বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২১

শিরোনাম

চট্টগ্রামে শুরু হলো তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে স্টার্টাপ স্কুল ১.০

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল স্টার্টাপ চট্টগ্রামের উদ্যোগে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা "স্টার্টাপ স্কুল ১.০" । নগরীর অফিসার্স ক্লাবে প্রায় শতাধিক কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং চট্টগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তাদেরকে নিয়ে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার (৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাবে স্টার্টাপ স্কুল কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্টার্টাপ চট্টগ্রামের ফাউন্ডার আরাফাতুল ইসলাম আকিবের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন। অতিথিদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, স্টার্টাপ চট্টগ্রামের উপদেষ্টা আবু তালেব সিদ্দিক সানজু, র‌্যাংগস এফসির সিইও তানভীর শাহরিয়ার রিমন, চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের পরিচালক মুসতারি মোর্শেদ স্মৃতি, স্পিকার্স কাউন্সিলের সিইও ইমরান আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ইএসডিপি প্রজেক্টের প্রশিক্ষক মোহাইমিনুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বলেন, তরুণরা সামাজিক আন্দোলনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তার বড় প্রমাণ। ওই আন্দোলনে ছাত্র সমাজের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার চট্টগ্রাম নগরের স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ টি ডাবল ডেকার বিআরটিসির বাস উপহার দিয়েছে। কোরবানির ঈদের পর বাসগুলোর সেবা পাবে শিক্ষার্থীরা। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আইসিটি সেক্টরে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে শুরু করে সকল ওয়েবসাইটে সেবা প্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আইসিটি সেক্টরের সেবার তথ্য সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে তরুণ উদ্যোক্তোদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। কর্মশালায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

স্টার্টাপ চট্টগ্রামের ফাউন্ডার আরাফাতুল ইসলাম আকিব বলেন, " চট্টগ্রামের তরুণদের সহযোগিতা মূলক প্রশিক্ষণ প্রদান ও সরকারি এবং বেসরকারি ফান্ডিং সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে স্টার্টআপ চট্টগ্রাম কাজ করে যাচ্ছে। স্টার্টাপের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যত ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন, তা আমরা যথাসাধ্য দেওয়ার চেষ্টা করবো। " এছাড়াও উপস্থিত বক্তারা স্টার্টাপ ও স্টার্টাপ ইকো সিস্টেম নিয়ে বিভিন্ন তথ্যবহুল আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের সহযোগী পার্টনার ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করার প্রকল্প, টেকনো ড্রাগস লিমিটেড, প্রগতি গ্রুপ, দি ডেইলি স্টার, রেডিও ফুর্তি, গ্রীনটেক রিসোর্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টার, ইজিফী & স্পিকার কাউন্সিল।

পৃথিবীর ইতিহাসে উষ্ণতম মাস ছিলো জুলাই

গত জুলাই মাস পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম সময় ছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

শনিবার ঢাকার জাতিসংঘ কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি থেকে প্রাপ্ত নতুন তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানান, গত জুলাই ছিল নথিভুক্ত ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ মাস।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা নেয়া না হলে আবহাওয়া পরিস্থিতি চরমে পৌঁছাবে।

 

বিশ্বের নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞানীরা আমাদের বলেছেন যে যদি জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ প্রভাব এড়াতে চাই তাহলে আমাদের অবশ্যই তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখতে হবে। আমাদের ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন ৪৫ শতাংশ হ্রাস করা দরকার।

২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন করতে হবে উল্লেখ করে গুইতেরেস আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠা বৃদ্ধি, ঝুঁকি হ্রাস ও আরও ক্ষতি করতে যাওয়া বিনিয়োগ পরিহারের জন্য সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধান বিষয় হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিগুলো তুলে ধরা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, আসন্ন ২০১৯ ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট উপলক্ষে এ সর্বশেষ তথ্য দেওয়া হলো।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেইঃ বিডি ক্লিন

দেশে ব্যাপী ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারন করেছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কোন বিকল্প নেই, পরিচ্ছন্নতা শুরু হোক আমার থেকে এই স্লোগান নিয়ে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে একদল উদ্যোমী তরুণ তরুণী নিয়ে গড়া বিডি ক্লিন নামের একটি সংগঠন।

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বৃদ্বিতে সপ্তাহে একদিন বিডি ক্লিনের তরুণ তরুণীরা তাদের কর্মসূচি বিগত ২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর রেল স্টেশন কে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও যাত্রীদের যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা না ফেলার বিষয়ে সচেতনতা মুলক কার্যক্রম করা হয়..

৩০০ শতাধিক বিডি ক্লিন সদস্যের সমন্বয়ে উক্ত সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠান বিডি ক্লিনের জেলা সমন্বয়ক ফরহাদ জহিরের সঞ্চালনায় ও বিডি ক্লিনের বিভাগীয় সমন্বয়ক আদিল কবিরের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চসিক কাউন্সিলর তারেক সোলাইমান, ওশানিক মাল্টিমিডিয়া এর সিইও শাকিল আবেদীন,চট্টলার অধিকার ফোরাম এর চেয়ারম্যান কায়সার আলী চৌধুরী,মিনহাজ ফাউন্ডেশন এর প্রধান নির্বাহী উল্লাস চৌধুরী,বিডি ক্লিন সমন্বয়ক আজিজ আরেফিন,ইমাম হোসেন মুহিব, রাহিদ খলিল প্রমুখ।

পি জে/ সায়েম

ব্যস্ত নোবেল

ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি বাংলার সংগীতবিষয়ক প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান সারেগামাপা। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিযোগী মাঈনুল আহসান নোবেল লড়াই করেছেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। বাংলাদেশের মানুষের কাছে সারেগামাপা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল নোবেলের কারণেই। গত ২৮ জুলাই জানা যায় চূড়ান্ত ফলাফল। নোবেল তৃতীয় হন। তাঁর নিজের কোনো প্রত্যাশা না থাকলেও বাংলাদেশের শ্রোতারা প্রত্যাশা করেছিলেন নোবেলের হাতেই উঠুক শীর্ষ বিজয়ীর পদক। প্রত্যাশা পূরণ হয়নি তাতে কী, দেশের মানুষের হৃদয়ে প্রথম স্থানেই আছেন তরুণ এই সংগীতশিল্পী। কলকাতা থেকে ফিরে এখন ব্যস্ত নানা অনুষ্ঠান নিয়ে...

ব্যস্ত সময়...
সারেগামাপা প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই আলোচনায় উঠে আসেন বাংলাদেশের ছেলে নোবেল। তাঁর কণ্ঠে জেমসের ‘মা’ কিংবা আইয়ুব বাচ্চুর ‘হাসতে দেখো’ গানগুলো রীতিমতো ঝড় তোলে। ঢাকার ছোট একটি এলাকা থেকে উঠে আসা এই তরুণ রাতারাতি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তারকা হয়ে ওঠেন। যোগ দেন গান দিয়ে দুই বাংলার তরুণ শিল্পীদের মধ্যে সেরা হওয়ার চূড়ান্ত লড়াইয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তৃতীয় অবস্থান নিয়েই যাত্রা শেষ হয় নোবেলের। দেশের ছেলে ফিরে আসেন দেশে। বিজয়ীর মুকুট পাননি তো কী হয়েছে, বাংলাদেশে ফিরতেই নোবেলের ব্যস্ততা যে হারে বেড়েছে, তাতেই বোঝা যায় এ শিল্পী শ্রোতাদের বিচারে জয় পেয়ে গেছেন। একের পর এক অনুষ্ঠান করে যাচ্ছেন নোবেল। নিজের দল নোবেলম্যানকে নিয়ে ছুটে চলছেন দেশের নানা প্রান্তে। ব্যস্ততার ফিরিস্তি দিতে গিয়ে নোবেল বললেন, ‘এই অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা–চট্টগ্রাম মিলে চারটি শো করলাম। প্রায় দিনই কোথাও না কোথাও শো হচ্ছে।’

শুধু দেশেই নয়, নোবেলের গান ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বাইরের প্রবাসী বাঙালি শ্রোতাদের মধ্যেও। এটা বোঝা গেল আগামী এক মাসে নোবেলের সফরসূচি জে। নোবেল জানালেন, সারেগামাপা শেষ হতে না হতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, দুবাই, মালয়েশিয়াতে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে গান করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এ মাসের শেষের দিক থেকে শুরু করে টানা ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বাইরে চলবে তাঁর এই সংগীতসফর।

বদলে যাওয়া জীবন

প্রথমেই জানতে জানতে চাইলাম, সারেগামাপার পর তাঁর জীবনে আসা পরিবর্তনগুলো কী?—এমন প্রশ্ন শুনে নোবেল কিছুক্ষণ ভেবে নিলেন। এরপর বললেন, ‘আগে কেউ আমাকে চিনতেন না, এখন অনেকেই চেনেন। আগে যতটা পরিশ্রম করতাম, ততটা মূল্য পেতাম না। এখন পাচ্ছি। আগে রাস্তাঘাটে আড্ডা দিতে পারতাম, এখন একটু সময়ের জন্য দাঁড়ালেই সবাই ভিড় করেন, সেলফি তুলতে আসেন। সারেগামাপাতে যাওয়ার আগে নিজের টাকায় কোরবানি দিতে পারিনি, এবারের ঈদে নিজের আয়ের টাকা দিয়ে কোরবানি দিচ্ছি।’

নোবেলের প্রেমের গল্প

শিল্পীদের প্রশ্ন করলেই বলেন, শিল্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম প্রেম। তাই নোবেলকে প্রশ্নটা করা হয় এভাবে—‘গান বাদে নোবেল জীবনে প্রথম প্রেমে পড়েছেন কবে?’ প্রশ্ন শুনে মনে হলো কিছুটা ঘাবড়ে গেলেন নোবেল। একটু দম নিয়ে বলেন, ‘ক্লাস এইটে পড়ার সময়ে প্রেমে পড়েছিলাম। এতটুকুই।’ এর বাইরে নোবেল আর কিছু বলতে চাইলেন না। শুধু বললেন, ‘২০০৮ সালে প্রেমটা হয়েছিল। মাফ করবেন, এর বেশি আর কিছুই বলতে চাই না। আমার ব্যক্তিজীবনের গল্প সবাইকে জানিয়ে কীই–বা হবে?’ বলেই আলাপ অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য তাগিদ দিলেন রাতারাতি তারকা হয়ে যাওয়া এই শিল্পী।

নোবেলের জীবন নিয়ে সিনেমা

ছোটবেলা থেকে অনেক চড়াই–উতরাই দেখেছেন এই শিল্পী। পড়াশোনা নিয়ে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়েছে। গানই তাঁর জীবন—এটা পরিবারকে বোঝানোর জন্য করতে হয়েছে সংগ্রাম, ছাড়তে হয়েছে বাড়ি। সেই গল্প সিনেমাকেও হার মানায়। তাই নোবেলের জীবন নিয়ে সিনেমা তৈরি হলে নায়ক হিসেবে সেখানে কাকে দেখতে চান তিনি? হেসে জবাব দেন নোবেল, ‘আমার জীবন নিয়ে সিনেমা হবে, সেই যোগ্যতাই তো হয়নি আমার। আর যদি বানাতেই হয়, সেটা পরিচালক বুঝবেন। আমার চাইতে আরও অনেক ভালো ও গুণী মানুষ আছেন, আগে তাঁদের নিয়ে কাজ হোক। কখনো গান দিয়ে আমি যদি হলিউড–বলিউডে যেতে পারি, তখন হতে পারে’, বলেই হাসেন তিনি।

অভিনয়ের ইচ্ছা

নোবেলের বায়োপিক নিয়ে আগ্রহ না থাকলেও সিনেমাতে তাঁর অভিনয়ের আগ্রহ আছে। তাঁর কথায় জানা যায়, ছোটবেলায় থিয়েটার করতেন। বাবার সঙ্গে মঞ্চনাটকে অভিনয়ও করেছেন তিনি। নোবেল বলেন, ‘আগে যেহেতু অভিনয় করেছি, তাই অভিনয়ের আগ্রহ কিছুটা তো আছেই। তবে যত দিন গান নিয়ে তৃপ্ত না হচ্ছি, তত দিন অভিনয় করব না।’

নোবেল ছবি: আনন্দনোবেল ছবি: আনন্দতবে সময় পেলেই নোবেল নিয়মিত সিনেমা–নাটক দেখেন। তাঁর প্রিয় নায়ক–নায়িকার তালিকায় আছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, জয়া আহসান; বলিউডে সালমান খান, নানা পাটেকর, বিদ্যা বালানরা।

সমালোচনার মুখোমুখি

খ্যাতির পথে যেমন প্রশংসা আছে, আছে সমালোচনাও। সমালোচনা শুনলে বা পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব পড়লে কেমন লাগে? এর উত্তর নোবেল দেন এভাবে—‘সমালোচনা করার ধরনের ওপর নির্ভর করে সব। মানুষ কি শুধু ঠাট্টা করার জন্য সমালোচনা করছে, নাকি আমার ভালো চায়, বিষয়টি বুঝে আমি সেই সমালোচনার মূল্যায়ন করি। কারণ, আমাকে নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা হলে সেটা আমার ভালো হবে বলে আমি মনে করি। জীবনে চলার পথে ভুল তো হতেই পারে। অনেক সমালোচনা থেকে নিজের সেই ভুল শুধরে নেওয়া যায়।’

জীবনের কঠিন সময়

২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের সারেগামাপাতে যোগ দেওয়ার আগপর্যন্ত সময়টা খুব কঠিন ছিল নোবেলের। ২০১৪ সালে এ লেভেল দেওয়ার পর পড়ালেখা ছেড়ে দেন। তখন পরিবার, আত্মীয় ও সমাজের কাছে ‘বখাটে ছেলে’ হিসেবে অ্যাখ্যা পান তিনি। নোবেল বলেন, ‘গানই ছিল আমার নেশা। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, আমাকে দিয়ে পড়াশোনা আর গান একসঙ্গে হবে না। তাই পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়ার কারণে মা ও বাবাকে অনেকের কাছে কথা শুনতে হয়েছে, সামাজিকভাবে ছোট হতে হয়েছে। সত্যি কথা, এই চার বছর আমার খুবই কঠিন সময় গেছে।’

হতাশার দিনগুলোতে নোবেলের প্রায় প্রতিদিনই মনে হতো, নাহ আর হবে না, থেমে যাবেন। মনে হতো, গায়ক হওয়ার স্বপ্ন বুঝি আর পূরণ হবে না। নোবেল বলেন, ‘তখনই আবার মনে হতো, না আমার দ্বারাই হবে। হেরে যাওয়া যাবে না। হতাশা তো আসবেই। সেটাকে উতরে যেতে হবে। আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও সহ্যকে নিজের মধ্যে পুষে রাখতে হবে।’

সারেগামাপার গ্র্যান্ড ফিনালেতে গাইছেন নোবেলসারেগামাপার গ্র্যান্ড ফিনালেতে গাইছেন নোবেলএই যে রাতারাতি তারকা হয়ে গেলেন নোবেল, এই খ্যাতি নোবেলের মনে ভয়েরও জন্ম দেয়। তিনি বলেন, ‘স্বল্প সময়ে আমার অর্জনটা বেশি। তাই ভয়ও বেশি। অনেক সময় অর্জন কমে যেতে পারে, আমি হারিয়ে যেতে পারি। তাই একটা ভয় তো থাকেই।’ যদি একদিন ঘুম ভেঙে দেখেন গায়ক নোবেলকে কেউ চিনছেন না, তখন কী করবেন? চটজলদি তিনি বলেন, ‘আরও ভালোভাবে আবার নতুন করে কাজ শুরু করব। এরপর ইন্ডিয়ান আইডলে যাব। কাঁপিয়ে দিয়ে আসব। হা হা হা...চেষ্টা থাকলে সবই সম্ভব।’ এরপর বলি, গান গাইতে না পারলে নোবেল কী করবেন? এবারও সময় নিলেন না। বলেন, ‘নিজে গান লিখব, সুর করব। আমার চিন্তার সঙ্গে মিলবে এমন কাউকে খুঁজে বের করে তাঁকে দিয়ে গাওয়াব। গানের সঙ্গেই থাকতে হবে। ব্যবসা, চাকরি আমার দ্বারা হবে না।’

এক বছরে সবচেয়ে প্রাপ্তি, ব্যর্থতা

বিগত এক বছরে নোবেলের ঝুলিতে কোনো ব্যর্থতা নেই। শুধুই প্রাপ্তিতে ভরে আছে তাঁর অর্জনের খাতা। নোবেল বলেন, ‘দেশজুড়ে মানুষের যে পরিমাণ ভালোবাসা পেয়েছি, বলে বোঝাতে পারব না। সারেগামাপা অনুষ্ঠান তো আগেও হয়েছে। কিন্তু এবার আমি অংশ নিয়ে যে জনপ্রিয়তা পেয়েছি, আমার মনে হয় আগে কখনোই হয়নি এমন।’

মৌলিক গান ও নোবেলম্যান

নোবেলের ব্যান্ড নোবেলম্যান থেকে শিগগিরই মৌলিক গান আসছে, সুখবরটা আমাদের দিলেন নোবেল। এরই মধ্যে চারটির মতো গান করা হয়েও গেছে। তিনি বলেন, ‘একটু সময় নিয়ে গানগুলো ছাড়তে চাই। চারটি গান হয়ে গেছে। এখন গানগুলোর ভিডিও করব। আমরা চাইছি দু-তিন মাস পরপর একটি করে গান বাজারে আনতে।’

সারেগামাপার প্রত্যাশা-প্রাপ্তি

যেকোনো প্রতিযোগিতায় সবারই চূড়ান্ত শিরোপা অর্জন লক্ষ্য হতে হবে, এমনটা মনে করেন না নোবেল। সারেগামাপার প্রথম পর্ব প্রচারের পরই যে সাড়া তিনি পেয়েছেন, তা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল বলে মনে করেন নোবেল। তিনি বলেন, ‘টিভিতে যেদিন প্রথম পর্ব দেখাল, ওই দিনই আমি আমার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পেয়ে গেছি। এরপর একের পর এক সাফল্য এসেছে, এটি আমার বাড়তি পাওয়া।’

জনগণের সেবক কিভাবে মালিক হয়? সে কিসের ভিআইপি

বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে সরকারী কর্মকর্তারা হচ্ছে জনগনের সেবক। সংবিধানের ২১ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে 'সব সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য'।  

আর সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে জনগণ হচ্ছে রাষ্ট্রের মালিক। সেবকের স্থান কীভাবে মালিকের ওপরে হয়? সেবকরা কীভাবে ভিআইপি হয়? 

একজন সেবকের (যুগ্ম সচিব নামক) ফেরী পারাপারের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দেরী করতে গিয়ে কেন প্রাণ যাবে গুরুতর আহত এক কিশোরের? ঐ যুগ্ম সচিব, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক, আর ফেরী ঘাটের সব সরকারী লোকজন মিলে তাকে আসলে হত্যা করেছেন।

কারণ যে কোনো সাধারণ বিবেচনাসম্পন্ন মানুষের জানার কথা যে ফেরীঘাটে গুরুতর অসুস্থ বা আহত মানুষ বা বৃদ্ধ কেউ থাকতে পারে, দেরি হলে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।  

 

যদি নূন্যতম ন্যায়বিচার থাকে এদেশে, আমরা এদের বিচারের মুখোমুখি হতে দেখব। দেখব এসব ভিআইপি ব্যবস্থা যে অসাংবিধানিক সে সম্পর্কে ঘোষণা।  

তিতাসের পিতামাতার জন্য গভীর সমবেদনা। জানি না, এ শিশুর মৃত্যুর পরও লজ্জা হবে কিনা ভিআইপি নামধারী এসব অমানুষের!

[উল্লেখ্য, নড়াইলের কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস গত বৃহস্পতিবার সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন স্বজনরা।  

সেদিন রাত ৮টায় অ্যাম্বুলেন্সটি কাঁঠালবাড়ি ১ নম্বর ফেরিঘাটে আসলে কুমিল্লা নামে একটি ফেরি ওই ঘাটেই ছিল।  

অভিযোগ ওঠে, সরকারের এটুআই প্রকল্পে দায়িত্বরত যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মণ্ডলের গাড়ি যাবে এই নির্দেশনা থাকায় ফেরি ছাড়তে দেরি করে ঘাট কর্তৃপক্ষ।  

শেষ পর্যন্ত রাত ১১টার দিকে যুগ্ম সচিবের গাড়ি ঘাটে পৌঁছানোর পর ফেরি ‘কুমিল্লা’ রওনা হয়। কিন্তু মাঝ নদীতে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় ১১ বছর বয়সী তিতাস।

আসিফ নজরুল: লেখক, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।  

এম.এ.আজিজ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের প্রাণ সাকিব আল হাসানকে সংবর্ধনা আগামীকাল

 বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে সংবর্ধনা দেবে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস)। সব কিছু ঠিক থাকলে ৩০ জুলাই বিকেলে বর্ণাঢ্য এ আয়োজন হবে। যাতে গ্যালারি, স্টেডিয়াম ও চারপাশে বড় পর্দায় লাখো মানুষ এ ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারবেন বলে আশা আয়োজকদের।

সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাসের কাছে জানতে চাইলে  বলেন, চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বিশ্বসেরা এ ক্রিকেটারকে সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হচ্ছে ৩০ জুলাই এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে সাকিবকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি বলতে গেলে চূড়ান্ত। সবকিছু তদারক করছেন সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।

সিজেকেএস ক্রিকেট কমিটির যুগ্ম সম্পাদক, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব জানান, ৩০ জুলাই বিকেল চারটা থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হবে। বর্ণিল ও আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সুশৃঙ্খলভাবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ভক্তরা যাতে স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত আর্চওয়ে, মেটাল ডিরেক্টর দিয়ে তল্লাশিসহ সব ব্যবস্থা থাকবে। চট্টগ্রামে সাকিব অবস্থান করবেন রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে।

তিনি জানান, সাকিব আল হাসানকে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নগরের চাবি তুলে দেবেন।

নতুন নিয়মে খুলতে হবে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলতে নতুন বাধ্যবাধকতায় পড়তে যাচ্ছেন ইউজাররা। পরিচয় গোপন করে অ্যাকাউন্ট খোলার যে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতো সেটি ফেসবুকে এখন থেকে আর করা যাবে না। নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে অন্তত একটা প্রোফাইল ছবি ও অ্যাকাউন্টের জন্য বিশেষ কিছু তথ্য যোগ না করলে এখন থেকে অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা আর দিচ্ছে না ফেসবুক।

এছাড়াও নতুন বাধ্যবাধকতার কারণে ফেসবুকে মোবাইল নম্বর দিতেই হচ্ছে ব্যবহারকারীকে। অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের নামে প্রোফাইলের ছবি ও মোবাইল নম্বর দেওয়া ছাড়া অ্যাকাউন্ট খোলা এখন কঠিন।

আইএএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট তৈরি বন্ধ করতে এবং বেনামে হয়রানির আশংকা ঠেকাতে এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

আইএএনএসের এক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যাদের একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে, তাদের জন্য ফেসবুকে প্রোফাইলের বাড়তি তথ্য দেওয়া সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুকে লগইন করতে গেলে অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এসব অ্যাকাউন্ট ইউজারদের। যদি এসব অ্যাকাউন্টে মোবাইল নম্বর দেওয়া না থাকে, তবে ফেসবুক মোবাইল নম্বর ও অন্তত একটি প্রোফাইল পিকচার চাইবে। আর একই মোবাইল নম্বর দিয়ে একাধিক ফেসবুক আইডি খোলার সুযোগও দিচ্ছে না ফেসবুক।

প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বিনষ্টের আশংকায় ইতিমধ্যে অনেকেই ফেসবুক থেকে তাদের প্রকৃত অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছেন। ওই ব্যবহারকারীরা আরেকটি ডামি বা ‘নকল’ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ফেসবুকে লগইন করছেন।

ওই এসব অ্যাকাউন্টে প্রায় সময় ছবি বা মোবাইল নম্বর দেন না ব্যবহারকারীরা। এমনকি ফ্রেন্ড লিস্টে কাউকে গ্রহণ করেন না। বিভিন্ন ফেসবুক পেজ দেখতে এবং ফেসবুকের মাধ্যমে অন্যান্য অ্যাপে লগইন করতে ব্যবহার করা হয়। এসব ডামি অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে তাদের মোবাইল নম্বর ও প্রোফাইলের ছবি দিতেও বাধ্য করবে ফেসবুক।

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৮২৪১৭ হজযাত্রী

হজ পালন করতে গতকাল রাত পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৮২ হাজার ৪১৭ জন হজযাত্রী। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৭ হাজার ৮১৩ জন।

গতক বুধবার সৌদি আরবের স্থানীয় সময় দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৮২ হাজার ৪১৭ জন হজযাত্রী। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ১২০টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ১০৭টিসহ মোট ২২৭টি ফ্লাইটে সেখানে পৌঁছান তারা। এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন।

গতকাল বুধবার রাত ১টায় প্রশাসনিক দলের দলনেতা এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. জহির আহমেদের সভাপতিত্বে হজ প্রশাসনিক দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হজযাত্রীদের মক্কা, মদিনা ও জেদ্দার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছরের ১০ আগস্ট হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।

পি জে/সাইদুল

সর্বশেষ সংবাদ