সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
এইচএসসি’র ফলাফল প্রকাশে তৈরি হচ্ছে নীতিমালা

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ফলাফল তৈরিতে গ্রেড নির্ণয়ের একটি রূপরেখা রেখা চলতি মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে গ্রেড মূল্যায়ন টেকনিক্যাল কমিটি। এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে একটি নীতিমালা তৈরি করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও গ্রেড মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মো. জিয়াউল হক এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, জেএসসি বা জেডিসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। আগের দুই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে গ্রেড পয়েন্ট নির্ধারণ করা হবে।

অধ্যাপক মো. জিয়াউল হক বলেন, অটোপাসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের গ্রেড নির্ণয় করতে আট সদস্যের একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা চারটি সভা করে একাধিক প্রস্তাব তৈরি করেছি। সেখান থেকে চূড়ান্ত একটি প্রস্তাব নির্বাচন করে নভেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এর ভিত্তিতে নীতিমালা তৈরি করে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফল তৈরি করা হবে। আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আট সদস্যের এ কমিটি গঠিত হয়েছে। যেখানে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের প্রতিনিধি এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। করোনা কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে।

প্রাথমিকে শিক্ষক বদলিতে আসছে বড় পরিবর্তন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগে আসছে বড় পরিবর্তন। এবার শুরু হচ্ছে বদলির অনলাইন কার্যক্রম। একজন শিক্ষক একাধিক বিদ্যালয়ে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা অধিদফতর। ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে মার্চে এই কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা অধিদফতর। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করা হচ্ছে। এ নিয়োগ কার্যক্রমে নানা ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তার মধ্যে একজন শিক্ষক অনলাইনে পছন্দ নির্বাচন করে একাধিক বিদ্যালয়ে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন প্রথমে সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে যাবে। আবেদন করার পরবর্তী তিন দিন সেই মাঠকর্মকর্তা তাতে সুপারিশ বা মন্তব্য না লিখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ক্ষমতা ব্লক হয়ে উপরস্থ কর্মকর্তার কাছে চলে যাবে। এভাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক পর্যন্ত চলে যাবে। এতে করে শিক্ষকদের হয়রানি ও নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ হবে। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শিক্ষক বদলি করা হবে।

 আগামী ১ জানুয়ারি থেকে অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে। মার্চের মধ্যে বদলি কার্যক্রম শেষ করা হবে। শিক্ষকরা আবেদন করলে তার নামে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি হবে। তিনি নিজস্ব পাসওয়ার্ড দিয়ে তাতে প্রবেশ করতে পারবেন। আবেদন করে কেউ বদলি না হলে তার কারণ উল্লেখ করা হবে। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। সেটিতে আরও নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

এই আবেদন মাঠ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক পর্যন্ত চলে যাবে। একেক ধাপে কর্মকর্তারা তাদের সুপারিশ বা মন্তব্য জানাবেন। কেউ বদলি হতে না পারলে তার কারণ জানিয়ে দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমে জানা গেছে।

একাদশ শ্রেণীর ক্লাস শুরু

শুরু হয়েছে ২০২০-২১ শিক্ষা বর্ষের একাদশ শ্রেণির ক্লাস। রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে ক্লাস শুরু হয়। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে এবার ক্লাস হবে অনলাইনে।

রোববার সকাল ১০টায় ঢাকা কলেজে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল শ্রেণি কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

এদিকে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার জন্য রাজধানীর কিছু কলেজের সক্ষমতা থাকলেও নেই বেশিরভাগ কলেজের। একই পরিস্থিতি সারাদেশেই। শিক্ষা বোর্ডগুলো নির্দেশনা দিলেও গ্রাম ও মফস্বলের কলেজগুলোতে তেমন কোনো প্রস্তুতি নেই বলেই বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে এসব কলেজের পক্ষ থেকে স্বশরীরে ক্লাস নেয়ার আবদারও বোর্ডে জমা পড়েছে।

বেশ কয়েকটি কলেজ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইন্টারনেটের দাম, কম গতির ইন্টারনেট ও ডিভাইস স্বল্পতার কারণে ক্লাসে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া গ্রাম ও মফস্বলের বেশিরভাগ শিক্ষকরাই তথ্যপ্রযুক্তিতে খুব একটা দক্ষ নন।

এর আগে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রোববার থেকে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ক্লাস শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়।

এইচএসসি’র তারিখ ঘোষণা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ১৫ দিন পর এইচএসসি পরীক্ষা নিতে আমরা প্রস্তুত আছি। পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ডের সভায় উপস্থিত হয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানরা এমন সিদ্ধান্ত নেন বলে তিনি জানান। তবে, সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিষয়ে কোনো কথাই বলেননি তিনি।

জিয়াউল হক বলেন, মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মার্চ ১৫ পর্যন্ত ক্লাস, সংসদ টিভির ক্লাস ও অনলাইনের ক্লাসকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, স্কুল খোলার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হলে সামনাসামনি মূল্যায়নের মাধ্যমে অন্য ক্লাসে উত্তীর্ণ করা হবে। এক্ষেত্রে অটো প্রমোশন বলতে কিছু নেই। শিক্ষার্থীদের সব শিক্ষকই চেনেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মেধা মূল্যায়ন করেই অন্য ক্লাসে উত্তীর্ণ করবেন।

অষ্টম থেকে নবমে অটো প্রমোশন হবে না, যে কোনো পদ্ধতিতেই মূল্যায়ন হবে। এছাড়া পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণীর বিষয়ে মাউশি থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

ইলেভেন থেকে টুয়েলভ ক্লাসের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে তুলে দেবে।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধাপক মো. আব্দুল আলীম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কী কী পদ্ধতিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রশ্ন ও উত্তরপত্র প্রস্তুত রয়েছে। কবে পরীক্ষা নেওয়া হবে সরকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিলে আমরা পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে পারব।

তিনি আরো বলেন, এখন পাবলিক পরীক্ষা আগের মতো নেয়া সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক বেঞ্চে একজন বা দুজন করে পরীক্ষার্থী বসানো হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। সব শিক্ষা বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তা স্থগিত করা রয়েছে। তবে কওমি মাদরাসা খুলে দেয়া হলেও অন্যসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা আছে।

এইচএসসি পরীক্ষা না হলে রেজাল্ট হবে যেভাবে

এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে তিনটি প্রস্তাব তৈরি করার কথা শোনা যাচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর স্বল্প পরিসরে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যদি সেটাও সম্ভব না হয় তবে, শিক্ষার্থীর জেএসসি-এসএসসি এবং কলেজে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের মূল্যায়নের ওপর ফল (গ্রেড) ঘোষণা দেওয়া যেতে পারে। অথবা আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত এই পরীক্ষার জন্য অপেক্ষার প্রস্তাবও তৈরি করা হচ্ছে।

তবে, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অনলাইনে বৈঠকে বসবে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ড। সভায় উপস্থিত থাকবেন সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানরা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বোর্ড থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম আমিরুল ইসলাম জানান, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিলে পরীক্ষা শুরু করবো।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বৃহস্পতিবার সব শিক্ষাবোর্ডের সঙ্গে আলোচনার পর একটি প্রস্তাব তৈরি করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ, করোনা বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন টিভি চ্যানেল

মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। ইতোমধ্যে জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষা স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের জন্য 'শিক্ষা টিভি' চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে শ্রেণিপাঠ চালু রাখতে সংসদ টিভিতে সম্প্রচারের পর রেডিওতে সম্প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু এবার শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রচারের জন্য ‘শিক্ষা টিভি’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এরইমধ্যে, বিটিভির মহাপরিচালক এস এম হারুন-অর-রশিদকে শিক্ষা টিভির বিষয়ে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি), কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের ডিজিদের কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘শিক্ষা টিভি’ চালুর বিষয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবও উপস্থিত ছিলেন। উক্ত সভায় শিক্ষা টিভি চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে বিটিভির মহাপরিচালককে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদরাসা অধিদফতরের ডিজিদের কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার।’

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেডিও ও টেলিভিশনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালু থাকলেও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান থাকায় ও সব জায়গায় এই দুই গণমাধ্যম না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে এই কার্যক্রমের বাইরে থাকতে হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীকে। এ কারণে সরকার এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ভিত্তিতে চালু করতে যাচ্ছে ‘শিক্ষা টিভি’। এ টিভির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রচার করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রী বরাবর চিঠি চসিক প্রশাসকের

করোনা মহামারীর এই দুর্যোগের সময়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ মাসিক বেতন ও টিউশন ফি আদায় না করে শিক্ষক ও কর্মচারীগণের বেতন প্রদানের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় পরিমাণ টিউশন ফি নির্ধারণপূর্বক তা আদায়ে নির্দেশনা প্রদান করা সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ মাসিক বেতন ও টিউশন ফি আদায়ে চাপ প্রয়োগ বিষয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি বরাবরে প্রেরিত পৃথক পৃথক পত্রে চসিক প্রশাসক এসব কথা বলেন।

পত্রে তিনি লিখেছেন, নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণজনিত মহামারিতে বাংলাদেশসহ পুরো পৃথিবীই অনেকটা থমকে আছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক পেশাজীবী ও চাকরিজীবী। অনেক প্রবাসী চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরেছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবিকা নির্বাহ করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মানবিক বিবেচনায় সরকার বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন বিলে বিলম্ব ফি মওকুফ করেছে এবং বিভিন্ন সেক্টরে প্রণোদনা দিচ্ছে।

চসিক প্রশাসক লিখেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মহামারীর এই সময়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মাসিক বেতন ও টিউশন ফি আদায়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছে মর্মে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

খোরশেদ আলম সুজন লিখেছেন, এতদপ্রেক্ষিতে করোনা মহামারীর এই দুর্যোগের সময়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ মাসিক বেতন ও টিউশন ফি আদায় না করে শিক্ষক ও কর্মচারীগণের বেতন প্রদানের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় পরিমাণ টিউশন ফি নির্ধারণপূর্বক তা আদায়ে নির্দেশনা প্রদান করা সময়ের দাবি।

‘বর্ণিত প্রেক্ষাপটে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠনের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ মাসিক বেতন ও টিউশন ফি আদায় সংক্রান্ত বিষয়ে বাস্তবতার নিরিখে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে সুচিন্তিত নির্দেশনা প্রদানের জন্য আপনার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ একান্তভাবে কামনা করছি।’- লিখেন সুজন।

দেশে দেশে সরব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

করোনা মহামারির মধ্যেই স্কুল খুলে দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, রাশিয়াসহ বিশ্বের অসংখ্য দেশ। দীর্ঘদিন পর স্কুলে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। ফেস মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধির ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে করোনা নিয়ন্ত্রণ না করে স্কুল খুলে দিলে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় পর খুলেছে স্কুল। একে তো লকডাউনের বন্দি জীবন থেকে মুক্তি অন্যদিকে সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেখা। তাই শিশুদের আনন্দটা যেন একটু বেশিই। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে স্কুল খোলার পর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের স্কুলের শিক্ষার্থীরা এভাবেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।

একজন বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়ে ভীষণ ভালো লাগছে। আর স্কুলে যেভাবে আমরা সবকিছু বুঝতে পারি, বাসা থেকে আসলে সেভাবে অনেক কিছুই বুঝিনা। স্কুলে ফিরতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। বন্ধুদের দেখতে পারছি, তাদের সঙ্গে খেলতে পারছি।

স্কুলে ফিরেছে ফ্রান্স, রাশিয়া, স্পেনসহ ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের শিক্ষার্থীরাও। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ফেস মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার শিক্ষার্থীদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। সবার করোনা নেগেটিভ নিশ্চিত করার পরই কেবল স্কুল খোলার নির্দেশনা দিয়েছে রাশিয়ার মহামারি প্রতিরোধ দফতর। প্রথম দু'সপ্তাহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাকর্মীরা।

স্কুলগুলোকে জীবাণুমুক্ত রাখার পাশাপাশি ১১ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়ার শর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে ফ্রান্স। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বলকান রাষ্ট্রগুলোতে কর্মক্ষেত্র খুলে দেয়ায় ৯৫ শতাংশ অভিভাবকই স্কুল খোলার পক্ষে মত দিয়েছেন। সে অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে সার্বিয়ায় গ্রেড ওয়ান থেকে গ্রেড ফোরের শিক্ষার্থীরা সকালে এবং গ্রেড ফাইভ থেকে গ্রেড এইটের শিক্ষার্থীরা বিকেলের ক্লাসে অংশ নেবে। একইসঙ্গে শিক্ষকদের ফেস মাস্ক পরার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

তবে স্কুল খোলার আগে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই কেবল স্কুল খোলা উচিত, তার আগে নয়। নিয়ন্ত্রণের আগেই স্কুল খুলে দিলে তা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।

করোনার উৎপত্তিস্থল চীনের উহানেও ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে এনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসে ধারাবাহিকভাবে উহানের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো খুলে দেয়া হবে। উহান ছাড়াও চীনের বিভিন্ন শহরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে।

বদলে যাচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা

করোনা পরবর্তী শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, করোনাকালীন ও করোনা পরবর্তী সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার কী ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে তা নিয়ে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক সভায় করোনা পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক না হয় তাহলে এইচএসসি পরীক্ষা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ওপরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণের জন্য বিকল্প পদ্ধতি কী হতে পারে সে বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করতে ঢাকা বোর্ড, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে নির্দেশ দেন তিনি।
করোনার কারণে এ দিন চলতি বছরের অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এর আগে, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করা হয়। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষাও বাতিল হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে, করোনার পরিস্থিতির কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্লাস শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তায় বাড়িতে বসেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন। এসময় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে পরের শ্রেণিতে অটো প্রমোশনের ইঙ্গিতও দেন সরকার প্রধান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতদিন পর্যন্ত স্কুল নাই, ক্লাস নাই। পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। আসলে এতে ক্ষতি হলেও তো কিছু করার নাই। কারণ করোনায় সারা দেশ ভুগছে। আমি শিক্ষার্থীদের বলবো, অন্তত বই তো সাথে আছে, একটু পড়াশোনা করুক।

তিনি আরো বলেন, এরপর আমরা দেখি কি করা যায়। কারণ সামনেই তো ফাইনাল পরীক্ষা। পরীক্ষা তো হচ্ছে না, তাই আরো কি করা যেতে পারে বা প্রমোশনটা দিয়ে বরাবরের মতো যেন চলতে থাকে, সেটার চেষ্টাই করছি।

প্রসঙ্গত, করোনার সংক্রমণের কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল গত এপ্রিলের শুরুতে।
পিজেএন/ আর ডি