সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
চান্দ মালিকঃ বাংলাদেশের এক দুর্ধর্ষ স্পাই

দিওয়ান চান্দ মালিক(ছদ্মনাম), এক দুঃসাহসী বাংলাদেশি স্পাই।
 

দিওয়ান চান্দ মালিক ১৯৯৯ সালে ছদ্ম পরিচয় ও ভূয়া কাগজপত্র ব্যাবহার করে ভারতীয় গুপ্তচর বিভাগ র' (রিসার্চ & অ্যানালাইসিস উইং)-এ যোগদান করেন।
বস্তুত তিনি ছিলেন বাংলাদেশী গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এন.এস.আই) এর  এর একজন এজেন্ট। তিনি এর আগে কয়েকবছর পশ্চিমবঙ্গে ছিলেন, লেখাপড়াও কমপ্লিট করেন কলকাতা থেকে।

দুঃসাহসী এই ডাবল এজেন্ট ২০০৫ সাল পর্যন্ত কলকাতায় র' এর এভিয়েশন রিসার্চ সেন্টারে একজন ক্লাস-১ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এভিয়েশন রিসার্চের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইন্টেল ছিলো তাঁর নখদর্পণে। র' এর কর্মকর্তারা কখনো ঘুনাক্ষরেও সন্দেহ করতে পারে নি তাকে।


আমরা জানি একজন ডাবল এজেন্ট যত চালাকই হোক না কেন, তার পরিচয় একসময় ফাঁস হয়েই যায়......আর তারা সেই ঝুঁকিটা মেনে নিয়েই এই পেশায় নামেন।

যাইহোক, আমাদের দেশি গুপ্তচরের কপাল খারাপ, তার পরিচয় এক্সপোজ করে দেয় তার ঝগড়াটে বউ। মহিলা ২০০৫ সালের শুরুর দিকে কোর্টে ডিভোর্সের আবেদন করে। সুচতুর মালিক সেই সময়ই অফিস থেকে ছুটি নিয়ে পালিয়ে যান। কোর্টে পর পর কয়েকটা ডেট মিস করার পর এপ্রিলে মিসেস মালিক রাগে দুঃখে পাগল হয়ে এভিয়েশন রিসার্চ সেন্টারে একটা চিঠি পাঠায়, যাতে লেখা ছিলো যে মালিক আসলে একজন বাংলাদেশী নাগরিক।

র' এর লোকেরা ব্যাপারটার গুরুত্ব বুঝতে দেরি করে নি, প্রায় সাথে সাথেই একটা "ম্যানহান্ট" অপারেশন লাঞ্চ করে ফেলে তারা। সমস্ত রেলওয়ে স্টেশন, এয়ারপোর্ট, বন্দরে তাঁর নামে "লুকআউট নোটিশ" জারি করা হয়।

এরপর আদালত তাকে অপরাধী ঘোষনা করলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দিওয়ান চান্দ মালিকের নামে "রেড কর্নার নোটিশ" (অনেকটা আন্তর্জাতিক অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট টাইপ) জারি করা হয়।

এরপর কয়েকবছর ধরে "ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো" আর র' যৌথভাবে মালিককে গ্রেফতার করার জন্যে সম্ভ্যব্য সবরকম চেষ্টাই করে। পরিচয় ফাঁসের কয়েকমাস পর চব্বিশ পরগনা জেলায় আইবির লোকজনের হাতে ধরা পড়তে পড়তে একেবারে শেষ মূহুর্তে পালিয়ে যান তিনি। তারপর থেকেই আর কখনোই কোন খোঁজখবর পাওয়া যায়নি এই স্পাইয়ের। র' ও আইবির নাকের ডগা দিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যান তিনি।

তো............ফ্রান্স, আমরা কি শিখলাম?? নেভার মেস উইথ ইয়োর ওয়াইফ।

স্পেশালি যদি আপনি দিওয়ান চান্দের মতো ডাবল এজেন্ট হন তাহলে আরো বেশি সাবধানে থাকবেন। দিওয়ানের বউ যদি তাঁর পরিচয় ফাঁস না করতো, তাহলে তিনি হয়তো এখনো সেখানে নির্বিবাদে তাঁর কাজ করতে পারতেন।

পর্যাপ্ত ট্রেনিং দিলে যোদ্ধা প্রায় সবাই ই হতে পারে, কিন্তু নিজের অস্তিত্ব কে বিসর্জন দিয়ে অন্য কোন দেশে গিয়ে প্রতি মূহুর্তে ধরা পড়ার ঝুকি নিয়ে ডাবল এজেন্ট সবাই হতে পারবেন না। একবার একটা গল্পে লিখেছিলাম, "দেশকে তো সবাই ভালোবাসতে পারে, অনেকেই নিজের প্রাণও দিতে পারে, কিন্তু দেশের জন্যে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস নিজের অস্তিত্বকে বিসর্জন দিতে হয় তাদেরকে। হ্যা, মানুষের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস তার প্রাণ নয়, অস্তিত্ব!
They are the warriors who never existed and never will be……" "

নাম না জানা এই অস্তিত্বহীন যোদ্ধার জন্য এবং সকল অস্তিত্বহীন যোদ্ধাদের জন্য রইলো শুভকামনা। 

আজকের ইফতার ও সেহেরির সময় সূচি

আজ ১৮ রমজান ১২ মে (মঙ্গলবার)। ঢাকায় আজ ইফতার শুরু ৬টা ৩৬ মিনিটে এবং সেহরির শেষ সময় ৩টা ৪৮ মিনিট।

দেশের কিছু জেলায় ঢাকার সময়ের সঙ্গে সেহরি এবং ইফতারের সময়ের মিল রয়েছে। তবে বেশিরভাগ জেলার সাথে ঢাকা জেলার ইফতার এবং সেহরির সময়ের কিছুটা পার্থক্য আছে। ঢাকার সময়ের সাথে কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে ঢাকার সময়ের সাথে কত মিনিট যোগ বা বিয়োগ করলে অন্য জেলার সেহরি ও ইফতারের সময় পাওয়া যাবে তা নিচের তালিকায় দেখুন-

ঢাকা বিভাগ

নরসিংদী (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: -১ মিনিট)
গাজীপুর (সেহরি: -১, ইফতার: ঢাকার সঙ্গে)
শরীয়তপুর (সেহরি: ২ মিনিট, ইফতার: -১ মিনিট)
নারায়ণগঞ্জ (সেহরি: ঢাকার সঙ্গে, ইফতার: -১ মিনিট)
টাঙ্গাইল (সেহরি: ঢাকার সঙ্গে, ইফতার: +২ মিনিট)
কিশোরগঞ্জ (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: -১ মিনিট)
মানিকগঞ্জ (সেহরি: +১ মিনিট, ইফতার: +২ মিনিট)
মুন্সিগঞ্জ (সেহরি: ঢাকার সঙ্গে, ইফতার: -১ মিনিট)
রাজবাড়ী (সেহরি: +৪ মিনিট, ইফতার: +৪ মিনিট)
মাদারীপুর (সেহরি: +২ মিনিট, ইফতার: ঢাকার সঙ্গে)
গোপালগঞ্জ (সেহরি: +৪ মিনিট, ইফতার: +১ মিনিট)
ফরিদপুর (সেহরি: ২ মিনিট, ইফতার: +২ মিনিট)

চট্টগ্রাম বিভাগ

কুমিল্লা (সেহরি: -৩ মিনিট, ইফতার: -৪ মিনিট)
ফেনী (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: -৫ মিনিট)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সেহরি: -৪ মিনিট, ইফতার: -৩ মিনিট)
রাঙ্গামাটি (সেহরি: -৪ মিনিট, ইফতার: -৯ মিনিট)
নোয়াখালী (সেহরি: -১ মিনিট, ইফতার: -৪ মিনিট)
চাঁদপুর (সেহরি: ঢাকার সঙ্গে, ইফতার: -২ মিনিট)
লক্ষ্মীপুর (সেহরি: -১ মিনিট, ইফতার: -৩ মিনিট)
চট্টগ্রাম (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: -৮ মিনিট)
কক্সবাজার (সেহরি: -১মিনিট, ইফতার: -১০ মিনিট)
খাগড়াছড়ি (সেহরি: -৫ মিনিট, ইফতার: -৮ মিনিট)
বান্দরবান (সেহরি: -৪ মিনিট, ইফতার: -১০ মিনিট)

রাজশাহী বিভাগ

সিরাজগঞ্জ (সেহরি: ১ মিনিট, ইফতার: +৪ মিনিট)
পাবনা (সেহরি: +৪ মিনিট, ইফতার: +৫ মিনিট)
বগুড়া (সেহরি: ১+ মিনিট, ইফতার: +৬ মিনিট)
রাজশাহী (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: +৮ মিনিট)
নাটোর (সেহরি: +৪ মিনিট, ইফতার: +৭ মিনিট)
জয়পুরহাট (সেহরি: ২+ মিনিট, ইফতার: +৮ মিনিট)
চাঁপাইনবাবগঞ্জ (সেহরি: +৬ মিনিট, ইফতার: +১০ মিনিট)
নওগাঁ (সেহরি: ৩+ মিনিট- ইফতার: +৮ মিনিট)

খুলনা বিভাগ

যশোর (সেহরি: +৬ মিনিট, ইফতার: +৪ মিনিট)
সাতক্ষীরা (সেহরি: +৮ মিনিট, ইফতার: +৪ মিনিট)
মেহেরপুর (সেহরি: +৭ মিনিট, ইফতার: +৭ মিনিট)
নড়াইল (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: +২ মিনিট)
চুয়াডাঙ্গা (সেহরি: +৬ মিনিট, ইফতার: +৬ মিনিট)
কুষ্টিয়া (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: +৫ মিনিট)
মাগুরা (সেহরি: , ইফতার: +৩ মিনিট)
খুলনা (সেহরি: +৬ মিনিট, ইফতার: +২ মিনিট)
বাগেরহাট (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: +১ মিনিট)
ঝিনাইদহ (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: +৫ মিনিট)

বরিশাল বিভাগ

ঝালকাঠি (সেহরি: ৩ মিনিট, ইফতার: -১ মিনিট)
পটুয়াখালী (সেহরি: +৪ মিনিট, ইফতার: -২ মিনিট)
পিরোজপুর (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: ঢাকার সঙ্গে)
বরিশাল (সেহরি: ২ মিনিট, ইফতার: -২ মিনিট)
ভোলা (সেহরি: ২ মিনিট, ইফতার: -৩ মিনিট)
বরগুনা (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: -২ মিনিট)

সিলেট বিভাগ

সিলেট (সেহরি: -৯ মিনিট, ইফতার: -৪ মিনিট)
মৌলভীবাজার (সেহরি: -৮ মিনিট, ইফতার: -৪ মিনিট)
হবিগঞ্জ (সেহরি: -৬ মিনিট, ইফতার: -৩ মিনিট)
সুনামগঞ্জ (সেহরি: -৭ মিনিট, ইফতার: -২ মিনিট)

রংপুর বিভাগ

পঞ্চগড় (সেহরি: +১ মিনিট,  ইফতার: +১১ মিনিট)
দিনাজপুর (সেহরি: +২ মিনিট, ইফতার: +১০ মিনিট)
লালমনিরহাট (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: )
নীলফামারী (সেহরি: +১ মিনিট, ইফতার: +১০ মিনিট)
গাইবান্ধা (সেহরি: -১ মিনিট, ইফতার: +৬ মিনিট)
ঠাকুরগাঁও (সেহরি: +২ মিনিট, ইফতার: +১১ মিনিট)
রংপুর (সেহরি: -১, ইফতার: +৮ মিনিট)
কুড়িগ্রাম (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: +৭ মিনিট)

ময়মনসিংহ বিভাগ

শেরপুর (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: +৩ মিনিট)
ময়মনসিংহ (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার+১ মিনিট)
জামালপুর (সেহরি: -২ মিনিট, ইফতার: +৪ মিনিট)
নেত্রকোনা (সেহরি: -৫ মিনিট, ইফতার: ঢাকার সঙ্গে)

শুদ্ধিতেও জামাতি ভূত : বিস্ময় ও নেপথ্য কথন

প্রধানমন্ত্রীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দেওয়া জামাত-শিবিরের ডোনার-ক্যাডার কথিত সাংবাদিক সাদাত উল্লাহ' কাছে ঘটনাটি অপমান-অমর্যাদার গ্লানি, নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা বিশ্বাসহীনতার লজ্জায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সর্বত্র দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন, সেখানে এমন ঘটনা বিশেষভাবে বিশ্লেষণের দাবিতো রাখেই।

প্রশ্ন উঠেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এমন জামাত-শিবিরের অনুপ্রবেশ ঘটল কিভাবে? এতে সাংবাদিকদেখোদ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই চেক গ্রহণের ঘটনা গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতৃত্ব সাংবাদিক- জনতার জাতীয় নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীল অন্যদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন কেউ কেউ

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি) ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নে আমার পূর্ববর্তী সহ-সভাপতি জাফর ওয়াজেদের সাথে তিনি সাফ জানালেন, উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে তিনি তদন্ত করবেন অবশ্য ট্রাস্ট এম ডি, কবি জাফর ওয়াজেদের কাছ থেকে জামায়াত ঘরানার লোকজন নিরাপদ দুরত্বেই থাকার কথা। কেননা, সাংবাদিকতার সুবর্ণকালে তিনি ছিলেন জামায়াত শিবিরের আতংক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম কলেজসহ চট্টগ্রামে শিবিরের রাজত্বের বিরুদ্ধে তাঁর সাহসী লেখনী চট্টগ্রামের পাঠককুলকে যেন এখনো পল্লবিত করে। এখন তাই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কল্যাণ ট্রাস্টের নিযুক্ত সাংবাদিক প্রতিনিধিরা কি করেছেন? তারা কি বিষয়টি দেখেননি? যাচাই করেননি?!

 খোদ প্রধানমন্ত্রীর উদার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ট্রাস্টের সুযোগ দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য অবারিত রাখা হয়। তবে এই সাদাত উল্লাহ’র ঘটনায় পেশাদার সংবাদকর্মী হিসেবে অনেকের আছে কিছু প্রশ্ন ।

সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়াসহ প্রায় চারদশক সাংবাদিকতা করেও গেলবারে স্বপন মহাজনের পরিবারের মিলেছে মাত্র ১লক্ষ টাকা। সাংবাদিক সহকর্মী গোলাম শরীফ টিটু সড়ক দুর্ঘটনায় গোটা পা'টা ভেঙে গেল, চারমাস ধরে শয্যাশায়ী। তার জুটেছে মাত্র ৫০হাজার চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে প্রগতিশীল কয়েকটি  সাংবাদিক ইউনিয়ন প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অনেক পেশাদার সাংবাদিক এখনো সদস্য পদ পাচ্ছেন না শুধুমাত্র দীর্ঘদিন ধরে জামাত-বিএনপি ঘরানার মদদপুষ্ট হয়ে নির্বাচিত নেতৃত্বের একটি সিন্ডিকেটের কারণে। সরকারে আওয়ামী লীগের দায়িত্বকালেও এই বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকের সদস্য পদ না পাওয়া এবং উল্টো জামাত-বিএনপির অনুসারী  সাংবাদিকরা শুধু সদস্যপদ নয়, খোদ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই কল্যাণ ট্রাস্টের এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ অসন্তোষ ছড়িয়ে আছে গণমাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রীর আন্তরিকতা সত্বেও দায়িত্বশীল অন্যদের 'শুভঙ্করের ফাঁকি ফাকির কারণে এভাবে গণমাধ্যমে অপ্রাপ্তি বঞ্চনার তালিকা বেশ দীর্ঘ।

যেখানে ঢাকার বাইরে অনেক দুস্থ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত, দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত সাংবাদিকও এখনো পর্যাপ্ত সহযোগিতা পান না, যেখানে অনেক সাংবাদিকের সহায়তার আবেদনপত্র কোনো কোনো নেতা ব্যক্তি আক্রোশ বা গ্রুপ রাজনীতির কারণে কল্যাণ ট্রাস্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে দেন না বা আটকে রাখেন, সেখানে এই জামাত-শিবিরের বিতর্কিত সাদাতের কেন ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলো? যেই ব্যক্তিটি  জামাতের ডাকা হরতাল সফল করতে সরকার বিরোধী স্ট্যাটাস দেয়, যে ব্যক্তি সরকারকে দেখিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়, সেই ব্যক্তি কিভাবেস্যুটেড-বুটেড’ হয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের লক্ষ টাকার সহায়তা চেক নিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রীর  হাত থেকে !? এর আগে খোদ প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরো লক্ষ টাকা সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা  কেন, কিভাবে, কারা করে দিলেন?

প্রশ্ন, সংশয় কিংবা শংকার মাঝে প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে আসে এই প্রক্রিয়ায় সাংবাদিক নেতৃত্বের দায়িত্ব -দায়বদ্ধতার বিষয়টি । একথা অনস্বীকার্য যে, ঢাকার একশ্রেণীর সাংবাদিক নেতা আছেন, যারা সহকর্মীদের অধিকার-মর্যাদা-নিরাপত্তার চেয়ে নিজেদের আত্মকেন্দ্রিকতা প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষায় মগ্ন ফেডারেশন ভুক্ত কোন কোন ইউনিয়নের ঢাকাস্থ নেতারা ঢাকার বাইরের নেতৃত্বকে আমলেই নিতে চান না। অথচ অনুসন্ধান করলে স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব অনেক বেশি শক্তিশালী কার্যকর ঢাকার সিংহভাগ নেতা আত্মগরিমা, আত্মপ্রচার প্রাপ্তির প্রতিযোগিতার দৌড়ে রয়েছেন।

কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ সহায়তা নিয়ে যে বিতর্ক তার দায় এড়াতে পারেন না কল্যাণ ট্রাস্টে নিযুক্ত সাংবাদিক প্রতিনিধিগণ কেউ' দায় এড়াতে পারবেন না দায়িত্বশীল অন্য কেউও

বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ জাতীয় সংগঠন বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হিসেবে আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর পূর্বের একটি ঘোষণা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির সূত্রপাত

প্রায় তিন বছর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে জাতীয় প্রেসক্লাবে ইফতার পরবর্তী ক্লোজডোর মিটিংয়ে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের তৎকালীন সভাপতি হিসেবে আমি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে ঢাকার বাইরের বিভাগীয় পর্যায়ের নির্বাচিত নেতাদের প্রতিনিধিত্ব দাবি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। তিনি (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) সেদিন ব্যাপারে  তাঁর বক্তব্যে ঘোষণাও দিয়েছিলেন। তাঁর সেই ঘোষণা অনুযায়ী যদি কল্যাণ ট্রাস্টের ঢাকার বাইরের অন্তত চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধিত্ব থাকতো বা বিভাগীয় পর্যায়ে থেকে নির্বাচিত নেতা হিসেবে এই ব্যাপারগুলোতে আমাদের মতামত গ্রহণ করলেও আজ এরকম বিতর্কের কোন সুযোগই তৈরি হতো না।

কল্যাণ ট্রাস্টে পাঁচজন সদস্য থাকলে পাঁচজনই ঢাকার। ঢাকার বাইরের কেউ নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অনুধাবন করেই ঢাকার বাইরে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমার দাবির ব্যাপারে সেদিন সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন কিন্তু ঢাকার নেতৃত্বের সিন্ডিকেট সেটি হতে দেয়নি।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ না মানায় এখন লাইনচ্যুত ট্রেনের দশা' যেন হয়েছে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের।

 সাংবাদিকদের কোন কোন নেতা ভোট নিয়ে আর সাধারণ সদস্যদের  পাশে নেই কোন কোন অঙ্গ ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের বিভক্তি কেন্দ্রীয় নেতাদের হার জিতে বিভক্তির দ্বৈরথ অনেক সাধারণ সদস্যের ভাগ্যে কুঠারাঘাত করেছে বিভক্তির কারণে কোন কোন অঙ্গ ইউনিয়নে সভাপতি সুপারিশ তালিকা দেন সাধারণ সম্পাদক জানেননা আবার সাধারণ সম্পাদক তালিকা দেন সভাপতিকে না জানিয়ে ! কোন কোন জেলায় প্রেসক্লাব সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্বের মধ্যকার স্নায়ুবিক বিরোধ পরিস্থিতি জটিল করছে।এসবের সুযোগ নিচ্ছেন কোন কোন জেলার প্রশাসক কিংবা তৃতীয় পক্ষ। এমনতর পরিবেশে বিতর্কিত সাদাত কোন পদটি অবলম্বন করলেন তাই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দাবী উচ্চারণের আগেই সাংবাদিকদের নিরবচ্ছিন্ন কল্যাণের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ট্রাস্টটি গঠন করেন। শুধু কল্যাণ ট্রাস্ট নয়, গণমাধ্যমকে অনেক কিছুই দিয়েছেন। কথায় কথায় সাংবাদিকদের গ্রেফতারের যে ধারা, সেটি তিনি তুলে দিয়েছিলেন তথ্য কমিশন , তথ্য অধিকার আইন দিয়েছেন।  ট্রাস্টের আওতায় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৪কোটি টাকা অর্থ সহযোগিতা দিয়েছেন।  সাংবাদিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে প্রায় ৩৫কোটি টাকা জমা হয়েছে ট্রাস্ট ফান্ডে । সর্বোচ্চসংখ্যক আবাসন নিশ্চিতের প্রচেষ্টাও করেন বঙ্গবন্ধু কন্যার সরকার। বিতর্ক উপেক্ষা না করেও স্বীকার করতেই হয়, দুটি ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণা করেছেন, যা কিনা কোন গণতান্ত্রিক সরকারের বেলায় অতীতে হয়নি।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবাদপত্রে কাজ করেছিলেন। লিখেছেন, পত্রিকা বিলিও করেছেন ।তাঁর  রাজনৈতিক সাফল্যে জড়িয়ে আছে সংবাদপত্রের বিশেষ অবদান। স্বাধীন বাংলাদেশ তিনি বঙ্গবন্ধু একটি বিশেষ পর্যায়ে এসে জাতীয় স্বার্থে সংবাদপত্র শিল্পে সংখ্যাগত সংকোচন আনলেও সব সাংবাদিকের চাকরির গ্যারান্টি দিয়েছিলেন।তাঁর কন্যার দায়িত্বকালীন সময়ে গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি বিকশিত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করে সাম্য ন্যায্যতা নিশ্চিত করতেই স্বাধীনতার সংগ্রাম এই দেশ রাষ্ট্রকে মুক্ত করেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের পাঁচ দশক পরে এসেও যদি বঙ্গবন্ধুর সেই আহ্বান কিংবা ডাক বা রাজধানী ঢাকার বাইরের কণ্ঠস্বর দায়িত্বশীলরা শুনতে না পারেন, তবে দায় থেকে কারোরই মুক্তি মিলবে না। আত্মগরিমা, প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ বিভক্তি বাদ দিয়ে নিজেদের নেতৃত্ব, সরকার দায়িত্বশীলদের মাঝে ঘাপটি মেরে থাকা বর্ণচোরাদের চিহ্নিত করে বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে  ভবিষ্যৎ আলোকিত করাই এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আমাদের অতীতের সব ব্যর্থতা মাড়িয়ে এই লক্ষ্যে নিঃসন্দেহে  নতুন তথ্যমন্ত্রী পাশেই থাকবেন- এই আশাটা আমরা করতেই পারি।

(লেখক: রিয়াজ হায়দার চৌধুরী,

পেশাজীবী, নাগরিক সংগঠক, সহসভাপতি, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন)

দিস ইজ ক্যাপ্টেন মনসুর, গর্জে উঠে ঘাতকের আগ্নেয়াস্ত্র

‘ওজু করে নেন মনসুর সাহেব…’

ভোর তখন প্রায় ৪টা। আঁধারে ঢাকা রাজধানী শহর। শীতের আগমনী ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। শেষরাতে ভালো ঠান্ডা পড়ে। অন্ধকারের বুক চিরে শহরে টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে ট্যাংক রেজিমেন্ট। এই গভীর রাতেই বঙ্গভবনের নিস্তব্ধতা চিরে বেজে উঠলো টেলিফোন। ফোনটা ধরলো বঙ্গবন্ধুর খুনি শাহরিয়ার রশিদ খান। রশিদের ভাষায়- টেলিফোনের অন্যপ্রান্ত থেকে এক ভারী কণ্ঠে বলে উঠলো- “আমি ডিআইজি প্রিজন কথা বলছি, মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমি আলাপ করতে চাই।”
রশিদ এক মূহুর্ত ভাবলো, তারপর খন্দকার মোশতাককে লাইন দিলো। মোশতাক টেলিফোন ধরে ওপাশের কথা শুনলো নীরবে। তারপর বারকতক হ্যাঁ, হ্যাঁ করতে থাকলো, সায় দিলো কোন এক অন্যায় আবদারে।
টেলিফোনে আলাপ যখন শেষ হলো তখন ঘৃণ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রিসালদার মুসলেহউদ্দিন তার দলবল নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশের অপেক্ষায়। কারাগারের প্রবেশ করা নিয়ে ডিআইজি প্রিজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শেষে রাষ্ট্রপতির বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে কারাগারের ভেতর তারা যখন প্রবেশ করে, সময় তখন ভোর চারটা থেকে সাড়ে চারটা।

নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর পাগলা ঘন্টি বেজে ওঠে, বাজতেই থাকে। বাতাসে এক অশুভ গন্ধ ভেসে আসে। ইতিহাসের কালো অধ্যায়ের পাতাগুলো খুলে যায়, নীরবে সাক্ষী হতে, কিছুক্ষণ পরের এক নগ্ন নিষ্ঠুর প্রহসনের।

কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশাপাশি দুইটা সেলে বন্দী আছেন তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। আওয়ামীলীগের চার কাণ্ডারী, স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন চার মহীরূহ।

রিসালদার মুসলেহউদ্দিন তার পেটোয়া বাহিনী নিয়ে এগিয়ে গেল এক নম্বর সেলের দিকে। চার নেতাকেই এখানে আনা হয়েছে ইতিমধ্যে। তাজউদ্দীন আহমদ বুঝতে পারেন, সময় সমাগত। আজ রাতেই ডাইরীর শেষ পাতা লেখা হয়ে যাবে। তিনি ওজু করে আসেন, কুরআন শরীফটা তাঁর পাশেই রাখা। সেটা খানিকটা উলটে দেখার সময়টা কি পাওয়া যাবে??

মনসুর আলী ঘটনা বুঝে উঠতে পারেন না, তিনি জিজ্ঞেস করেন, “কি ব্যাপার তাজউদ্দীন ভাই? এতো রাতে ঘন্টা বাজায় কেন? আর আমাদের এই সেলেই বা আনলো কিজন্যে?” তাজউদ্দীন কথা খুঁজে পান না, বলেন- “ওজু করে নেন মনসুর সাহেব।” ক্যাপ্টেন মনসুর আলী আরো বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।

হায়েনার দল এসে পড়ে সেলের সামনে। ডিআইজি প্রিজন সেলের তালা খুলে দেন। তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না এতো রাতে অস্ত্র হাতে এই সৈন্যদের আগমনের হেতু। কথাবার্তা বলবে ভেবে তালা খুলে তিনি পরিচয় করিয়ে দিতে যান, “দিস ইজ ক্যাপ্টেন মনসুর…”

তাঁর কথা মুখেই থেকে যায়, গর্জে ওঠে ঘাতকের আগ্নেয়াস্ত্র। সারি সারি বুলেট ছুটে যায়, আগুনের গোলা বিদ্ধ হয় এদেশের অগ্নিপুরুষদের শরীরে। লুটিয়ে পড়েন ওঁরা চারজন, চার সূর্যসন্তান। গোলাগুলির আওয়াজে কানে তালা লেগে যায় বাকী সব সেলের বন্দীদের। চাপ চাপ রক্ত, গুলিতে বিদ্ধ দেয়াল, ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া শরীর। পড়ে থাকে তাজউদ্দীনের গুলিবিদ্ধ কোরআন শরীফ।

কামরুজ্জামান আর সৈয়দ নজরুল চৌকিতে বসা অবস্থায় ছিলেন, তাঁরা সেখানেই ত্যাগ করেন শেষ নিঃশ্বাস। তাজউদ্দীন গুলির ধাক্কায় ছিটকে পড়েন মেঝেতে। গুলি লেগেছিলো তাঁর গোড়ালী, উরু আর পেটের ডানপাশে কিডনী বরাবর। তিনি মৃদুস্বরে আর্তনাদ করতে থাকেন “পানি! পানি!” বলে…
ঘাতকের দল ফিরে আসে আবার। বেয়নেট চার্জ করে তাজউদ্দীনের ক্ষতবিক্ষত শরীরের ওপর।

বঙ্গভবনে তখন ক্ষমতা নামক মাংসের টুকরো নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে সবাই। সেই অস্থিতিশীল মূহুর্তে রশীদ-ফারুক-ডালিম-মোশতাক গংদের ষড়যন্ত্রের শেষ কোপটা পড়লো জাতীর কান্ডারী এই চার নেতার ওপর। বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে দেয়ার পর ষড়যন্ত্রীদের মাথাব্যাথার কারণ ছিলেন এরাই। শেখ মুজিবের আদর্শটাকে মনে প্রানে ধারণ আর পালন করার মতো মানুষ যে এই চারজনই তখন বেঁচে ছিলেন।

আমরা ফিরে যাই একাত্তরে, থিয়েটার রোড, কলকাতায়। অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছে। তাজউদ্দীন প্রধানমন্ত্রী, সৈয়দ নজরুল অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামরুজ্জামান, অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন মনসুর আলী। দেশের ভেতর আর সীমান্তে শক্তিশালী পাকিস্তানী হায়েনাদের বিরুদ্ধে চলছে সমর যুদ্ধ, আর দেশের বাইরে, এই দূর পরবাসে চলছে কূটনীতির যুদ্ধ, বিশ্ব দরবারে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সংগ্রাম, একটি জাতি, একটি নতুন দেশের অভ্যুদ্বয়ের লড়াই। ঘরের শত্রু, বাইরের শত্রুর মোকাবেলা করে জয় ছিনিয়ে আনা। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী, নেতার অনুপস্থিতিতেই যুদ্ধ এগিয়ে নেয়া, অসম্ভব এই লড়াইটা তাজউদ্দীন জিতিয়ে এনেছিলেন, বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটার জন্মে ধাত্রী হয়ে ছিলেন এই চার নেতা।

মন খারাপের সকাল আসে ঢাকায়, সূর্য ওঠে না সেদিন, সেও জেনে গেছে এই বাংলাদেশে তাজউদ্দীন নেই, সৈয়দ নজরুল নেই, কামরুজ্জামান আর নেই, মনসুর আলী নেই, সবার মাথার উপর ছায়া হয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু তো আরও আগে থেকেই নেই। উড়ো খবর ভাসে শহরজুড়ে, জেলখানায় গোলাগুলি হয়েছে। তাজউদ্দীন আহমদের পরিবারের সদস্যরা এদিক সেদিক দৌড়ঝাঁপ করেন, কিন্ত কোন খবর বের করতে পারেন না। দুপুরের দিকে বুড়িগঙ্গার হাওয়ার সাথে বাতাসে ভেসে আসে চার নেতার মৃত্যুর খবর। বেগম জোহরা তাজউদ্দীনের শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে। মাত্র একদিন আগেই তিনি লোকটার সাথে দেখা করে এসেছেন, সেই মানুষটা আর নেই! বিকেলে খালেদ মোশাররফের মা আসেন সংবাদ নিয়ে, কাল রাতে জেলের ভেতর চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। খন্দকার মোশতাকের প্রত্যক্ষ আদেশ ছিলো এতে, আর আদেশটা এসেছিল আরো উপর থেকে, আইএসআই এর ঝানু মগজ থেকে!

চার নেতার লাশ সারাদিন পড়ে রয় সেই ছোট্ট সেলটিতে। রক্ত শুকিয়ে আসে, তাজউদ্দীনের চশমাটা ভেঙ্গে রক্তের সাগরে ডুবে গেছে। মাংসে পঁচন ধরার গন্ধ ছড়ায় বাতাসে। জেল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে লাশ পাঠানোর ব্যাবস্থা করে এবার। তাজউদ্দীনের লাশ আসে সাতমসজিদ রোডের বাসায়। কাপাসিয়ার বঙ্গশার্দুল ফিরে আসেন না, আসে শুধু বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া তাঁর প্রাণহীন শরীরটা। নিজ হাতে গড়া বাগানের এক কোনায় খাটিয়ায় শুইয়ে রাখা হয় তাঁকে, বাগানের একপাশে গর্ত করে চুলা বানিয়ে গোসলের পানি গরম দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর পেছনে ফাইল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা চশমা পরা নটোরিয়াস লোকটা হারিয়ে যান, অতীত হয়ে যান। যে তাজউদ্দীনের সাথে তর্কে না পেরে জুলফিকার আলী ভুট্টো বলে গিয়েছিলেন, “আই টেল ইউ, দিস তাজউদ্দীন উইল বি ইওর মেইন প্রবলেম”…

ভুট্টোর কথা ফলে গিয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে এই ছোটখাটো গড়নের একরোখা লোকটাই বঙ্গবন্ধুর হয়ে যুদ্ধটা লড়েছিলেন, পাকিস্তানের কবল থেকে নয়মাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আদায় করে উপহার দিয়েছিলেন তার প্রিয় মুজিব ভাইকে। আমরা তাঁকে হারিয়ে ফেলেছিলাম, শীতল অন্ধকার রাতে বন্দী প্রকোষ্ঠে সহযোদ্ধাদের সাথে তিনি শহীদ হয়েছিলেন স্বজাতির হাতেই, এক পাল নরপিশাচের হাতে।

ফ্যাসিজমের বাংলাদেশঃ প্রতিবাদই মুক্তির পথ

কবিতা,সাহিত্য এসবের প্রতি ভালোবাসা ছোটবেলা থেকেই।বই পড়তে পড়তে বিপ্লবের বই হাতে এসে বুঝেছিলাম রক্তে আমার আগুন আছে। পাঠ্যবইয়ে "জোঁক" গল্পটি পড়ার পর জানলাম উচ্চবংশীয় টাইটেলধারীরা নিম্ন বংশের লোকেদেরকে বছরের পর বছর শোষণ করেছে। এরপর ক্লাস নাইনে রেজিষ্ট্রেশনের সময় নিজের এবং বাবার নামের টাইটেল স্কুলে কেটে দিয়েছি।
অনেককিছু করার স্বপ্ন ছিলো।অথচ কিছুই করা হয়ে উঠেনি।

যেকথা বলছিলাম,সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ থেকে ব্যক্তিগতভাবে প্রেম কিংবা রোমান্সের প্রতি আবেগ অনেকবেশি।অদ্ভুত সব কল্পনায়, প্রেমে নিদারুণ সুখ পাই।এটা খুব ভালোভাবেই বুঝি যে এ জগতে প্রেমের প্রতি আমার মারাত্বক আসক্তি।
আমি সম্ভবত প্রেমের জন্যেই বাঁচি।

অথচ মিছিলের মুখরিত শ্লোগান মুখে নিয়ে শরীরের ভেতরের আগুনটা যখন চোখ ঠিকরে বের হয় তখন মনে হয় আমি আসলেই বিদ্রোহের জন্য জন্মেছি।
যে প্রেমিকের জন্য ঘর ছাড়তে পারি,সে রাজপথে নামার জন্য সে প্রেমিককেও ছাড়তে পারি।


আমার সাথে কথা হলে সবার কমন প্রশ্ন আমি কোন সংগঠন করি।

নানান কারণে ভেবেচিন্তে নির্দিষ্ট কোন সংগঠনের সাথে যুক্ত হইনি।

আজ এসব কথা বলছি কেনো????


নুসরাত,আবরারের মৃত্যুর খবর পড়ার সময় সংবাদপাঠক পর্যন্ত কান্না আটকেছে অনেক কষ্টে।
জাতি আজ আসলেই জোর করে নিজেদের কান্নাকে থামাচ্ছে।নিজেদের কান্নাকে বুঝতে চাইছেনা,প্রতিবাদ ভুলে গিয়ে নিজেদের অন্যভাবে ব্যস্ত রাখছে।
আমরা জানি অনিশ্চিত জীবন আমাদের,আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের।
আমরা প্রতিদিন নিষ্পেষিত হচ্ছি।

অথচ আমরা ভোঁতা হয়ে গিয়েছি।আমরা চুপচাপ আছি।
অদ্ভুত!!


বাঙালী সংগ্রামী জাতি।বাঙালীর ইতিহাস তো আসলেই সংগ্রামের ইতিহাস।মাথা না নোয়ানোর ইতিহাস।
ভাবছেন এসব বইয়ের কথা,তাইতো????

আসলে কিন্তু তা নয়।
ব্রিটিশের বিরুদ্ধে দু'শ বছর ধরে নানানরকম আন্দোলনে বাঙালী তথা বাংলাদেশীদের নাম ইতিহাস ধারণ করেছে।
বাংলাদেশের সংগ্রামের ইতিহাস তো আছেই।


এসবও যদি বাদ দেই তাহলেও বিভিন্নদিকে চোখ রাখলে দেখবো আসলেই আমরা সংগ্রামী জাতি।আমরা আওয়াজ তুললে অন্যায় মাথা নোয়াবেই।

যেমন ধরুন, বুয়েটে বছরের পর বছর র‍্যাগিং,টর্চার সেলের অত্যাচার সহ্য করে এসেছে শিক্ষার্থীরা।অথচ নানানকারণে তারা আওয়াজ তোলেনি।
যেইনা আবরারের মৃত্যুতে আওয়াজ তুললো, ৬ ঘন্টা আটকে রাখলো,প্রশাসন থেকে ভিসি কারোর বাপের সাধ্য হয়নি সিসিটিভি ফুটেজ না দিয়ে যাওয়ার।
দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করেও যারা সংঘটিত হয়ে প্রতিবাদ করতে পারেনি,অথচ তারা একটা ঘটনায় মাত্র কিছু ঘন্টার মধ্যেই কেমন সংঘটিত হয়ে গেলো।সুন্দর,গোছানো প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে ফুটেজ আদায় করলোই।


তার মানে আমরা আওয়াজ তুললে সবই সম্ভব।

অথচ এই ছেলেমেয়েগুলো আরও আরও আগেই যদি ঠিক এমনিভাবেই ফেটে পড়তো আজ হয়তো আবরারকে লাশ হতে হতোনা।
কথাটা এজন্যেই বলা যে,আমরা অন্যায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠার পর আওয়াজ না তুলে অন্যায় দেখামাত্র আওয়াজ তুললে অনেককিছুর
সমাধান হয়ে যায়।
এবং এজন্যে অবশ্যই অবশ্যই সংঘটিত হতে হবে।
ফেসবুকিয় আন্দোলন না।রাজপথে নামতে হবে।রাজপথ ছাড়া বিকল্প নাই।

অনেকেই আছে নানানরকম প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আন্তরিকভাবে সময় দিয়েছে। অথচ অধিকার আদায় হয়নি।হতাশা কাজ করে।ব্যক্তিগতভাবে আমারও হতাশা কাজ করে।
আমার সবসময়,যা হওয়ার হয়ে যেতেই হবে টাইপ মানসিকতা।
তো এই নিয়ে সংগঠনের এক ভাই আমাকে সবসময় সান্ত্বনা দেয়।

উনি বলে,"কেনো ভাবছেন এই প্রতিবাদের,এই মানববন্ধন,মিছিলের কোন ফলাফল নেই??
প্রত্যেকটা বিষয়ে ১০০ এ পৌঁছানোর জন্য ১,২,৩____ এসব ধাপ পেরুতে হয়।আমাদের প্রত্যেকটা কর্মসূচিই সেসব ধাপ।
শ্রদ্ধেয় জাহানারা ইমাম রাজাকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করে দিয়ে গিয়েছেন।প্রজন্মের সামনে রাস্তাটা তৈরি করেছিলেন।আর সেই রাস্তা ধরেই গণজাগরণ মঞ্চ কুখ্যাত রাজাকারদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করেছে।শ্রদ্ধেয় জাহানারা ইমামের সেই সংগ্রাম প্রজন্ম বৃথা যেতে দেয়নি।"

আসলেই কিন্তু তাই।কিছু হোক বা না হোক,আন্দোলন প্রতিবাদ জারি রাখা উচিত।তা নাহলে আমাদের বিবেক তো মরেই গিয়েছে। রক্তও একেবারে ঠান্ডা হয়ে আমরাও মরে যাবো।

বিভিন্নরকম প্রগতিশীল সংগঠন সমূহের দিকে তাকালে একধরনের সীমাবদ্ধতা চোখে পড়ে।উনারা ঠিক কেনো নিজেদের মধ্যে নিজেদেরকে আড়ষ্ট করে রাখে জানিনা।নিজেদের ব্যানার,নিজেদের নাম,ট্যাগ ইত্যাদি নিয়ে সম্ভবত বেশিই ভাবে।

অথচ ব্যানারের কোণা ধরে হলেও দাঁড়াতে পারলাম কিনা,কিংবা মাইক্রোফোন আমার হাতে আসলো কিনা,সংবাদে আমার নাম আগে না পড়ে এসব নিয়ে ভাবার সময় কি আমাদের আর আছে??
দেশের এমন শ্বাপদসংকুল পরিস্থিতিতে প্রত্যেকটা প্রগতিশীল সংগঠনের একসাথে কাজ করা উচিত বলে আমার মনে হয়।আর এই কাজে কৃষক,শ্রমিক,রিকশাচালক থেকে পানের দোকানদার সকল শ্রেণীপেশার লোকদের এক করে সচেতন করা উচিত।
আমরা যদি নিজেরা নিজেদের জায়গায় ঠিক হই,দেশ এমনিতেই বদলাবে।

বিশ্বাস করুন,ভাল্লাগেনা এতো আহাজারি। দুদিন পরপর একেকটা ইস্যু।
বাংলাদেশে শান্তি ফিরে আসুক। মানুষের কন্ঠে আওয়াজ ফিরে আসুক।রাজপথ হোক অধিকার আদায়ের ঠিকানা।

#শাসন_শোষণের_আস্তানা,#জ্বলে_যাক_যাক_পুড়ে_যাক।
#পূঁজিবাদের_আস্তানা_ফ্যাসিজমের_আস্তানা,#ধ্বংস_হোক_নিপাত _যাক।

লেখকঃ     আসমা সাদাত চৌধুরী

                কলামিস্ট,সোস্যাল এক্টিভিস্ট।

বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য কল-রেডী

"বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য কল-রেডী" 

১৯৪৮ সালে সূত্রাপুরের দুই ভাই হরিপদ ঘোষ ও দয়াল ঘোষ মিলে একটি দোকান চালু করেন। নাম আরজু লাইট হাউস। লাইট হাউস নাম হলেও লাইটের পাশাপাশি গ্রামোফোনও ভাড়া দেওয়া হতো।
বিয়ে-শাদিতে লাইটের সঙ্গে গ্রামোফোনও ভাড়া নিত লোকজন। দোকানটি পরিচিত হয়ে ওঠে অল্প দিনেই। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে কয়েকটি মাইক নিয়ে আসেন দুই ভাই। তাতেও কুলাচ্ছিল না। হরিপদ ঘোষ মাইকের কারিকরি জানতেন। যন্ত্রপাতি কিনে এনে নিজে কয়েকটি হ্যান্ডমাইক তৈরি করেন।

১৯৪৮ সালে দেশ ভাগের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে। আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা মাইক ভাড়া নিতে শুরু করেন আরজু লাইট হাউস থেকে। চাহিদা বাড়তে থাকে দিনে দিনে। তাই তাইওয়ান, জাপান, চীন থেকে আনা হয় মাইক। তবে মাইকের মূল অংশ মানে ইউনিট বেশি আনা হতো বাইরে থেকে। এরপর নিজের দোকানের কারিগর দিয়ে হরিপদ ঘোষ তৈরি করিয়ে নিতেন হর্নসহ বাকি অংশ।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর থেকে সভা-সমাবেশ বেড়ে যায়। এ ছাড়া সামাজিক আর ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও মাইক ভাড়া যাচ্ছিল। তাই মাইক দিয়ে নাম দেওয়ার ভাবনা করলেন দুই ভাই। অবশেষে দয়াল ঘোষ নামটি ঠিক করেন-কল-রেডী। কারণ বললেন- মানুষ তো কাজের জন্যই আমাদের কাছ থেকে মাইক ভাড়া নেয়। তারা কল করলে আমরা যেন রেডি থাকি। এক কথায়, কল করলেই রেডী। সে থেকে কল-রেডী।

 ভালো সেবা দেওয়ার সুনাম থাকায় যেকোনো সভা- সমাবেশ ও বড় বড় অনুষ্ঠানে ডাক পড়তে থাকে কল-রেডীর। ১৯৫৪ সালে কল-রেডীর কর্মী ছিল ২০ জন। সভা-সমাবেশ সুনামের সঙ্গেই সম্পন্ন করতেন হরিপদ ও দয়াল ঘোষ। মাঝেমধ্যে তাঁদের ছোট দুই ভাই গোপাল ঘোষ ও কানাই ঘোষও সাহায্য করতেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের সভা-সমাবেশেও যোগ দিয়েছে কল-রেডী। কল-রেডীর মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছেন পূর্ব পাকিস্তানের বাঘা বাঘা নেতা।

 বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ভাষণের মাইক্রোফোন হলো কল-রেডীর। হাটে-মাঠে-ঘাটে সব জায়গায় তখন স্বাধিকারের চেতনায় ফুঁসছে মানুষ। সত্তরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকে সারা দেশের মানুষ ভোট দিয়েছে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করে না। দফায় দফায় মিটিং করেও হচ্ছে না সুরাহা।

 চলে এলো মার্চ। কল-রেডীর মালিক হরিপদ ঘোষ ও দয়াল ঘোষকে ধানমণ্ডির বাসায় ডেকে পাঠালেন বঙ্গবন্ধু। নির্দেশ দিলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে [তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান] মাইক লাগাতে। কাজে নেমে পড়েন হরিপদ ও দয়াল ঘোষ। তখন রেসকোর্সে মাইক লাগানো সোজা ছিল না-শাসকগোষ্ঠীর চোখ ছিল সদা সতর্ক। রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে লুকিয়ে মাইক লাগাতে লাগলেন দুই ভাই। ৭ই মার্চের বাকি আর তিন দিন। মাইক লাগিয়ে কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলেন হরিপদ আর দয়াল ঘোষ। কিছু বাড়তি মাইক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মজুদ রাখেন যেন সমাবেশের দিন তাৎক্ষণিকভাবে লাগিয়ে নিতে পারেন। তিন দিন ধরে ৩০ জন কর্মী নিয়ে বাঁশ, খুঁটি গাঁথার কাজ করেন ঘোষেরা। তারপর সেই দিনটি আসে-৭ই মার্চ। 

কবি গিয়ে দাঁড়ান জনতার মঞ্চে। কল-রেডী'তে উচ্চারিত হলো ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’

বঙ্গবন্ধুর ভাষণকালে যেন কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না হয়, সে জন্য নিজে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি একজন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দিয়েছিলেন হরিপদ ঘোষ। অতিরিক্ত তিনটি মাইক্রোফোন সঙ্গে রেখেছিলেন দয়াল ঘোষ। এত বড় একটি সমাবেশে মাইক সার্ভিস দিয়ে কত টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিল কল-রেডী? জানতে চাইলে হরিপদ ঘোষের ছেলে কল-রেডীর বর্তমান পরিচালক সাগর ঘোষ জানান, সেই সময় পারিশ্রমিকের কথা চিন্তা করার সুযোগ বাবা ও জ্যাঠা মশাইয়ের ছিল না। বঙ্গবন্ধু নির্দেশ দিয়েছেন সেটাই বড় কথা। আর তা ছাড়া দেশের পরিস্থিতি তখন সবাই কম-বেশি জানতেন। আর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বাবা-কাকার ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে বাবা শুধু খরচটাই নিতেন।

 আরো বললেন, ‘সেদিন সেই সমাবেশে আমার বাবার হাতে তৈরি অনেক হ্যান্ড মাইক ব্যবহৃত হয়েছিল।’

৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে কল-রেডীর যে মাইক্রোফোনে বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেই মাইক্রোফোন, মাইক্রোফোনের স্ট্যান্ড আজও আছে কল-রেডীর কাছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আর অন্য কেউ সেই মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেননি। এরপর বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আবারও কল-রেডীর মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন। দেশ-বিদেশের অনেক বিখ্যাত মানুষ কল-রেডীর মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, শেখ হাসিনাসহ আরো অনেকে আছেন এই তালিকায়।

বিদেশের নেতাদের মধ্যে আছেন ভারতের ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে এসে তাঁর জন্য গড়া ইন্দিরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে কল-রেডীর মাইক্রোফোনে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ১৯৯৬ সালে ইয়াসির আরাফাত, নেলসন ম্যান্ডেলা কল-রেডীর মাইক্রোফোনে ভাষণ দেন।
আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়িও কল-রেডীতে কথা বলেছেন। এর বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সমাবর্তনে মাইক সার্ভিস দেয় কল-রেডী।

১৯৮১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার প্রায় প্রতিটি সভা-সমাবেশে মাইক সার্ভিস দিয়েছে কল-রেডী। 

কল-রেডী আছে আগের জায়গায়। পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, বয়স হলো ৬৭।"

 

পি জে এন /রাকিব 

১ কাপ টি-ব্যাগের চা'য়ে সাড়ে ১১'শ কোটি প্লাস্টিকের কণা

কাগজ না প্লাস্টিকের টি-ব্যাগ? পরেরবার আপনি চা বানাতে গেলে অবশ্যই কাগজের টি-ব্যাগ বেছে নিন। নয়তো আলগা পাতা ব্যবহার করুন। প্লাস্টিকের টি-ব্যাগ পুরোপুরিভাবে এড়িয়ে চলুন।

কেননা, বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্লাস্টিকের টি-ব্যাগ থেকে কাপে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক কণা নির্গত হয়; যা প্রতিনিয়ত শরীরে ঢুকছে। যদিও এর নির্দিষ্ট প্রভাব এখনো অজানা। তবে এটা নিশ্চিত বলা যায়, এই কণা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। 

কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা চারটি ভিন্ন ভিন্ন বাণিজ্যিক টি-ব্যাগকে ফুটন্ত পানিতে রাখার পর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন। এমনকি এই পরীক্ষাটি তারা বার বার চালিয়ে একই ফল পেয়েছেন। তারা দেখেছেন, এক কাপ ফুটন্ত পানিতে একটি টি-ব্যাগ ১১ দশমিক ছয় বিলিয়ন প্লাস্টিক কণা (মাইক্রোপ্লাস্টিক) ছাড়ে। এটা ছাড়াও তিন দশমিক এক বিলিয়ন অতি সূক্ষ্ম প্লাস্টিক (ন্যানোপ্লাস্টিক) কণা ছাড়ে।

সমপ্রতি আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি জার্নাল এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কানাডার গবেষকরা এই তথ্য প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়েছে, অফিসে বা অন্য কোথাও চা পান করতে চাইলেই সহজ উপায়ের জন্য সবাই বেশি পছন্দ করেন টি-ব্যাগ। কিন্তু টি-ব্যাগটি যদি প্লাস্টিকের হয়, তাহলে সেটা শরীরের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নাখাইল টুফেনজি জানান, একটি টি-ব্যাগ থেকে এক কাপ চায়ের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ১১শ কোটি প্লাস্টিক কণা আমাদের শরীরে ঢোকে; যা গবেষণা অনুসারে অন্যান্য পানীয় বা খাবারের মধ্যে যে পরিমাণ প্লাস্টিক থাকে, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

তিনি বলেন, টি-ব্যাগ সাধারণত এক ধরনের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয়। গরম পানির সংস্পর্শে এলে এই ব্যাগ থেকে প্লাস্টিক কণা গলে বেরিয়ে চায়ের সঙ্গে মিশে যায়। এরপর চুমুকে চুমুকে ঢুকে শরীরে। তবে, এই চা পান করার পর মানুষের স্বাস্থ্যে কী প্রভাব পড়ে, তা এখনো অজানা। বিজ্ঞানীরা এ বিষয়টি শিগগির বের করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন, প্রভাব বের করতে চেষ্টা চলছে।

গবেষকদের পরামর্শ, অনেক চা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান টি-ব্যাগের ক্ষেত্রে কাগজের পরিবর্তে প্লাস্টিক ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে জনসাধারণকেই সচেতন হতে হবে। কেননা, প্লাস্টিক আমাদের শরীরের এবং সমগ্র প্রকৃতির ক্ষতি করছে।
এর আগে বোতলজাত পানিতে প্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে পর্যালোচনা করেছিল জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এমনকি গত মাসে সংস্থটি বলেছিল, মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো বর্তমানে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই প্লাস্টিক কীভাবে মানব স্বাস্থ্যে প্রভাব বিস্তার করে, এ সম্পর্কে আরো গবেষণা প্রয়োজন।

ডব্লিউএইচওর জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য নির্ধারণ বিভাগের পরিচালক মারিয়া নেইরা বলেন, আমাদের জরুরিভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যের প্রভাব সম্পর্কে আরো জানতে হবে। কারণ এগুলো আমাদের পানীয়র সঙ্গে সর্বত্র রয়েছে।

বঙ্গকন্যার জন্মদিন আজ

টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের সবচেয়ে বেশি সময়ের সরকার প্রধানের কৃতিত্বও আছে তার সাফল্যের ঝুলিতে।  

ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু, নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এখন সমাদৃত হচ্ছেন বিশ্বরাজনীতিতে। পেয়েছেন বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি। নিয়েছেন জীবনের ঝুঁকি, হারিয়েছেন পুরো পরিবারকে।  তবুও কান্ডারী হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অকুতোভয় রাজনীতিক শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন আজ। 

১৯৪৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন গোপালগঞ্জে। তারপর ঢাকার আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয়, বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয় হয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন শেখ হাসিনা।

ছাত্রজীবনে রাজনীতির পাঠ নেয়া শেখ হাসিনা, কলেজে  ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন এবং ৬-দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। 

১৯৬৭ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাথে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। 

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার আগে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ শেখ হাসিনা জার্মান যান।  রাজনৈতিক পটবদলে ইউরোপ ছেড়ে স্বামী-সন্তানসহ ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে হয় শেখ হাসিনাকে।

১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রবাসে থেকেই মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই  দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। আর ঐ বছরেরই ১৭ই মে মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। 

১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা তিনটি আসনে বিজয়ী হন। ১৯৯০ সামরিক স্বৈরশাসন বিরোধী আণ্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়ে সোচ্চার ছিলেন সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য।  

১৯৯৬ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হলে ২৩শে জুন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ ।

প্রথমবারের মত সরকারের মেয়াদ পূরন করার কৃতিত্বও আছে শেখ হাসিনার। কিন্তু ২০০১ সালে তিনি সংসদে বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় গ্রেনেড হামলা করে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।  

২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

নিজ দেশেই কেবল নন, বিশ্ব দরবারেও সমাদৃত শেখ হাসিনার নেতৃত্ব।  ২০১০ সালে এমডিজি অর্জনে বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘের এওয়ার্ড এবং ২০১৫ সালে এসডিজি অর্জনে আইসিটি’র ব্যবহারে প্রচারণার জন্য শেখ হাসিনাকে ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পদক দেয়া হয়।  

২০১৫ সালে শেখ হাসিনা পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ বৈশ্বিক পুরস্কার চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ লাভ করেন।

২০১৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে 'ভ্যাকসিন হিরো' ও ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ সম্মানে ভূষিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার, বিপন্ন রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বব্যাপি প্রশংসিত মানবতাবাদী রাষ্ট্রনায়কের নাম এখন শেখ হাসিনা।

তোর বাবাদের নাম বল এইবার

তুই কোন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর মালিক যে তোকে সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে চলতে হয়? তোর ঘরে পাওয়া যায় নগদ ১০ কোটি টাকা ও ২শ' কোটির চেক? এফডিআর, অস্ত্র-গোলাবারুদ! পথের দুই টাকার যুবদল কর্মী থেকে এক টাকার যুবলীগ কর্মী হয়ে আজ তোর কোন বাবার শক্তিতে বঙ্গবন্ধুর নাম বিক্রি করে তিন টাকার ঠিকাদার এতো বড় লুটেরা হলি? তোর বাবাদের নাম এবার বল। একটাতো ফ্রিডম পার্টি থেকে এসে যুবলীগ নেতা হয়ে ক্যাসিনো মালিক, চাঁদাবাজ হয়েছিলো।

মুজিব কন্যা বলেছেন একে একে সব ধরা হবে। সারাদেশে অবৈধ লুটের টাকায় যারা অঢেল অর্থ-বিত্ত আলিশান বাড়ি, জৌলুসময় ফ্লাট ভোগে মত্ত জীবনযাপন করেছিলেন, তাদের এবার আইনের শাস্তি ভোগ করতে হবেই।

ছাত্রলীগ দিয়ে যার শুরু, যুবলীগ দিয়ে যার ঝড়, ভিসি-ডিসি-এসপি-আমলা-মন্ত্রী-এমপি-নেতা, বিভিন্ন পেশার যারা অপরাধী, সে যেই হোক, যে দলের হোক অবশ্যই তাকে আজ পাকড়াও করে, মুজিব কন্যার যুদ্ধে জিততে হবে।

এ বিজয় হবে দেশের, জনগণের, সুশাসনের, আইনের, আদর্শের। নষ্টদের আজ কবরের আজাবে রাখার সূবর্ণ সময়।

যারা ঘুষ, দুর্নীতি, কমিশন, নিয়োগ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ব্যাংক লুট, শেয়ার লুট, অর্থপাচার করেছে, তাদের সাম্রাজ্যের পতন, তাদের কারাজীবন এখন অনিবার্য। জনগণকে আজ সমর্থনে এগিয়ে আসতে হবে, জিকে শামীম, খালেদের মতো পুটিমাছের যদি এ অবস্থা হয়, রাঘব-বোয়ালদের কি অবস্থা?

লেখক: পীর হাবিবুর রহমান