট আরও জানান, কোয়াবের বিবৃতি দেয়ার পর ইতোমধ্যে অনেক ক্যাবল অপারেটর স্টার গ্রুপের চ্যানেলগুলো প্রদর্শন বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যরাও বন্ধ করার প্রক্রিয়ায় আছেন।

২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে স্টার প্লাস, স্টার জলসা, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, লাইফ ওকে এবং স্টার গোল্ডের বাংলাদেশি পরিবেশক হিসেবে কাজ করছে জাদু ভিশন লিমিটেড।

কোয়াব নেতাদের অভিযোগ, জাদু ভিশন নানা অজুহাতে যখন-তখন বিদেশি চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। গ্রাহকদের জিম্মি করে ক্যাবল টিভি ব্যবসাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে জাদু ভিশন লিমিটেডকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে কোয়াব।

...

সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি বিরােধী অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে চট্টগ্রামের জনসাধারণ সর্বদা প্রস্তুত।

সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতির ঈর্ষণীয় সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উগ্র মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও ভালবাদী সন্ত্রাসী গােষ্ঠীর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ। এ উপলক্ষে ২৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় শ্রমিকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ চট্টগ্রাম মহানগরের আওতাধীন সকল থানা ও ওয়ার্ড কমিটির উদ্যোগে উগ্র মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গীবাদ বিরােধী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নােমান আল মাহমুদ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার যখন বিশে উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে, ঠিক সেসময় বিএনপি-জামায়াত শিবিরের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে জঙ্গী, মৌলবাদী ও অসাম্প্রদায়িকতা বিরােধী একটি চক্র সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের যড়ষন্ত্রে উঠে পড়ে লেগেছে। সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি বিরােধী এই অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণ সর্বশক্তি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য মাে. ইছার সভাপতিত্বে ও যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুল মান্নান ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফারুক আহমেদ, দিদারুল আলম মাসুম, সিরাজুল ইসলাম, নাজমুল হক ডিউক, হাসান মুরাদ বিপুব, দিদারুল আলম, আনােয়ারুল ইসলাম বাপ্পী, জহির উদ্দিন বাবর, সুমন দেবনাথ, তারেক সর্দার, আবদুর রহিম, রেজাউল আলম রণি, মিরণ হােসেন মিরন প্রমূখ। সমাবেশ শেষে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল জেলা পরিষদ চত্বর থেকে লালদিঘী, আন্দরকিল্লা, চেরাগী পাহাড়  মােড় হয়ে ঢট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়। বিজ্ঞপ্তি

...

সাবেক ছাত্রনেতা লিমনের মুক্তির দাবিতে বাকলিয়া থানা ছাত্রলীগের মানববন্ধন।

২৪ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেল তিন ঘটিকায় বাকলিয়া থানার অন্তর্গত কালামিয়াবাজার মোড়ে (কে. বি. কনভেনশন হলের সামনে) উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের উপ-আইন সম্পাদক মুনীর চৌধুরী এর সভাপতিত্বে ও এন আই টি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ বিন জামাল ও বাকলিয়া থানা ছাত্রলীগ নেতা ছৈয়দ মোহাম্মদ সাদিক শাহরিয়ার ও সাইফুর রহমান আকাশ এর যৌথ সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধন পালিত হয়।

উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাকলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মোক্তার হোসেন লিটন, ১৯নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মাশরুর হোসাইন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ওসমান গণি, সদস্য ইফতেখার হোসাইন শায়ান; সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মোঃ বেলাল, কমার্স কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রবিউল আলম রবিন, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, পিসিআইইউ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অনিকমান বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক নিঝুম পারিয়াল রাজ; সদরঘাট থানা ছাত্রলীগ নেতা এবিএস বাবর ও নগর ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান আরমান।

বাকলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মোক্তার হোসেন লিটন বলেন, ‘যারা হাইব্রিড, তারা আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনা’র প্রকৃত কর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা ছদ্মবেশে আমাদের ভিতর ঢুকে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে। আমরা ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত আছি। আমরা সাইফুল আলম লিমনকে যে প্রহসনমূলক মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাই ও অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাই।’

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক মুনির চৌধুরী বলেন,‘ সাইফুল আলম লিমন কোন সন্ত্রাসী নন। তিনি চট্টগ্রামের অসংখ্য ছাত্রলীগ কর্মীর নেতা। চট্টগ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তার কর্মী রয়েছে। লিমন ভাই এর যোগ্যতার কাছে পরাজিত হওয়ার ভয়ে আজকে একদল লোক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমরা এই ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানাই এবং লিমন ভাই এর মুক্তির দাবি জানাই।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ‘সাইফুল আলম লিমন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা। তিনি জামাত বিএনপির আমলে দলের দুঃসময়ে রাজনীতি করেছেন। তিনি কোন সন্ত্রাসী নন।’ তার রাজনৈতিক যোগ্যতার কাছে পরাজিত হয়ে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করেন বক্তারা। তারা আরও বলেন লিমন যদি সন্ত্রাসী কিংবা কিশোরগ্যাং হতো তবে এতগুলো ইউনিটের ছাত্রনেতা, শ্রমিক নেতা ও যুবনেতা তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করতেন না।

এছাড়া উক্ত মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন  বাকলিয়া থানা ছাত্রলীগের সংগঠক তোফাজ্জল হোসেন রুকন, ছৈয়দ মোহাম্মদ সাদিক  শাহরিয়ার, তালুকদার আসিফ, তূর্যয় সাজ্জাদ, মোহাম্মদ সাকিব, বাকলিয়া থানা বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের সহ-সভাপতি রকিব হাসান। এবং বাকলিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সাইফ মোহাম্মদ আরমান, সহ-সভাপতি রিদুওয়ানুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম.এম মোহাইমিনুন, ছাত্র সংসদের ভিপি এস.এম ইনজামাম আকিব, জিএস আব্দুর রাজ্জাক শুভ, কলেজ ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক তানভীরুল হক ফাহিম, উপ-প্রচার সম্পাদক শাহাদাত হোসেন রাকিব; বাকলিয়া শহীদ এন.এম.জে কলেজ ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আরিফ, মোহাম্মদ ইউনুস, সাব্বির আলম সোহাগ, ভিকি দেব সানি।

উল্লেখ্য গত ৫ নভেম্বর দিবাগত রাতে সাইফুল আলম লিমন কে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরদিন ৬ নভেম্বর অস্ত্র আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয় সাইফুল আলম লিমন কে।

...

ঝাল খান, অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমান

সুস্থ থাকতে নিয়মিত ঝাল খাওয়ার পরামর্শ দিলেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা। 

সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রচুর পরিমাণে মশলাদার খাবার খাওয়ার ফলে এক চতুর্থাংশের মধ্যে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যায়। যারা নিয়মিত এ ধরনের খাবার খান তাদের কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (সিভিডি) বা ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যথাক্রমে ২৬ এবং ২৩ শতাংশ কম।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের হার্ট, ভাস্কুলার এবং থোরাসিক ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বো জু সম্প্রতি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) ভার্চুয়াল সভায় এ গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। বড় ধরনের এ গবেষণা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য ও ডায়েট রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের পুষ্টি বিভাগের প্রধান ডা. ভিক্টোরিয়া বলেন, রান্নায় ভেষজ এবং মশলাযুক্ত করাটা খাবারের স্বাদে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি পুষ্টির একটি দুর্দান্ত উপায় হয়ে ওঠে। রান্নায় কাঁচা মরিচ, শুকনা মরিচ, গোলমরিচ এবং লেবুর রস যুক্ত করাটা যেমন স্বাস্থ্যকর তেমনি এটি লবণের পরিমাণ কমাতেও সহায়তা করে।

...

হাত-পা অবশ হয় যেসব কারণে

প্রায়ই আমরা দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিমায় বসে থাকার কারণে আমাদের হাত পা ঠিক মতো কাজ করে না। আসুন জেনে নেই কেন এমনটা ঘটে।

কখনো কখনো দীর্ঘক্ষণ হাতের উপর ভর দিয়ে শুয়ে থাকলে বা পায়ের উপর পা তুলে রাখার ফলে অবশ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।

তবে এমনটা বার বার হতে থাকলে এবং শরীরের অন্যান্য অংশেও হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের কারণে এমনটা হতে পারে। এই সমস্যায় স্নায়ুতন্ত্রের মায়োলিন সিথ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

যে সব মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের অনেকের মধ্যেই পেরিফেরাল স্নায়ু রোগের প্রকোপ লক্ষ্য করা যায়। পেরিফেরাল স্নায়ুর সমস্যায় পায়ের পাতা ঘন ঘন অবশ হয়ে যেতে পারে। পরবর্তীকালে এই অবশ ভাব শরীরের উপরের অংশেও ছড়িয়ে পড়ে।

স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে হাত, পা ও শরীরের অন্যান্য অংশে তীব্র ব্যথা এবং জ্বালা হতে পারে। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউরালজিয়ার কারণে এমনটা হতে পারে। শরীরের যে কোনো অংশেই এই সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে কোনো সংক্রমণের কারণে বা বয়সের কারণে হতে পারে এই রোগ।

মস্তিষ্কে যদি রক্ত সরবরাহ পর্যাপ্ত না হয় সে ক্ষেত্রে স্ট্রোক হয়। বিশেষ করে রক্তনালী কোনো কারণে বাধাপ্রাপ্ত হলে এমন হয়। স্ট্রোকের প্রথম লক্ষণ হলো বাঁ হাত অবশ হয়ে যাওয়া যা ক্রমশ হাতের তালু পর্যন্ত ছড়িয়ে পরে।

সিস্টেমিক ডিজিজে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে, এর জন্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টিউমার বা স্নায়ুর নানা সমস্যা হতে পারে। প্রাথমিক ভাবে সিস্টেমিক ডিজিজে হাত, পা-সহ শরীরের একাধিক অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে।

...

পাবজি খেলা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

পাবজি! প্লেয়ার্স আননোন ব্যাটেল গ্রাউন্ড! বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইলন গেম। বর্তমানে উপমহাদেশে কয়েকগুণ বেড়েছে এই গেমের জনপ্রিয়তা। মোবাইল এবং কম্পিউটার দুটোতেই খেলা যায় এই গেম। তবে উপমহাদেশে পাবজির কম্পিউটার ভার্সনের থেকে মোবাইল ভার্সনটিই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 

মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা এবং হাতের নাগালের মধ্যে থাকা ইন্টারনেটের কারণেই এই গেমটির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। বর্তমানে এই গেমে অত্যধিক আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশু থেকে শুরু করে কিশোর এবং তরুণরাও।

অন্যান্য ব্যাটেল রয়্যাল গেমের মতোই পাবজিও অনেক বেশি হিংস্র গেম। এবং এর ভয়াবহতা এতই বেশি যে শিশু এবং কিশোরদের মধ্যে এক প্রকার ক্ষিপ্রতা সৃষ্টি করে এই গেম। অত্যধিক মাত্রায় হিংস্রতা থাকায় ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই গেমটি নিষিদ্ধ। অতিরিক্ত হিংস্রতা শিশু-কিশোরদের মধ্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এবং পরবর্তী জীবনে শিশুদের হিংস্র করে তুলতে পারে এই গেম।

এ ধরনের আসক্তি বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব গেমে আসক্তির কারণে কিশোররা পারিবারিক, সামাজিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। খেলার এক পর্যায়ে এসে তারা ভায়োলেন্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি এটি আলোচিত আরেক 'ব্লু হোয়েল' গেমের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

কেবল শারীরিক ক্ষতির কারণই নয় এই পাবজি গেমটি। সেই সাথে মানসিক রোগের কারণও হতে পারে এই গেমটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এক গবেষণার পর জানিয়েছে ভিডিও গেমে আসক্তি এক ধরণের মানসিক রোগ। ভিডিও গেমগুলো একজন খেলোয়াড়ের ডিপ্রেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শারীরিক মানসিক রোগের সাথে সাথে পাবজি গেমটি একজন শিশু কিংবা কিশোরের উপর সামাজিক মূল্যবোধের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গেমটি যেহেতু একটি জায়গাতেই আটকে থেকে খেলতে হয় সেহেতু এই গেম খেলা মানুষটি সামাজিকভাবে খুব বেশি সংযুক্ত থাকতে পারে না। আর এই কারণে সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সমাজের আচার ব্যবহার থেকেও ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে হয় সেই মানুষটিকে। সর্বোপরি একটা সময় একাকীত্ব বরণ করতে হয় তাদেরকে।

এই গেমটি অতিরিক্ত খেলার কারণে চোখের সমস্যাও হতে পারে। আর সেই সাথে দেখা দেয় ঘুমের ঘাটতিও। কম্পিউটার কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে বেশি সময় ধরে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ক্ষতি হতে পারে। আর চোখের সমস্যার সাথে সাথে ঘুমেরও ঘাটতিতে পড়ে এই গেম খেলা মানুষগুলি।

...

চলতি বছরে সর্বাধিক বিক্রিত ১০ স্মার্টফোন

সারাবিশ্বে চলমান করোনা মহামারির সময়ে ধ্বস নেমেছে বিভিন্ন খাতে। তবে এই মন্দার ভেতরেও অনেকগুলো স্মার্টফোনই বেশ ভালো পরিমাণে বিক্রি হয়েছে। চলতি বছরে সর্বোচ্চ বিক্রিত স্মার্টফোনগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে জরিপকারী প্রতিষ্ঠান অমিডিয়া। 

২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত করা এই জরিপে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত ১০টি স্মার্টফোনের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

অমিডিয়ার জরিপ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে অ্যাপলের আইফোন ১১। জুন মাস পর্যন্ত স্মার্টফোনটি বিক্রি হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ পিস।

জরিপ অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্সের গ্যালাক্সি এ১৫ মডেলের স্মার্টফোন। জুন মাস পর্যন্ত স্মার্টফোনটি বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ পিস।

বিক্রির তালিকায় তৃতীয় স্থান দখল করে রয়েছে শাওমির রেডমি নোট ৮। জুন মাস পর্যন্ত স্মার্টফোনটি বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ পিস।

বেশি বিক্রিত হওয়া তালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করে রয়েছে শাওমির আরেকটি স্মার্টফোন রেডমি নোট ৮ প্রো।

পঞ্চম স্থান দখল করে রয়েছে অ্যাপলের আরেকটি স্মার্টফোন আইফোন এসই। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত স্মার্টফোনটি বিক্রি হয়েছে ৮৭ লাখ পিস।

এদিকে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অ্যাপলের আইফোন ১০আর।

চতুর্থবারের মত আবারো সপ্তম বেশি বিক্রিত স্মার্টফোনের তালিকায় রয়েছে অ্যাপলের আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্স।

এদিকে অষ্টম নবম ও দশম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে শাওমির রেডমি ৮এ, শাওমির রেডমি ৮ এবং আইফোনের ১১ প্রো।

...

চান্দ মালিকঃ বাংলাদেশের এক দুর্ধর্ষ স্পাই

দিওয়ান চান্দ মালিক(ছদ্মনাম), এক দুঃসাহসী বাংলাদেশি স্পাই।
 

দিওয়ান চান্দ মালিক ১৯৯৯ সালে ছদ্ম পরিচয় ও ভূয়া কাগজপত্র ব্যাবহার করে ভারতীয় গুপ্তচর বিভাগ র' (রিসার্চ & অ্যানালাইসিস উইং)-এ যোগদান করেন।
বস্তুত তিনি ছিলেন বাংলাদেশী গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এন.এস.আই) এর  এর একজন এজেন্ট। তিনি এর আগে কয়েকবছর পশ্চিমবঙ্গে ছিলেন, লেখাপড়াও কমপ্লিট করেন কলকাতা থেকে।

দুঃসাহসী এই ডাবল এজেন্ট ২০০৫ সাল পর্যন্ত কলকাতায় র' এর এভিয়েশন রিসার্চ সেন্টারে একজন ক্লাস-১ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এভিয়েশন রিসার্চের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইন্টেল ছিলো তাঁর নখদর্পণে। র' এর কর্মকর্তারা কখনো ঘুনাক্ষরেও সন্দেহ করতে পারে নি তাকে।


আমরা জানি একজন ডাবল এজেন্ট যত চালাকই হোক না কেন, তার পরিচয় একসময় ফাঁস হয়েই যায়......আর তারা সেই ঝুঁকিটা মেনে নিয়েই এই পেশায় নামেন।

যাইহোক, আমাদের দেশি গুপ্তচরের কপাল খারাপ, তার পরিচয় এক্সপোজ করে দেয় তার ঝগড়াটে বউ। মহিলা ২০০৫ সালের শুরুর দিকে কোর্টে ডিভোর্সের আবেদন করে। সুচতুর মালিক সেই সময়ই অফিস থেকে ছুটি নিয়ে পালিয়ে যান। কোর্টে পর পর কয়েকটা ডেট মিস করার পর এপ্রিলে মিসেস মালিক রাগে দুঃখে পাগল হয়ে এভিয়েশন রিসার্চ সেন্টারে একটা চিঠি পাঠায়, যাতে লেখা ছিলো যে মালিক আসলে একজন বাংলাদেশী নাগরিক।

র' এর লোকেরা ব্যাপারটার গুরুত্ব বুঝতে দেরি করে নি, প্রায় সাথে সাথেই একটা "ম্যানহান্ট" অপারেশন লাঞ্চ করে ফেলে তারা। সমস্ত রেলওয়ে স্টেশন, এয়ারপোর্ট, বন্দরে তাঁর নামে "লুকআউট নোটিশ" জারি করা হয়।

এরপর আদালত তাকে অপরাধী ঘোষনা করলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দিওয়ান চান্দ মালিকের নামে "রেড কর্নার নোটিশ" (অনেকটা আন্তর্জাতিক অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট টাইপ) জারি করা হয়।

এরপর কয়েকবছর ধরে "ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো" আর র' যৌথভাবে মালিককে গ্রেফতার করার জন্যে সম্ভ্যব্য সবরকম চেষ্টাই করে। পরিচয় ফাঁসের কয়েকমাস পর চব্বিশ পরগনা জেলায় আইবির লোকজনের হাতে ধরা পড়তে পড়তে একেবারে শেষ মূহুর্তে পালিয়ে যান তিনি। তারপর থেকেই আর কখনোই কোন খোঁজখবর পাওয়া যায়নি এই স্পাইয়ের। র' ও আইবির নাকের ডগা দিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যান তিনি।

তো............ফ্রান্স, আমরা কি শিখলাম?? নেভার মেস উইথ ইয়োর ওয়াইফ।

স্পেশালি যদি আপনি দিওয়ান চান্দের মতো ডাবল এজেন্ট হন তাহলে আরো বেশি সাবধানে থাকবেন। দিওয়ানের বউ যদি তাঁর পরিচয় ফাঁস না করতো, তাহলে তিনি হয়তো এখনো সেখানে নির্বিবাদে তাঁর কাজ করতে পারতেন।

পর্যাপ্ত ট্রেনিং দিলে যোদ্ধা প্রায় সবাই ই হতে পারে, কিন্তু নিজের অস্তিত্ব কে বিসর্জন দিয়ে অন্য কোন দেশে গিয়ে প্রতি মূহুর্তে ধরা পড়ার ঝুকি নিয়ে ডাবল এজেন্ট সবাই হতে পারবেন না। একবার একটা গল্পে লিখেছিলাম, "দেশকে তো সবাই ভালোবাসতে পারে, অনেকেই নিজের প্রাণও দিতে পারে, কিন্তু দেশের জন্যে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস নিজের অস্তিত্বকে বিসর্জন দিতে হয় তাদেরকে। হ্যা, মানুষের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস তার প্রাণ নয়, অস্তিত্ব!
They are the warriors who never existed and never will be……" "

নাম না জানা এই অস্তিত্বহীন যোদ্ধার জন্য এবং সকল অস্তিত্বহীন যোদ্ধাদের জন্য রইলো শুভকামনা। 

...

আজকের ইফতার ও সেহেরির সময় সূচি

আজ ১৮ রমজান ১২ মে (মঙ্গলবার)। ঢাকায় আজ ইফতার শুরু ৬টা ৩৬ মিনিটে এবং সেহরির শেষ সময় ৩টা ৪৮ মিনিট।

দেশের কিছু জেলায় ঢাকার সময়ের সঙ্গে সেহরি এবং ইফতারের সময়ের মিল রয়েছে। তবে বেশিরভাগ জেলার সাথে ঢাকা জেলার ইফতার এবং সেহরির সময়ের কিছুটা পার্থক্য আছে। ঢাকার সময়ের সাথে কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে ঢাকার সময়ের সাথে কত মিনিট যোগ বা বিয়োগ করলে অন্য জেলার সেহরি ও ইফতারের সময় পাওয়া যাবে তা নিচের তালিকায় দেখুন-

ঢাকা বিভাগ

নরসিংদী (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: -১ মিনিট)
গাজীপুর (সেহরি: -১, ইফতার: ঢাকার সঙ্গে)
শরীয়তপুর (সেহরি: ২ মিনিট, ইফতার: -১ মিনিট)
নারায়ণগঞ্জ (সেহরি: ঢাকার সঙ্গে, ইফতার: -১ মিনিট)
টাঙ্গাইল (সেহরি: ঢাকার সঙ্গে, ইফতার: +২ মিনিট)
কিশোরগঞ্জ (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: -১ মিনিট)
মানিকগঞ্জ (সেহরি: +১ মিনিট, ইফতার: +২ মিনিট)
মুন্সিগঞ্জ (সেহরি: ঢাকার সঙ্গে, ইফতার: -১ মিনিট)
রাজবাড়ী (সেহরি: +৪ মিনিট, ইফতার: +৪ মিনিট)
মাদারীপুর (সেহরি: +২ মিনিট, ইফতার: ঢাকার সঙ্গে)
গোপালগঞ্জ (সেহরি: +৪ মিনিট, ইফতার: +১ মিনিট)
ফরিদপুর (সেহরি: ২ মিনিট, ইফতার: +২ মিনিট)

চট্টগ্রাম বিভাগ

কুমিল্লা (সেহরি: -৩ মিনিট, ইফতার: -৪ মিনিট)
ফেনী (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: -৫ মিনিট)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সেহরি: -৪ মিনিট, ইফতার: -৩ মিনিট)
রাঙ্গামাটি (সেহরি: -৪ মিনিট, ইফতার: -৯ মিনিট)
নোয়াখালী (সেহরি: -১ মিনিট, ইফতার: -৪ মিনিট)
চাঁদপুর (সেহরি: ঢাকার সঙ্গে, ইফতার: -২ মিনিট)
লক্ষ্মীপুর (সেহরি: -১ মিনিট, ইফতার: -৩ মিনিট)
চট্টগ্রাম (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: -৮ মিনিট)
কক্সবাজার (সেহরি: -১মিনিট, ইফতার: -১০ মিনিট)
খাগড়াছড়ি (সেহরি: -৫ মিনিট, ইফতার: -৮ মিনিট)
বান্দরবান (সেহরি: -৪ মিনিট, ইফতার: -১০ মিনিট)

রাজশাহী বিভাগ

সিরাজগঞ্জ (সেহরি: ১ মিনিট, ইফতার: +৪ মিনিট)
পাবনা (সেহরি: +৪ মিনিট, ইফতার: +৫ মিনিট)
বগুড়া (সেহরি: ১+ মিনিট, ইফতার: +৬ মিনিট)
রাজশাহী (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: +৮ মিনিট)
নাটোর (সেহরি: +৪ মিনিট, ইফতার: +৭ মিনিট)
জয়পুরহাট (সেহরি: ২+ মিনিট, ইফতার: +৮ মিনিট)
চাঁপাইনবাবগঞ্জ (সেহরি: +৬ মিনিট, ইফতার: +১০ মিনিট)
নওগাঁ (সেহরি: ৩+ মিনিট- ইফতার: +৮ মিনিট)

খুলনা বিভাগ

যশোর (সেহরি: +৬ মিনিট, ইফতার: +৪ মিনিট)
সাতক্ষীরা (সেহরি: +৮ মিনিট, ইফতার: +৪ মিনিট)
মেহেরপুর (সেহরি: +৭ মিনিট, ইফতার: +৭ মিনিট)
নড়াইল (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: +২ মিনিট)
চুয়াডাঙ্গা (সেহরি: +৬ মিনিট, ইফতার: +৬ মিনিট)
কুষ্টিয়া (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: +৫ মিনিট)
মাগুরা (সেহরি: , ইফতার: +৩ মিনিট)
খুলনা (সেহরি: +৬ মিনিট, ইফতার: +২ মিনিট)
বাগেরহাট (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: +১ মিনিট)
ঝিনাইদহ (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: +৫ মিনিট)

বরিশাল বিভাগ

ঝালকাঠি (সেহরি: ৩ মিনিট, ইফতার: -১ মিনিট)
পটুয়াখালী (সেহরি: +৪ মিনিট, ইফতার: -২ মিনিট)
পিরোজপুর (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: ঢাকার সঙ্গে)
বরিশাল (সেহরি: ২ মিনিট, ইফতার: -২ মিনিট)
ভোলা (সেহরি: ২ মিনিট, ইফতার: -৩ মিনিট)
বরগুনা (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: -২ মিনিট)

সিলেট বিভাগ

সিলেট (সেহরি: -৯ মিনিট, ইফতার: -৪ মিনিট)
মৌলভীবাজার (সেহরি: -৮ মিনিট, ইফতার: -৪ মিনিট)
হবিগঞ্জ (সেহরি: -৬ মিনিট, ইফতার: -৩ মিনিট)
সুনামগঞ্জ (সেহরি: -৭ মিনিট, ইফতার: -২ মিনিট)

রংপুর বিভাগ

পঞ্চগড় (সেহরি: +১ মিনিট,  ইফতার: +১১ মিনিট)
দিনাজপুর (সেহরি: +২ মিনিট, ইফতার: +১০ মিনিট)
লালমনিরহাট (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: )
নীলফামারী (সেহরি: +১ মিনিট, ইফতার: +১০ মিনিট)
গাইবান্ধা (সেহরি: -১ মিনিট, ইফতার: +৬ মিনিট)
ঠাকুরগাঁও (সেহরি: +২ মিনিট, ইফতার: +১১ মিনিট)
রংপুর (সেহরি: -১, ইফতার: +৮ মিনিট)
কুড়িগ্রাম (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: +৭ মিনিট)

ময়মনসিংহ বিভাগ

শেরপুর (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: +৩ মিনিট)
ময়মনসিংহ (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার+১ মিনিট)
জামালপুর (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: +৪ মিনিট)
নেত্রকোনা (সেহরি: -৫ মিনিট, ইফতার: ঢাকার সঙ্গে)

...

করোনায় দাম কমিয়ে অক্টোবরে আসছে আইফোন ১২

মার্কিন বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল ইনকরপোরেটেডের ‘আইফোন ১২’ চলতি বছরের অক্টোবরেই বাজারে আসছে। কোম্পানি কিছু না জানালেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ১২ অক্টোবর ফোনটির উন্মোচন হবে এবং ১৮ অক্টোবর তা ভোক্তাদের জন্য বাজারে ছাড়া হবে।

চলতি সপ্তাহেই বিষয়টি অফিশিয়ালি নিশ্চিত করবে অ্যাপল। তবে সেই ঘোষণার আগেই আলোচনার তুঙ্গে আইফোনের সর্বশেষ সংস্করণটি। ফোনটি কেমন হতে যাচ্ছে, কত দামে কেনা যাবে এসব নিয়ে আলোচনায় মেতেছে অ্যাপলপ্রেমীরা।

ভোক্তাদের আগ্রহকে বিবেচনায় এনে ‘আইফোন ১২ এর আগাম ধারণা দিয়েছে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস, প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জ।

অ্যাপলের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভার্জ জানিয়েছে, ‘আইফোন ১২’ একটি ফাইভজি প্রযুক্তির ফোন। এটির চারটি সংস্করণ বাজারে অবমুক্ত হবে। সংস্করণগুলো হলো- ‘আইফোন ১২’, ‘আইফোন ১২ ম্যাক্স’ ‘আইফোন ১২ প্রো’ ‘আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স’।

প্রতিটি সংস্করণের সাইজে ভিন্নতা থাকছে। আইফোন ১২ ফোনটি হবে ৫.৪ ইঞ্চি, আইফোন ১২ ম্যাক্স ৬.১ ইঞ্চি, আইফোন ১২ প্রো ৬.১ ইঞ্চি এবং আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স ফোনটি হবে ৬.৭ ইঞ্চি।

শুধু আকারেই ন,য় সংস্করণ অনুযায়ী এর ক্যামেরা ও ব্যাটারিতেও পার্থক্য থাকবে। এবার মূল প্রশ্নের দিকে আসা যাক। দাম কত?

ফোনের দামের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে করোনার কারণে দাম কিছুটা কমিয়ে ফোনটি বিক্রি করা হবে ৬৪৯ থেকে এক হাজার ৯৯ মার্কিন ডলারের মধ্যে। বাংলাদেশি টাকায় ৯৩ হাজার ৪১৫ টাকা।

...

গরমে ৩ রকমের গোসল, থাকুন সতেজ

প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। আর এ সময় আরামদায়ক একটা গোসল এনে দিতে পারে আপনাকে প্রশান্তি। আর গরমকালে উপযুক্ত তিনটি গোসল করতে পারেন, যা আপনাকে সারাদিন রাখবে সতেজ ও ঠান্ডা।

১. প্রচুর টাকা খরচ করে স্পা বাথ না নিয়ে ঘরে বসেই করে ফেলুন। একটু সময় ব্যয় করলে বাড়িতেই নিতে পারেন স্পা বাথ। গোসলের পানিতে মিশিয়ে নিন বাথিং সল্ট। তার মধ্যে কিছুটা পরিমাণ গোলাপ জল, পুদিনা পাতার রস ঢেলে দিন। গোসল শেষে পরিষ্কার পানি গায়ে ঢেলে নিন। গরমে সারাদিন সতেজ থাকতে এ গোসল দারুণ কার্যকর।

২. গরমরকালের গোসল মানে, অবশ্যই তার সঙ্গে যুক্ত হবে সুগন্ধি। গোসলের পর হালকা ঘ্রাণ যদি না ছড়ায়, সেই গোসলের মানেই হয় না। তাই এই গরমে অডিকোলন গোসল হোক একেবারে আবশ্যিক। বাজার চলতি অনেক অডিকোলন রয়েছে। গোসল করার পানি, তা মিশিয়ে নিলেই হলো। বাড়িতেও বানাতে পারেন অডিকোলন ৷ গোলাপ জলে কিছু পরিমাণ সাদা চন্দন বেঁটে নিন। বেঁটে নিতে পারেন কিছু পরিমাণ পুদিনা পাতাও। গোসলের পানিতে  মিশিয়ে, গোসল সেরে ফেলুন। সারাদিন থাকুন সতেজ।

৩. বাজার থেকে গোলাপ জলের বোতল কিনে এনে, রোজকার গোসলে মিশিয়ে নিতে পারেন ৷ কিংবা বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন গোলাপ জল। গোলাপের পাপড়ি ফুটিয়ে নিন। সেই পানি ঠান্ডা করে তার মধ্যে অল্প পরিমাণ মিশিয়ে ফেলুন গ্লিসারিন। গোসলের পানিতে মিশিয়ে নিন গোলাপ জল। সারাদিন সতেজ থাকতে এই গোসল দারুণ কাজ দেয়।

...

ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ-মিথুন মল্লিক।

ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। তবে এই বছরের ঈদ আমাদের জীবনে একটু ব্যতিক্রম। কোভিট-১৯ এ এই ক্রান্তিলগ্নে সারা বিশ্ববাসী এক ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছে। এই ক্রান্তিলগ্নে ঈদ নিয়ে এসেছে আনন্দের সময়।

যে সকল ভাই-বোনেরা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, আমি তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আর যারা অসুস্থ অবস্থায় আছেন তাদের রোগমুক্তির জন্য পরম করুনাময়ের নিকট প্রার্থনা করি।

সামাজিক দূরত্বের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মেলাবন্ধনে নিশ্চিত হোক আগামীর নিরাপত্তা ও করোনা মুক্ত নতুন সূর্যের প্রত্যাশা….
আবার আমাদের দেখা হবে একটি সুস্হ পৃথিবীতে।

​​​​ মিথুন মল্লিক, 
সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। 
সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ।

...

সবাই ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন-রবিউল ওহাব কমল

প্রতিবছর ঈদ আসে আমাদের জীবনে আনন্দ আর সীমাহীন প্রেম প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে।  তবে এবারে করোনা মহামারী এবং ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রকোপে চিত্রটা অবশ্যই অনেকটা আলাদা।
এই দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায়  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  জননেত্রী শেখহাসিনার নেতৃত্বে  সকল কালিমা আর কলুষতাকে ধুয়ে মুছে হিংসা বিদ্বেষ ভুলে পরস্পর প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হবো৷
সবাই ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন, সুস্থ থাকুন,  পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করুন। 
পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা রইল।

রবিউল ওহাব কোমল।
ছাত্রপ্রতিনিধি, 
সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ, চট্রগ্রাম।

...

পাবজি খেলা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

পাবজি! প্লেয়ার্স আননোন ব্যাটেল গ্রাউন্ড! বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইলন গেম। বর্তমানে উপমহাদেশে কয়েকগুণ বেড়েছে এই গেমের জনপ্রিয়তা। মোবাইল এবং কম্পিউটার দুটোতেই খেলা যায় এই গেম। তবে উপমহাদেশে পাবজির কম্পিউটার ভার্সনের থেকে মোবাইল ভার্সনটিই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 

মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা এবং হাতের নাগালের মধ্যে থাকা ইন্টারনেটের কারণেই এই গেমটির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। বর্তমানে এই গেমে অত্যধিক আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশু থেকে শুরু করে কিশোর এবং তরুণরাও।

অন্যান্য ব্যাটেল রয়্যাল গেমের মতোই পাবজিও অনেক বেশি হিংস্র গেম। এবং এর ভয়াবহতা এতই বেশি যে শিশু এবং কিশোরদের মধ্যে এক প্রকার ক্ষিপ্রতা সৃষ্টি করে এই গেম। অত্যধিক মাত্রায় হিংস্রতা থাকায় ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই গেমটি নিষিদ্ধ। অতিরিক্ত হিংস্রতা শিশু-কিশোরদের মধ্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এবং পরবর্তী জীবনে শিশুদের হিংস্র করে তুলতে পারে এই গেম।

এ ধরনের আসক্তি বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব গেমে আসক্তির কারণে কিশোররা পারিবারিক, সামাজিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। খেলার এক পর্যায়ে এসে তারা ভায়োলেন্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি এটি আলোচিত আরেক 'ব্লু হোয়েল' গেমের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

কেবল শারীরিক ক্ষতির কারণই নয় এই পাবজি গেমটি। সেই সাথে মানসিক রোগের কারণও হতে পারে এই গেমটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এক গবেষণার পর জানিয়েছে ভিডিও গেমে আসক্তি এক ধরণের মানসিক রোগ। ভিডিও গেমগুলো একজন খেলোয়াড়ের ডিপ্রেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শারীরিক মানসিক রোগের সাথে সাথে পাবজি গেমটি একজন শিশু কিংবা কিশোরের উপর সামাজিক মূল্যবোধের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গেমটি যেহেতু একটি জায়গাতেই আটকে থেকে খেলতে হয় সেহেতু এই গেম খেলা মানুষটি সামাজিকভাবে খুব বেশি সংযুক্ত থাকতে পারে না। আর এই কারণে সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সমাজের আচার ব্যবহার থেকেও ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে হয় সেই মানুষটিকে। সর্বোপরি একটা সময় একাকীত্ব বরণ করতে হয় তাদেরকে।

এই গেমটি অতিরিক্ত খেলার কারণে চোখের সমস্যাও হতে পারে। আর সেই সাথে দেখা দেয় ঘুমের ঘাটতিও। কম্পিউটার কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে বেশি সময় ধরে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ক্ষতি হতে পারে। আর চোখের সমস্যার সাথে সাথে ঘুমেরও ঘাটতিতে পড়ে এই গেম খেলা মানুষগুলি।


ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ-মিথুন মল্লিক।

ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। তবে এই বছরের ঈদ আমাদের জীবনে একটু ব্যতিক্রম। কোভিট-১৯ এ এই ক্রান্তিলগ্নে সারা বিশ্ববাসী এক ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছে। এই ক্রান্তিলগ্নে ঈদ নিয়ে এসেছে আনন্দের সময়।

যে সকল ভাই-বোনেরা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, আমি তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আর যারা অসুস্থ অবস্থায় আছেন তাদের রোগমুক্তির জন্য পরম করুনাময়ের নিকট প্রার্থনা করি।

সামাজিক দূরত্বের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মেলাবন্ধনে নিশ্চিত হোক আগামীর নিরাপত্তা ও করোনা মুক্ত নতুন সূর্যের প্রত্যাশা….
আবার আমাদের দেখা হবে একটি সুস্হ পৃথিবীতে।

​​​​ মিথুন মল্লিক, 
সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। 
সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ।

জাদুকরি পরিবর্তন ঘটে সকালে কুসুম গরম লেবু পানিতে

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কুসুম গরম পানির সঙ্গে যদি কয়েক ফোঁটা লেবু মিশিয়ে পান করা হয়, তবে এর অভাবনীয় উপকার কিছুদিনের মধ্যেই পাবেন। আসুন জেনে নেই সকালে লেবু পানি পানের উপকারিতা:- 

হজম শক্তি বাড়ায়
লেবু পানিতে যে এসিড রয়েছে তা খাবার হজম করতে সাহায্য করে। এতে আছে সাইট্রাস ফ্লাভোনইডস যা পাকস্থলীতে খাবারকে ভেঙে সহজেই হজম করে। বয়সের সাথে সাথে হজম ক্ষমতা কমে যায়। এছাড়াও পানির সাথে কয়েক টুকরা লেবু বা কুচি করা লেবুর ছোলা মিশিয়ে খেলেও আপনি পেকটিনের গুণ পাবেন। পেকটিন হলো এক ধরনের ফাইবার যা ছোলা থেকে পাওয়া যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, ফাইবার হজম শক্তি বাড়াতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাই লেবু পানি না খেলেও টুকরা লেবু পানিতে দিয়ে বা লেবুর ছোলা পানিতে দিয়ে খেলে উপকার পাবেন।

শরীর হাইড্রেট রাখবে
লেবুর গুণ আপনাকে সরাসরি হাইড্রেট রাখবে না। তবে লেবুর স্বাদ এ বিষয়ে পালন করবে এক অনন্য ভূমিকা। শরীরে পানির পারফেক্ট ব্যালেন্স বজায় রাখতে সারাদিনে আপনার প্রচুর পরিমাণ পানি পান করা দরকার। পানিতে কোনো স্বাদ নেই বলেই হয়তবা বারবার খাবার আগ্রহটা কাজ করে না। সেক্ষেত্রে লেবু পানি পানে স্বাদও পাবেন এবং হাইড্রেটও থাকবেন। যদিও প্রতিদিন আপনার শরীরে ৮ গ্লাস পানির চাহিদা থাকে, তবুও অনেক কিছুর ওপর ভিত্তি করেই এ চাহিদা কম বেশি হতে পারে। যেমন- আপনার ওজন, কাজের চাপ, চাহিদা এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে আপনার শরীরে ঠিক কতটুকু পরিমাণ পানি পরিমিত বলে গণ্য হবে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে
আপনি যদি ডায়েট করার চিন্তা-ভাবনা করতে থাকেন, তাহলে লেবু পানিকে আপনার সেরা বন্ধু হিসেবে বেছে নিতে হবে। লেবুতে আছে পলিফেনলস যা ক্ষুধা নিবারণে সাহায্য করে। এছাড়া খাওয়ার আগে পানি পান করলেও ক্ষুধা কিছুটা কম লাগে। সকালে উঠে যদি আপনার কমলার জুস পানের অভ্যাস থাকে, তাহলে অভ্যাসটি বদলে লেবু পানি পানের চেষ্টা করুন। কারণ কমলার জুসে ক্যালরি থাকে যাতে আপনার ওজন বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৮-১২ আউন্স নরমাল বা ঠান্ডা পানিতে পুরো একটি লেবুর রস মিশিয়ে নিন। তবে ওজন কমানোর জন্য ঠান্ডা লেবুর পানিই বেশি কার্যকরী।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
টক জাতীয় যেকোনো ফল, যেমন- লেবুতে আছে ভিটামিন সি যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও লেবুতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যার প্রভাবে শরীরে কোনো রোগ জীবাণু সহজে বাসা বাঁধতে পারে না। তাই যেকোনো ধরনের ইনফেকশন বা অসুস্থতা এড়াতে লেবুর কোনো বিকল্প নেই। আর লেবুর খোসায় আছে ক্যালসিয়াম, পেকটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ পদার্থ যা বিভিন্ন রোগের নিরাময়ে সাহায্য করে।

বয়স ধরে রাখে

এখানেও ভিটামিন সি! গবেষকদের মতে, ভিটামিন সি বলিরেখার সম্ভাবনা অনেকটা কমিয়ে আনে। ভিটামিন সি-তে আছে কোলাজেন যা ত্বকের সুরক্ষায় কাজ করে।

লিভারের কার্যক্রম সচল রাখে
লিভার আপনার শরীরে ফিল্টার হিসেবে কাজ করে। লেবুর সাইট্রাস ফ্লাভোনইডস‌ লিভার থেকে বর্জ্য ফেলে দিতে ও লিভারের ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। তাই লিভারকে সুস্থ রাখার জন্য লেবু পানি খুব উপকারী।

পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়ায়
সাধারণত পটাশিয়ামের কথা বললেই প্রথমে কলা এবং বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি ও ফলমূলের কথা মাথায় চলে আসে। কিন্তু লেবু থেকেও যথেষ্ট পরিমাণ পটাশিয়াম পাওয়া সম্ভব। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বাড়ায় ও হার্টবিট নিয়ন্ত্রণ করে। তাই আপনার শরীরে পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ হওয়া দরকার। যেহেতু লেবুতে পটাশিয়াম রয়েছে তাই দিনের শুরুতে লেবু পানি পান করে নিলে আপনার শরীরে পটাশিয়ামের চাহিদার কিছুটা পূরণ করতে পারবেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সমাধানেও দারুণ কাজ করে লেবু পানি। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে হালকা কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করে নিন। শুধু লেবুর রস গরম পানি দিয়ে পান করতে খারাপ লাগলে এর সাথে মিশিয়ে নিতে পারেন মধু ও সামান্য লবণ। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার এ ফর্মুলাটি অভাবনীয়ভাবে কাজ করে। তাই সকালে উঠে লেবু পানি গলাধঃকরণ করলে আপনার পেট পরিষ্কার হওয়ার ব্যাপারটা একেবারেই নিশ্চিত।

কিডনির পাথর প্রতিরোধ করে
কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যাটি এখন অহরহ দেখা যায়। অপারেশন করে, ওষুধ খেয়ে বা লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগটি নিরাময় করা যায়। কিন্তু এ রোগটিই যেন না হয় হয় তাই আগে থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা ভালো। ডিহাইড্রেশন বা পানির স্বল্পতার কারণে কিডনিতে পাথর জমে। তাই লেবু পানি পান করলে আপনার শরীরে পানির অভাব হবে না এবং কিডনিতে পাথর জমারও আশঙ্কা থাকবে না। এছাড়া লেবু কিডনি ও পাকস্থলীর পাথর গলাতেও সাহায্য করে।

ক্লান্তি দূর করে
গরমের দিনে আমাদের শরীর প্রচণ্ড ঘেমে যায়। ফলে শরীরে ব্লাড সুগার লেভেল কমে যায় এবং আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই। লেবু পানিতে চিনি মিশিয়ে পান করে নিলে ব্লাড সুগার লেভেল বেড়ে যায় এবং ক্লান্তিটা আর থাকে না!

ডায়াবেটিকদের জন্য উপকারী
লেবুতে যে ফাইবার আছে তা আপনার শরীর ভাঙতে পারে না বলেই ব্লাড সুগার লেভেলে এর জন্য কোনো প্রভাব পড়ে না। Joslin Diabetes Center-এর পরামর্শ অনুযায়ী দিনে ২০-৩৫ গ্রাম ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। মাঝারি আকারের একটি লেবুর রস থেকে ২.৪ গ্রাম ফাইবার পাওয়া যায় যা একজন ডায়াবেটিক রোগীর শরীরে ৭-১২% ফাইবারের চাহিদা পূরণ করে।

মুখের দুর্গন্ধ হতে দেয় না
লেবুতে যে সাইট্রাস আছে তা সহজেই মুখের ভেতর ব্যাকটেরিয়া হওয়ার আশঙ্কা রোধ করে। আর তাই মুখে দুর্গন্ধ হয় না। তবে লেবুর এসিড দাঁতে অতিরিক্ত পরিমাণ পড়লে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই মাঝে মাঝে স্ট্র দিয়ে লেবু পানি পান করতে পারেন।

বিপাকে সাহায্য করে
ঠান্ডা পানি বিপাকে তুলনামূলক বেশি উপকারী। আর লেবুর খোসা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে যা বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়ক। তাই ঠান্ডা লেবুর পানিতে কিছুটা লেবুর খোসা কুচি করে মিশিয়ে খেয়ে নিন।