সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
করোনায় দাম কমিয়ে অক্টোবরে আসছে আইফোন ১২

মার্কিন বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল ইনকরপোরেটেডের ‘আইফোন ১২’ চলতি বছরের অক্টোবরেই বাজারে আসছে। কোম্পানি কিছু না জানালেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ১২ অক্টোবর ফোনটির উন্মোচন হবে এবং ১৮ অক্টোবর তা ভোক্তাদের জন্য বাজারে ছাড়া হবে।

চলতি সপ্তাহেই বিষয়টি অফিশিয়ালি নিশ্চিত করবে অ্যাপল। তবে সেই ঘোষণার আগেই আলোচনার তুঙ্গে আইফোনের সর্বশেষ সংস্করণটি। ফোনটি কেমন হতে যাচ্ছে, কত দামে কেনা যাবে এসব নিয়ে আলোচনায় মেতেছে অ্যাপলপ্রেমীরা।

ভোক্তাদের আগ্রহকে বিবেচনায় এনে ‘আইফোন ১২ এর আগাম ধারণা দিয়েছে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস, প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জ।

অ্যাপলের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভার্জ জানিয়েছে, ‘আইফোন ১২’ একটি ফাইভজি প্রযুক্তির ফোন। এটির চারটি সংস্করণ বাজারে অবমুক্ত হবে। সংস্করণগুলো হলো- ‘আইফোন ১২’, ‘আইফোন ১২ ম্যাক্স’ ‘আইফোন ১২ প্রো’ ‘আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স’।

প্রতিটি সংস্করণের সাইজে ভিন্নতা থাকছে। আইফোন ১২ ফোনটি হবে ৫.৪ ইঞ্চি, আইফোন ১২ ম্যাক্স ৬.১ ইঞ্চি, আইফোন ১২ প্রো ৬.১ ইঞ্চি এবং আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স ফোনটি হবে ৬.৭ ইঞ্চি।

শুধু আকারেই ন,য় সংস্করণ অনুযায়ী এর ক্যামেরা ও ব্যাটারিতেও পার্থক্য থাকবে। এবার মূল প্রশ্নের দিকে আসা যাক। দাম কত?

ফোনের দামের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে করোনার কারণে দাম কিছুটা কমিয়ে ফোনটি বিক্রি করা হবে ৬৪৯ থেকে এক হাজার ৯৯ মার্কিন ডলারের মধ্যে। বাংলাদেশি টাকায় ৯৩ হাজার ৪১৫ টাকা।

গরমে ৩ রকমের গোসল, থাকুন সতেজ

প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। আর এ সময় আরামদায়ক একটা গোসল এনে দিতে পারে আপনাকে প্রশান্তি। আর গরমকালে উপযুক্ত তিনটি গোসল করতে পারেন, যা আপনাকে সারাদিন রাখবে সতেজ ও ঠান্ডা।

১. প্রচুর টাকা খরচ করে স্পা বাথ না নিয়ে ঘরে বসেই করে ফেলুন। একটু সময় ব্যয় করলে বাড়িতেই নিতে পারেন স্পা বাথ। গোসলের পানিতে মিশিয়ে নিন বাথিং সল্ট। তার মধ্যে কিছুটা পরিমাণ গোলাপ জল, পুদিনা পাতার রস ঢেলে দিন। গোসল শেষে পরিষ্কার পানি গায়ে ঢেলে নিন। গরমে সারাদিন সতেজ থাকতে এ গোসল দারুণ কার্যকর।

২. গরমরকালের গোসল মানে, অবশ্যই তার সঙ্গে যুক্ত হবে সুগন্ধি। গোসলের পর হালকা ঘ্রাণ যদি না ছড়ায়, সেই গোসলের মানেই হয় না। তাই এই গরমে অডিকোলন গোসল হোক একেবারে আবশ্যিক। বাজার চলতি অনেক অডিকোলন রয়েছে। গোসল করার পানি, তা মিশিয়ে নিলেই হলো। বাড়িতেও বানাতে পারেন অডিকোলন ৷ গোলাপ জলে কিছু পরিমাণ সাদা চন্দন বেঁটে নিন। বেঁটে নিতে পারেন কিছু পরিমাণ পুদিনা পাতাও। গোসলের পানিতে  মিশিয়ে, গোসল সেরে ফেলুন। সারাদিন থাকুন সতেজ।

৩. বাজার থেকে গোলাপ জলের বোতল কিনে এনে, রোজকার গোসলে মিশিয়ে নিতে পারেন ৷ কিংবা বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন গোলাপ জল। গোলাপের পাপড়ি ফুটিয়ে নিন। সেই পানি ঠান্ডা করে তার মধ্যে অল্প পরিমাণ মিশিয়ে ফেলুন গ্লিসারিন। গোসলের পানিতে মিশিয়ে নিন গোলাপ জল। সারাদিন সতেজ থাকতে এই গোসল দারুণ কাজ দেয়।

আবারো ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ভারতের সিকিমে

আবারো ১ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে ভারতের সিকিম অঞ্চলে।   বরফে ঘেরা প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্যের লীলাভূমি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। 

ভারতের সকল রাজ্য যখন করোনায় জর্জরিত,  সে মুহুর্তে সিকিম এখনো নিরাপদে আর অক্টোবরে পূজা সে কথা বিবেচনা করেই নিরাপত্তা সর্বোচ্চ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী ১ বছর সকল ধরণের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা করতে যাচ্ছে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী। তিনি বলেন,  আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করে, ঘোষণা করবো।                   

২০১৯ সালে ভারতের  লাদাখ,  সিকিম,  অরুনাচল খুলে দেয়া হয়েছিলো পর্যটকদের জন্য।  শুধু মাত্র সিকিমেই ২০১৯ সালে বাংলাদেশী পর্যটক গিয়েছিলো ৭১ হাজারেরও বেশি।  

 

সুতরাং,  আপনারা যারা লকডাউন শেষে প্লেন করে রেখেছিলেন পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের  সিকিম রাজ্যে গিয়ে লকডাউন থেকে মুক্তির দিনগুলো উদযাপন করে আসবেন এই সংবাদ আপনাদের জন্য মন খারাপের নিশ্চিত।        

লকডাউনের দূষণহীন আকাশে অচেনা তারা

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই চলছে লকডাউন। কল-কারখানা বন্ধ। ফলে কমেছে বায়ু দূষণ। এমন দূষণহীন পৃথিবী থেকে এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে শুকতারাসহ (ভিনাস বা শুক্র গ্রহ) ঝাঁকে ঝাঁকে তারা।

শুকতারা ভোরবেলা সূর্য ওঠার আগে পূর্বাকাশে দেখা যায়। সময় ভেদে একই জিনিস সন্ধ্যাতারা রূপে পশ্চিম আকাশে সূর্য ডোবার পর দেখা যায়। মূলত শুক্র গ্রহের আবর্তনের ফলে এটি এক পাশে আবার সূর্যের আরেক পাশে চলে যায় (উপর-নিচে)। ফলে একে কখনো শুকতারা বা কখন সন্ধ্যাতারা রূপে দেখা যায়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে থমকে যাওয়া বৈশ্বিক পরিবেশে টেলিস্কোপে চোখ রেখে অবাক হলেন কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্সের (আইসিএসপি)’ বাঙালি গবেষকরা। তারা ঝাঁকে ঝাঁকে তারার খোঁজ পেলেন। একে বহু দূরে সেই তারাদের বাস, তার ওপর মাত্রাতিরিক্ত দূষণের বেড়াজাল, ফলে কখনওই তারাগুলোর খোঁজ জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

করোনার আবহ পৃথিবীর দূষণের চাদর অনেকাংশে সরিয়ে দিয়েছে বলে জানাচ্ছেন পরিবেশবিদরা। ফলে মাত্র ২৪ ইঞ্চি লেন্সের টেলিস্কোপেই ধরা দিয়েছে সেই তারাদের দল।

আইসিএসপির কর্মকর্তা, জ্যোতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, কলকারখানা ও যানবাহন থেকে ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণা যে শুধু মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসে অসুবিধা ঘটায় এমনটা নয়, বায়ুমণ্ডলের ১২ কিলোমিটার জুড়ে বাতাসের সঙ্গে মিশে রাজত্ব করে তারা। আকাশ থেকে আগত ফোটন কণা বা আলোর কণা টেলিস্কোপ বা আপনার চোখ পর্যন্ত আসার আগেই ওই ধূলিকণাদের দেখতে পায় সে। সেই আলো ওই ধূলিকণায় লেগে ঠিকরে অন্যদিকে চলে যায়। আপনার কাছে আর পৌঁছতে পারে না। যার ফলে অনেক তারা দেখা যেত না। আবার বিচ্ছুরণের ফলে অনেক তারার উজ্জ্বলতা কম মনে হত। কাজেই এখন দূষণের মাত্রা কমে যাওয়ায় অনেক তারার খোঁজ পাওয়া গেছে।

after-lockdown-2

‘টেলিস্কোপেরও নিজস্ব একটা পরিমাপ থাকে। একটা নির্দিষ্ট মানের ফোটনকণা টেলিস্কোপে এসে পৌঁছলে সেই তারা দেখা যায়। কিন্তু তার চেয়ে কম হয়ে গেলে সেই তারার হদিশ পাওয়া যাবে না।’

এতদিন দূষণের কারণে তারার আলোককণা টেলিস্কোপে ধরা দিচ্ছিল না। ফলে, তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা ছিল না ওই বাঙালি গবেষকের। তিনি জানিয়েছেন, তার তিন ছাত্র, অসীম সরকার, শ্যাম সরকার ও পবিত্র শীল টেলিস্কোপে দেখেছেন, এতদিন যদি ১০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত কোনও তারার সন্ধান পাওয়া যেত, করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের আকাশে এখন ২০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে থাকা তারার খোঁজ মিলছে। অর্থাৎ দ্বিগুণ দূরের তারারাও এখন দৃশ্যমান।

আকাশ আগের চেয়ে দশ শতাংশ আরও বেশি অন্ধকার হয়েছে। একইসঙ্গে ৪০ শতাংশ উজ্জ্বল হয়েছে সব তারা। যার ফলে নতুন অতিথিদের কিছু ক্ষেত্রে খালি চোখেও দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইসিএসপির বাঙালি বিজ্ঞানীর দল।

উল্লেখ্য, তারা প্লাজমা দশাস্থিত অতি উজ্জ্বল এবং সুবৃহৎ গোলাকার বস্তুপিণ্ড। উচ্চ তাপে তারা নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রমাগত নিজের জ্বালানি উৎপন্ন করে। নিউক্লীয় সংযোজন থেকে উদ্ভূত তাপ ও চাপ মহাকর্ষীয় সঙ্কোচনকে ঠেকিয়ে রাখে। জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে একটি তারার মৃত্যু হয়ে শ্বেত বামন অথবা নিউট্রন তারা আবার কখনো কৃষ্ণ বিবরের সৃষ্টি হয়। পৃথিবী হতে সবচেয়ে কাছের তারা হচ্ছে সূর্য। তারা জ্বলজ্বল করার কারণ হচ্ছে, এর কেন্দ্রে নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে যে শক্তি উৎপন্ন হয় তা তারার পুরো অভ্যন্তরভাগ পার হয়ে বহিঃপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত হয়।

স্টার ক্লাস্টারগুলোকে (কখনও কখনও স্টার মেঘের মতো ভুল বলা হয়), মাঝে মাঝে কেবল সংক্ষেপে ‘ক্লাস্টার’ বলা হয়, যেগুলো তারার বড় দল। তারাগুচ্ছ দুই ধরনের বৈশিষ্ট যুক্ত হতে পারে : গ্লবুলার ক্লাস্টারগুলো শত শত বা হাজার হাজার বছরের পুরনো তারা এবং এই তারাগুলো মহাকর্ষীয়ভাবে আবদ্ধ, যখন মুক্ত তারা গুচ্ছগুলো বা তারাগুচ্ছের দলয়ে তারার সংখ্যা সাধারণত কয়েক শতের চেয়ে কম থাকে এবং প্রায়ই সবাই খুবই নবীন তারা। মহাকর্ষীয় মহাকর্ষের প্রভাব দ্বারা মুক্ত তারা গুচ্ছগুলো বিঘ্নিত হয় দৈত্য আণবিক মেঘয়ের জন্য এবং তারাগুলো ছায়াপথের দিকে ছুটে চলে। তবে তারাগুচ্ছের সদস্য তারাগুলো মহাশূন্যে একই দিকে তাদের সরণ অব্যাহত রাখবে। যদিও তারাগুলো মহাকর্ষীয়ভাবে আবদ্ধ নয়; তারপর তারা একটি নমনীয় অ্যাসোসিয়েশন হিসাবে পরিচিত হয়। খালি চোখে দৃশ্যমান স্টার ক্লাস্টারগুলো হলো প্লাইডেস (এম ৪৫), হাইডেস এবং বিইহিভ তারাগুচ্ছ (এম-৪৪)।

প্রতিদিন সকালে খান কাচাঁ ছোলা

কাঁচা ছোলার গুণ সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যপোযোগী ছোলায় আমিষ প্রায় ১৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট প্রায় ৬৫ গ্রাম, ফ্যাট মাত্র ৫ গ্রাম, ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ প্রায় ১৯২ মাইক্রোগ্রাম এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১ ও বি-২ আছে।

এছাড়াও ছোলায় বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক উপকার।

উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক যাবে।

আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ছোলার কিছু চমকপ্রদ গুণাগুণ হল-

 

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে : অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন যে খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমে যায়। ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায়, হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে : আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে, যে সকল অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান তাদের হাইপারটেনশন এর প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।

রক্ত চলাচল : অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ।

ক্যান্সার রোধে : কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে বেশি পরিমাণ ফলিক এসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজিদেরকে মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক এসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে এ্যজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়। আর তাই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্থ থাকুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে : ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে।

ডায়াবেটিসে উপকারী : ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া আছে ভিটামিন বি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। এর সবই শরীরের উপকারে আসে।

রক্তের চর্বি কমায় : ছোলার ফ্যাটের বেশিরভাগই পলি আনস্যাচুয়েটেড। এই ফ্যাট শরীরের জন্য মোটেই ক্ষতিকর নয়, বরং রক্তের চর্বি কমায়।

অস্থির ভাব দূর করে : ছোলায় শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকায় শরীরে প্রবেশ করার পর অস্থির ভাব দূর হয়।

রোগ প্রতিরোধ করে : কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা পূরণ হয়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায় এবং অ্যান্টিবায়োটিক যে কোনো অসুখের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

জ্বালাপোড়া দূর করে : সালফার নামক খাদ্য উপাদান থাকে এই ছোলাতে। সালফার মাথা গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমায়।

মেরুদণ্ডের ব্যথা দূর করে : এছাড়াও এতে ভিটামিন ‘বি’ও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিন ‘বি’ মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা কমায়। ছোলা অত্যন্ত পুষ্টিকর। এটি আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। এতে আমিষ মাংস বা মাছের পরিমাণের প্রায় সমান। তাই খাদ্যতালিকায় ছোলা থাকলে মাছ মাংসের প্রয়োজন পরে না। ত্বকে আনে মসৃণতা। কাঁচা ছোলা ভীষণ উপকারী। তবে ছোলার ডালের তৈরি ভাজা-পোড়া খাবার যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। তাই হজমশক্তি বুঝে ছোলা হোক পরিবারের শক্তি।

টুথপেষ্টের নানা ব্যবহার

টুথপেস্ট প্রতিদিন ব্যবহারের এমন এক জিনিস যা আপনার আরও নানা কাজে আসবে। দাঁতের যত্ন ছাড়াও ভিন্ন আরও কিছু কাজ করা যায় এটি দিয়ে।

চলুন জেনে নিই টুথপেস্টের এমনই কিছু ব্যবহার সম্পর্কে:

১। পুরনো স্নিকার্স বা চামড়ার জুতোয় একটু টুথপেস্ট লাগিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে ভালোভাবে ঘষে মুছে নিন।

ময়লা দূর হয়ে নতুনত্ব ফিরে আসবে জুতোয়।

২। ফিডারে দুধের গন্ধ দূর করতে পরিষ্কার করার ব্রাশে অল্প টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন। পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে ফিডার ধুয়ে নিন। দুধের গন্ধ দূর হয়ে যাবে সহজেই।

৩। মুখে ব্রণ থাকলে রাতে ঘুমানোর আগে ব্রণের ওপর রঙিন টুথপেস্ট (জেল বেসড নয়) লাগিয়ে নিন অল্প পরিমাণ। সকালে ঘুম ভাঙলে দেখবেন ব্রণের লালচে ভাব কমে গেছে। যদি ত্বক খুব বেশি স্পর্শকাতর হয় তবে এই নিয়ম না মানলেই ভালো।

 

৪। কাপ থেকে কফির দাগ উঠিয়ে নিতে দাগের জায়গায় টুথপেস্ট লাগিয়ে কিছু সময় পর ধুয়ে নিন। একদম চকচকে হয়ে উঠবে কাপ।

৫। রুপার গহনা পরিষ্কার করতে পারেন টুথপেস্ট দিয়ে। পুরনো নরম ব্রাশে সামান্য টুথপেস্ট লাগিয়ে গহনাটি ধীরে ধীরে ঘষে পাতলা কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে পরিষ্কার করে নিন।

৬। টেবিলে পানি পড়ে তৈরি হওয়া দাগ দূর করতে নরম কাপড়ে টুথপেস্ট নিয়ে দাগের ওপর বৃত্তাকারে লাগিয়ে নিন। কিছু সময় পর ভেজা কাপড় দিয়ে জায়গাটি ভালোভাবে মুছে নিন। আরও ভালো ফল পেতে জায়গাটি শুকিয়ে যাওয়ার পর ফার্নিচার পলিশ দিয়ে টাচ আপ করে নিতে পারেন।

৭। বেসিন বা রান্নাঘরে সিঙ্ক পরিষ্কার করতে স্পঞ্জে টুথপেস্ট লাগিয়ে নিয়ে ভালোভাবে ঘষে নিন। পরে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন ময়লা দাগ উঠে গিয়ে চকচকে ভাব ফিরিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গন্ধও দূর হবে।

৮। আয়নায় পানি পড়ে দাগ হয়ে গেলে টুথপেস্ট লাগিয়ে ঘষে নিন। পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ঘরে বসেই হোয়াইটেনিং ফেসিয়াল!

বাইরে বেশি থাকার ফলে সবারই ত্বক মলিন হয়ে যায়। এছাড়া রোদে পোড়া দাগ তো রয়েছেই। যা দূর করতে প্রয়োজন বাড়তি যত্নের, তা না হলে পরে এই সমস্যা কমানো সম্ভব হয় না।

হোয়াইটেনিং ফেসিয়াল এমন একটি যত্ন যার মাধ্যমে ত্বকের এই ধনের সমস্যা দূর করা যায়। তবে এটি এখন বাসাতেই করতে পারবেন। জেনে নিন জাফরানের সাহায্যে হোয়াইটেনিং ফেসিয়াল করার পদ্ধতি।

ক্লিনজিং

শুরুতেই সমস্ত মুখ ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। আর বাইরের পণ্য ব্যবহার করতে না চাইলে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য শসা ও শুষ্ক ত্বক হলে কাঁচা দুধ দিয়ে করতে পারেন।

এক্সফোলিয়েশন

ছোট ছোট দানাযুক্ত ফেইস ওয়াশ বা স্ক্রাবার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন কিংবা প্রাকৃতিক উপাদান যেমন ১/২ কাপ আতপ চালের গুঁড়ো, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ টমেটোর রস ও কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল ভাল ভাবে মিশিয়ে মুখের ত্বকে হালকা হাতে স্ক্রাব করে নিন।

স্টিম

ফেসিয়ালের ক্ষেত্রে স্টিম বেশ জরুরি। এটি লোমকূপ খুলতে সাহায্য করে। প্রথমে খুব অল্প পরিমাণ বাদাম তেল সারা মুখে মালিশ করে নিন। তারপর গরম পানির পাত্রে পাতলা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে তার ভাপ নিতে পারেন।

ব্ল্যাকহেডস পরিষ্কার

একটা ব্ল্যাকহেডস পরিষ্কার করার যন্ত্রের সাহায্যে ব্ল্যাকহেডগুলো পরিষ্কার করে নিন। যেহেতু লোমকূপ খোলা আছে তাই হালকা চাপেই উঠে আসবে ব্ল্যাকহেড।

টোনিং

যেহেতু স্টিমের মাধ্যমে লোমের গোড়া খোলা হয়েছে টোনিং-এ তা বন্ধ করা জরুরি, নয়তো খোলা পোর দিয়ে ময়লা ঢুকে ব্রণ সৃষ্টি করতে পারে। প্রাকৃতিক উপাদান চাইলে গোলাপ জল লাগিয়ে নিন।

মাস্ক এবার হোয়াইটেনিং মাস্ক ব্যবহারের সময়।

উপকরণ

৫-৬ টা জাফরানের আঁশ, ১/২ কাপ টক দই/দুধ/দুধের সর, ২-৩ টা গোলাপের পাপড়ি, ১ টেবিল চামচ চন্দন/মুলতানি মাটি/নিমের গুঁড়ো, ২-৩ টা কাঠ বাদামের গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ গোলাপ জল।

তৈরি করবেন যেভাবে

জাফরানগুলো তরল দুধে ২-৩ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন যতক্ষণ না এর রঙ হলুদাভ হয়। এবার গোলাপের পাপড়িগুলোর পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার একে একে দুধ-জাফরান, গোলাপ পেস্ট, মুলতানি ও বাদামের গুঁড়ো গোলাপ জলে গুলিয়ে রাখুন। ত্বকে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানিতে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।

ময়েশ্চারাইজিং

সব শেষে ভাল একটি ময়েশ্চারাইজার দিয়ে দিন। ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক থাকবে।