সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
পাবজি খেলা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

পাবজি! প্লেয়ার্স আননোন ব্যাটেল গ্রাউন্ড! বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইলন গেম। বর্তমানে উপমহাদেশে কয়েকগুণ বেড়েছে এই গেমের জনপ্রিয়তা। মোবাইল এবং কম্পিউটার দুটোতেই খেলা যায় এই গেম। তবে উপমহাদেশে পাবজির কম্পিউটার ভার্সনের থেকে মোবাইল ভার্সনটিই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 

মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা এবং হাতের নাগালের মধ্যে থাকা ইন্টারনেটের কারণেই এই গেমটির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। বর্তমানে এই গেমে অত্যধিক আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশু থেকে শুরু করে কিশোর এবং তরুণরাও।

অন্যান্য ব্যাটেল রয়্যাল গেমের মতোই পাবজিও অনেক বেশি হিংস্র গেম। এবং এর ভয়াবহতা এতই বেশি যে শিশু এবং কিশোরদের মধ্যে এক প্রকার ক্ষিপ্রতা সৃষ্টি করে এই গেম। অত্যধিক মাত্রায় হিংস্রতা থাকায় ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই গেমটি নিষিদ্ধ। অতিরিক্ত হিংস্রতা শিশু-কিশোরদের মধ্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এবং পরবর্তী জীবনে শিশুদের হিংস্র করে তুলতে পারে এই গেম।

এ ধরনের আসক্তি বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব গেমে আসক্তির কারণে কিশোররা পারিবারিক, সামাজিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। খেলার এক পর্যায়ে এসে তারা ভায়োলেন্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি এটি আলোচিত আরেক 'ব্লু হোয়েল' গেমের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

কেবল শারীরিক ক্ষতির কারণই নয় এই পাবজি গেমটি। সেই সাথে মানসিক রোগের কারণও হতে পারে এই গেমটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এক গবেষণার পর জানিয়েছে ভিডিও গেমে আসক্তি এক ধরণের মানসিক রোগ। ভিডিও গেমগুলো একজন খেলোয়াড়ের ডিপ্রেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শারীরিক মানসিক রোগের সাথে সাথে পাবজি গেমটি একজন শিশু কিংবা কিশোরের উপর সামাজিক মূল্যবোধের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গেমটি যেহেতু একটি জায়গাতেই আটকে থেকে খেলতে হয় সেহেতু এই গেম খেলা মানুষটি সামাজিকভাবে খুব বেশি সংযুক্ত থাকতে পারে না। আর এই কারণে সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সমাজের আচার ব্যবহার থেকেও ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে হয় সেই মানুষটিকে। সর্বোপরি একটা সময় একাকীত্ব বরণ করতে হয় তাদেরকে।

এই গেমটি অতিরিক্ত খেলার কারণে চোখের সমস্যাও হতে পারে। আর সেই সাথে দেখা দেয় ঘুমের ঘাটতিও। কম্পিউটার কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে বেশি সময় ধরে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ক্ষতি হতে পারে। আর চোখের সমস্যার সাথে সাথে ঘুমেরও ঘাটতিতে পড়ে এই গেম খেলা মানুষগুলি।

চলতি বছরে সর্বাধিক বিক্রিত ১০ স্মার্টফোন

সারাবিশ্বে চলমান করোনা মহামারির সময়ে ধ্বস নেমেছে বিভিন্ন খাতে। তবে এই মন্দার ভেতরেও অনেকগুলো স্মার্টফোনই বেশ ভালো পরিমাণে বিক্রি হয়েছে। চলতি বছরে সর্বোচ্চ বিক্রিত স্মার্টফোনগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে জরিপকারী প্রতিষ্ঠান অমিডিয়া। 

২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত করা এই জরিপে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত ১০টি স্মার্টফোনের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

অমিডিয়ার জরিপ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে অ্যাপলের আইফোন ১১। জুন মাস পর্যন্ত স্মার্টফোনটি বিক্রি হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ পিস।

জরিপ অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্সের গ্যালাক্সি এ১৫ মডেলের স্মার্টফোন। জুন মাস পর্যন্ত স্মার্টফোনটি বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ পিস।

বিক্রির তালিকায় তৃতীয় স্থান দখল করে রয়েছে শাওমির রেডমি নোট ৮। জুন মাস পর্যন্ত স্মার্টফোনটি বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ পিস।

বেশি বিক্রিত হওয়া তালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করে রয়েছে শাওমির আরেকটি স্মার্টফোন রেডমি নোট ৮ প্রো।

পঞ্চম স্থান দখল করে রয়েছে অ্যাপলের আরেকটি স্মার্টফোন আইফোন এসই। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত স্মার্টফোনটি বিক্রি হয়েছে ৮৭ লাখ পিস।

এদিকে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অ্যাপলের আইফোন ১০আর।

চতুর্থবারের মত আবারো সপ্তম বেশি বিক্রিত স্মার্টফোনের তালিকায় রয়েছে অ্যাপলের আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্স।

এদিকে অষ্টম নবম ও দশম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে শাওমির রেডমি ৮এ, শাওমির রেডমি ৮ এবং আইফোনের ১১ প্রো।

ঘরেই রান্না করুন তাওয়া পোলাও

সপ্তাহে একদিন অত্যন্ত পোলাও খেতে ভালো লাগে সবার। কিন্ত সবসময় একই পোলাও খেতে খেতে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে যান। তারা চাইলেই একটু ভিন্ন স্বাদের তাওয়া ফোলাও ঘরেই রান্না করতে পারেন। তাহলে চলুন জেনে নেই কীভাবে ঘরেই রান্না করবেন তাওয়া পোলাও-
 

উপকরণ: বাসমতী চাল- ১ কাপ, পেঁয়াজ কুঁচি- বড় ১ টি, টমেটো কুঁচি- ২ টি, ক্যাপসিকাম কুঁচি- ১ টি, সবুজ মটর- ১ কাপ, কাঁচামরিচ কুঁচি- ১ টি, পাওভাঁজি মশলা ( যে কোন বড় সুপার স্টোরে পাবেন), লবণ- স্বাদমত, চিনি- ১/২ চা চামচ, মাখন- ৪ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুঁচি

মরিচ ও রসুন পেস্ট-এর জন্য: লাল শুকনো মরিচ- ৪০ টি, রসুন- ২০ টি, লবণ- ৩ টেবিল চামচ

প্রণালী: চুলোয় ২ কাপ পানি সিদ্ধ করে নিন। একটি বোলে মরিচ নিয়ে তাতে সিদ্ধ পানি দিয়ে রেখে দিন ১০ মিনিটের জন্য। এবার পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর ব্লেন্ডারে মরিচ ও রসুন একসাথে নিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। প্রয়োজনমত পানি দিন মিহি পেস্ট তৈরি করার জন্য। হয়ে গেলে একটি বাটিতে নিয়ে তাতে লবণ মিশিয়ে নিন। ফ্রিজে রেখে দিলে এটি অনেকদিন ব্যবহার করতে পারবেন।

তাওয়া পোলাও রান্না করতে:  বাসমতী চাল ধুয়ে ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর চাল রান্না করে নিন। রান্না করার সময় অল্প লবণ দিয়ে নিবেন। খেয়াল রাখবেন যাতে ভাত ঝরঝরে হয়। হয়ে যাওয়ার পর নামিয়ে এক পাশে রেখে ঠাণ্ডা হতে দিন।

একটি তাওয়ায় বাটার দিয়ে নিন। চিলি-গারলিক পেস্ট দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ রান্না করুন। তারপর পেঁয়াজ কুঁচি, কাঁচামরিচ কুঁচি, টমেটো দিয়ে দিন। সব একসাথে মিক্স করে রান্না করতে থাকুন।

লবণ ও চিনি দিয়ে দিন। পাওভাঁজি মশলা দিয়ে দিন। মটর ও ক্যাপসিকাম দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া দিয়ে দিন। সব শেষে রান্না করা ভাত দিয়ে দিন। ৫-৮ মিনিট রান্না করুন।

ব্যস! হয়ে গেলো তাওয়া পোলাও। এটি যে কোন কারি দিয়ে বা এমনিতেই খেতে পারবেন।

এই মুহূর্তে গুগলে কী কী সার্চ করবেন না

বর্তমান ইন্টারনেটের দুনিয়ায় যেমন আমাদের অনেক কাজ সহজ হয়ে গেছে। আপনি কোনো বিষয়ে বিশদভাবে জানতে চাচ্ছেন কিন্তু সে বিষয়ে আপনার ধারণা নেই। আপনি গুগল সার্চ করে চাইলেই সে বিষয়ে যথেষ্ট ধারণা নিতে পারবেন। কিন্তু আপনি না জেনে গুগলে এমন কোন কিছু সার্চ করলেন যার মাধ্যমে আপনার ক্ষতি হতে পারে।

চলুন দেখে নেওয়া যাক গুগলে কি কি সার্চ করবেন না:

১. সঠিক URLনা জানলে ব্যাঙ্কের নাম করে নেট ব্যাংকিংয়ের জন্য ওয়েব সাইট সার্চ করবেন না। আপনি যে ব্যাঙ্কে লেনদেন করেন তাদের অনলাইন ঠিকানা জেনে রাখা উচিত। ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটের আদলে অনেক ‘ফিশিং সাইট’ও রয়েছে। তাই জানা না থাকলে ভুল করে এই সাইটে ঢুকে আপনার গোপন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের আইডি-পাসওয়ার্ড নথিভুক্ত করলেই বিপদ নিশ্চিত।

২. স্ক্যামারাদের সবচেয়ে বড় লক্ষণ থাকে সরকারি ওয়েবসাইট। লাইসেন্সের আবেদন বা অনলাইনে সরকারি ডেথ সার্টিফিকেট খুঁজতেও গুগলে সার্চ করবেন না। গুগল সার্চে পাওয়া অনেক ওয়েবসাইট যথাযথ মনে হলেও তা থেকে প্রতারণার শিকার হতে পারেন।
৩. গুগলে কখনও কোনো সংস্থার কাস্টমার কেয়ার নম্বর সার্চ করাও উচিত নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুল নম্বর থাকে এখানে। বহু ক্ষেত্রে এইসব নম্বরে ফোন করলে আপনার মারাত্মক বিপদ হতে পারে। বরং নির্দিষ্ট সাইটের ‘কন্ট্যাক্টে’ গিয়ে কাস্টমার কেয়ারের নম্বর জোগাড় করুন। অনলাইনে বিভিন্ন ভুয়া নাম্বারও থাকে। সেইসব নাম্বারে ফোন করে অনেকে প্রতারিতও হয়েছেন।

৪. কোন রোগের জন্য কী ওষুধ এসব জানার জন্য গুগলকে ভরসা করা একেবারেই নিরাপদ নয়। মনে রাখবেন, সবসময় রোগের কী লক্ষণ সে বিষয়ে সঠিক উত্তর দেয় না গুগল। বিশেষ করে করোনা নিয়ে ওষুধের কোন নাম সার্চ করা যথাযথ নয়।

৫. বিনিয়োগ করলেই খুব শিগগিরই বড়লোক হয়ে যাবেন আপনি, এরকম পার্সোনাল ফাইন্যান্স ও স্টক মার্কেটের কথা গুগলের কাছে ভুলেও জানতে চাইবেন না।

৬. জালিয়াতি চক্র আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। অফুরন্ত সুবিধার সঙ্গে অ্যান্টি ভাইরাসের বিজ্ঞাপন দেখে সেটি ডাউনলোড করা নিরাপদ নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনার অজান্তেই ডিভাইসে ঢুকে পড়বে বিপদজনক ভাইরাস।  

 

৬০ সেকেন্ড কেন এক মিনিট হয়?

৬০ সেকেন্ডে ১ মিনিট, আবার ৬০ মিনিটে ১ ঘণ্টা। এগুলো আমরা একদম ছোট্টবেলা থেকে শিখে আসছি। কিন্তু আপনারা কি জানেন যে, কেন এক মিনিটকে ভাগ করে ৬০ সেকেন্ড ধরা হয়েছে? বা কেনই বা ৬০ সেকেন্ডে এক মিনিট হয়? কেন ৬০ মিনিটকে ১ ঘন্টা ধরা হয়? ৬০ মিনিটই কেনো? ১০০ মিনিটেও তো এক ঘণ্টা হতেই পারত, তাতে অসুবিধা কিসের ছিলো? কিংবা ১০০ সেকেন্ডে ১ মিনিট ও হতে পারতো? সেই হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা পদ্ধতিতেই এই হিসাব এখনও করা হয়। জানেন কি কেন এই ২৪ ও ৬০ এর পদ্ধতিই চালু হয়েছে? আসলে এই নিয়ম চালু হওয়ার পেছনে ইতিহাসবিদরা কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন।

সংখ্যাগত কারণ: ১০ ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতিটি এসেছে আমাদের হাতের যে ১০টি আঙ্গুল আছে তার কারণেই, কারণ এর ফলে কোনও কিছু গণনা করতে সুবিধা হয়।

আজ থেকে অন্তত প্রায় ৫ হাজার বছর আগে, সুমেরীয় সভ্যতা তাদের জটিল গাণিতিক এবং জ্যামিতিক হিসাব করার জন্য দশমিক সংখ্যা ব্যবহার করার পরিবর্তে ১২ এবং ৬০ ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করতো।

এই ১০ ভিত্তিক পদ্ধতির একটি সীমাবদ্ধতা হলো, এই সংখ্যাটিকে ২ ও ৫ ছাড়া অন্য কোনও সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা যায় না। সেই তুলনায় কিন্তু দেখতে গেলে ১২ কে ২, ৩, ৪, ৬ দ্বারা এবং ৬০ কে ২ থেকে ৬ পর্যন্ত সব সংখ্যা দিয়েই ভাগ করা যায়। ফলে এসব পদ্ধতিতে ভগ্নাংশের কাজের হিসেব করা অনেকটাই সহজ ছিল।

এছাড়া সুমেরীয় সভ্যতার মানুষদের পরবর্তীতে ব্যাবলনীয়রা তাদের হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে আর যে বাকি চারটি আঙ্গুল আছে তার তিনটি করে বিভাজন হিসাব করে এক হাতে মোট ১২ পর্যন্ত গণনা করত। এক হাতের ১২টি সংখ্যাকে যদি অন্য হাতের ৫টি আঙ্গুল দ্বারা গুণ করা হয় তাহলে দুই হাত মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ পাওয়া যায়। এটিও এই মিনিট-সেকেন্ড গণনা করার ক্ষেত্রে এই ৬০ সংখ্যাটি নির্বাচন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।

জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিদ্যা : সুমেরীয় সভ্যতা পতন হয়ে যাওয়ার পরে খ্রিস্টপূর্ব অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্যাবলনীয়রা কোণ পরিমাপ করার জন্য ডিগ্রীর আবিষ্কার করে। সে সময় তারা মনে করত যে, পৃথিবী ৩৬০ দিনে মাত্র একবারই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। অর্থাত্‍ যদি প্রতিদিনের কৌণিক আবর্তনকে ১ ডিগ্রি হিসেবে ধরা হয়, তাহলে একবার পূর্ন প্রদক্ষিণ করতে ৩৬০ ডিগ্রি সম্পন্ন হয়।

ইতিহাসবিদদের ধারণা অনুযায়ী, এখান থেকেই প্রথম বৃত্তের ৩৬০ ডিগ্রির ধারণাটি আসে। বৃত্তের এক ষষ্ঠাংশ, অর্থাত্‍ ৬০ ডিগ্রি একটি প্রকৃত কোণ তৈরী করে। অর্থাত্‍ যদি ৬০ ডিগ্রী করে বৃত্তের ভিতরে ছয়টি ত্রিভুজ আঁকা হয়, তাহলে প্রতিটি ত্রিভুজই সমবাহু ত্রিভুজ হয়। এই কারণেই তখন থেকেই জ্যামিতি এবং জ্যোতির্বিদ্যায় এই ৬০ সংখ্যাটির একটি বিশেষ গুরুত্ব ছিল।

৩৩৫ থেকে ৩২৪ খ্রিস্টপূর্বের মধ্যে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট একটি বিশাল এলাকা জয় করেছিল, তার ফলে ব্যাবিলনের এই জ্যোতির্বিদ্যা গ্রীস এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যখন ইসলামের আবির্ভাব ঘটে তখন মুসলিম বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদরাও রোম এবং ভারত থেকে ১২ এবং সময় পরিমাপের ক্ষেত্রে এই ৬০ সংখ্যাটিকে গ্রহণ করে। এভাবেই ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে এই পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্র : কোয়ারা.কম।

ফেসবুকের নতুন এভাটার ট্রেন্ডে কি তথ্য ফাঁস হবে?

নতুন ট্রেন্ড ‘এভাটারে’ কাঁপছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। স্ক্রল করলেই যেন এভাটার ট্রেন্ড ছাড়া চোখে আর কিছুই  পড়ছে না। বিশ্বের আর সব দেশের মতো বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরাও এই স্রোতে গা ভাসিয়েছেন। এবং অনেকেই এই ট্রেন্ড নিয়ে মাতামাতিও শুরু করেছেন। কিন্তু এই ট্রেন্ডে কি তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি কতটুকু? কী বলছেন এ বিষয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই নানা রকম ডিজাইনের 'এভাটারময়' হয়ে উঠেছে ফেসবুকের নিউজফিড। যেখানে সবাই রীতিমতো নিজেকে কার্টুনে পরিণত করতে মেতে উঠেছেন। সারাটা দিন ধরেই এই ট্রেন্ড এর স্রোতে গা ভাসাচ্ছেন ফেসবুকবাসী। তবে এর শুরুটা করেছে ফেসবুক নিজেই।

জানা গেছে, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ব্যবহারকারীদের জন্য সর্বপ্রথম এভাটার ফিচার নিয়ে আসে। পরে, সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ এশিয়ায় ফিচারটি অবমুক্ত করে ফেসবুক। এর পরপরই ফিচারটি ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছে, এটি ফেসবুকের একটি নতুন বিনোদনের মাধ্যম যাতে নতুন করে কোন ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি নেই।

কিন্তু এমন ট্রেন্ডে বিরক্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুপ্তি দাস চৈতি। তিনি বলছেন, ‘আমরা সবকিছুকেই ট্রেন্ড বানিয়ে বিরক্তিকর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি। এভাটারের ট্রেন্ডটাও এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে এখন আমরা ট্রেন্ডকে নিয়ন্ত্রণ করছি না, ট্রেন্ড আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে।’

তবে এর উল্টো মত প্রকাশ করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রাহুল মন্ডল। তিনি বলছেন, এটাকে এত সিরিয়াসলি নেয়ার কিছু নেই। এটা একটা নির্দোষ মজা। সময়ের স্রোতে এই ট্রেন্ড এসেছে আবার সময়ের স্রোতে চলে যাবে।

রাহুলের মতই ‘এভাটার’ ট্রেন্ডকে সহজ দৃষ্টিতেই দেখতে অনুরোধ করেছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বী। তিনি বলছেন, করোনার এই সময়ে ঘরবন্দি থাকতে থাকতে মানুষ অনেক কিছু নিয়েই মেতে উঠেছে। এভাটারও এমন একটা বিষয়। এগুলো মজা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এভাটার বিষয়ে কথা বলেন সাইবার-৭১ এর পরিচালক আবদুল্লাহ আল জাবের হৃদয়। তিনি বলেন, ‘এই এভাটার ফিচারটি ফেইসবুকের নিজস্ব একটি ফিচার যা সম্প্রতি চালু হয়েছে। এটি বেশ নিরাপদ। তথ্য চুরির সঙ্গে এখন পর্যন্ত এর কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানা যাচ্ছে।’

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়

কোন বিষয়ে কষ্ট পেলে বা চিন্তা করতে থাকলে সেই চিন্তা দেহের স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। ভারসাম্যে  ব্যাঘাত ঘটায় দেহের হরমোনের। আমরা নিজেরাই আমাদের জীবনের চাহিদাকে সবক্ষেত্রে এতটাই বেশি করে ফেলি যে তার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলেই সেটাই আমাদের মানসিক অবসাদ এ পরিণত হয়, আর দিনের পর দিন এটা চলতে থাকলে সেটা ডিপ্রেশন এ রূপান্তরিত হয়।

ডিপ্রেশন কী:

যে কেউ ডিপ্রেশনের কবলে পড়তে পারে। তবে সবার ডিপ্রেশনের কারণ এক নয়। মানুষের জীবনযাত্রা যেমন আলাদা ঠিক তেমনই ডিপ্রেশনও আলাদা। একজন ব্যক্তি অট্টালিকার উপরে বসে থাকলেও তার জীবনে ডিপ্রেশন উঁকি দিতে পারে। আবার একজন নুন ভাত খেয়েও শান্তিতে দিন যাপন করতে পারে। তাই ডিপ্রেশন এর সঙ্গে অর্থের কোন সম্বন্ধ নেই।

কি কি কারণে ডিপ্রেশন জীবনে প্রবেশ করে?

অপমান বোধ

যদি কোন ব্যক্তি অন্য একজনের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত অপমানিত হয় তাহলে যখন তার মনের মধ্যে চরম আঘাত লাগবে তখন সে ডিপ্রেশন এ ভুগবে। এটা দেখা দেয় যারা একটু লাজুক ধরনের মানুষ, যাঁদের আত্মমর্যাদাটা অন্যের কথার উপরে নির্ভর করে, নিজেকে সব সময় অন্য সবার থেকে কম ভাবে, যারা নিজেকে নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগে তাঁদের ডিপ্রেশন এ ভোগার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়।

একাকিত্ব

কোন মানুষ যদি অনেক লোকজন পছন্দ করে, কোলাহল পছন্দ করে, কিন্তু কোন কারণে সে যদি পরে একাকী জীবন যাপন করতে বাধ্য হয় কিংবা অন্য কারো কথায় আঘাত পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেয় সে তখন নিজেকে অসহায় বোধ করে এবং একাকিত্বের যন্ত্রণা তার মনে অসহ্য হয়ে কাটার মতো বিঁধতে থাকে আর পরবর্তীতে সেটাই ডিপ্রেশন এ পরিণত হয়। কিংবা যারা দিনের পর দিন একা থাকে বিশেষ কারো সঙ্গে মেশে না তারা ও অনেক সময় নিজেকে পৃথিবীর মধ্যে অসহায় ব্যক্তি মনে করে ডিপ্রেশনে ভোগে।

বংশগত কারণ

কিছু কিছু পরিবারে এমন অনেক ব্যক্তি থাকেন যারা তাদের বংশের বোঝা বয়ে ডিপ্রেশন এর শিকার হন। এদের সব বিষয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। একটা সহজ সরল কথাও সহজ ভাবে না ভেবে জটিল আকার তৈরি করে, ফলে নার্ভে সব সময় চাপ সৃষ্টি হয়। এভাবে চলতে চলতে একটা সময়ের পরে মনে ডিপ্রেশন বাসা বাঁধে। এমন অনেক পরিবারই আছে যাঁদের বংশে একজন না একজন ডিপ্রেশন এর শিকার হয়।

বর্তমান জীবনে কোন বড় পরিবর্তন এলে

মানুষের জীবন সব সময় এক নিয়মে চলে না।চলতি পথে এমন অনেক সময় আসে যেই সময় টা পুরো জীবনেরই মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই সময়ে যারা নিজেকে সামলাতে জানে তারা অনেক দৃঢ় এগিয়ে যায় কিন্তু যারা এই ধাক্কা সামলাতে না পারে তারা ডিপ্রেশন এ চলে যায়। ধরুন কেউ একজন  কোন বড় অফিসে চাকরি করে কোন একটি কারণে তার চাকরিটা চলে গেল। এই সময় তার আগের জীবন যাত্রায়  পরিবর্তন আসবে, তার পরিবারের বিলাসিতা বন্ধ হবে, তার চলার ধরন পাল্টে যাবে, ফলে এই সময় সে যদি নিজেকে শক্ত করে না ধরে থাকতে পারে তাহলে তার মনে ডিপ্রেশন আসাটা কেবল সময়ের অপেক্ষা। তাই জীবনে হঠাৎ যদি কোন বড় পরিবর্তন আসে তাহলে তাকে মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ডিপ্রেশন এর লক্ষণ:

হতাশা, রাগ, দুঃখ, সব সময় মন খারাপ হওয়া ভাব,মনে সংশয়, দোদুল্যমানতা, বিরক্তি, খিদে ও ঘুম ভীষণ কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, কারো সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে না করা, শব্দ বা আলোতে বিরক্তি, হঠাৎ করে প্ল্যানিং ছাড়াই দেহের ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, মাথা ব্যথা, সব কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগা, কোন কিছুতে ই আনন্দ না পাওয়া বা মনোনিবেশের অভাব, সারা গায়ে, হাতে পায়ে ও পেটে  ব্যথা অনুভব করা,ক্লান্তি, নিজেকে সব কিছু থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা।

এর মধ্যে যে কোন পাঁচটি বা ততোধিক লক্ষণ যদি আপনার মধ্যে দু`সপ্তাহের ও বেশি সময় ধরে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া আপনার জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে। কারণ এই সব সমস্যা বেশি দিন ধরে পুষে রাখা মানে রোগকে আরো জটিল করা। অর্থাৎ মাইনর ডিপ্রেশন টার্ন করতে পারে মেজর ডিপ্রেশনে। অবশ্য ডিপ্রেশন কে কোনও অর্থেই কিন্তু জটিল রোগ বলা উচিত হবে না।বরং এটাকে বলা যেতে পারে অসুবিধা।এটা মন খারাপ থেকে তৈরি হওয়া শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা থমকে যেতে পারে কমতে  পারে জীবনের মান।

মেজর ডিপ্রেশন

যখন ডিপ্রেশন এর লক্ষণ গুলো অত্যন্ত প্রকটভাবে দীর্ঘদিন ধরে বহাল তবিয়তে থাক অথবা কিছু দিন পর পরই দেখা দেয় তখন তাকে মেজর ডিপ্রেশন বলে। মেজর ডিপ্রেশন থেকেই আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়।

মাইনর ডিপ্রেশন

মাইনর ডিপ্রেশন জীবনের কোন একটা সময়ে কোনও দুঃখজনক ঘটনা বা পরিবেশের কারণে দেখা দেয়। এই সময় কাছের মানুষের সান্নিধ্য ভীষণ প্রয়োজন হয়।

অ্যাটিপিকাল ডিপ্রেশন

এটা মেজর ডিপ্রেশনেরই একটা ধরণ। যদিও এক্ষেত্রে ওষুধ এবং সাইকোলজিকাল কাউন্সেলিং এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। এই সময় মানুষের সঙ্গে কথা বলা উচিত। মনোরম পরিবেশে যাওয়া দরকার তাহলে কিছুটা হলেও মন থেকে ডিপ্রেশন চলে যাবে।

ডিপ্রেশন

অবসাদগ্রস্ত মানুষ জনের রক্তে ভিটামিন-ডি এর অভাব থাকলেও ডিপ্রেশন আসে। তবে ভিটামিন - ডি এর সঙ্গে ডেফিশিয়েস এর মধ্যে অবসাদ বা ডিপ্রেশন সম্পর্ক নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়:

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে হলে সর্বপ্রথম এর চিকিৎসার প্রয়োজন। এবং সঙ্গে আরো বেশি করে প্রয়োজন কাছের কোন মানুষের। যে তাকে খুব ভালো করে বোঝে, জানে, এবং মনের যত্ন নিতে পারবে এমন কোন প্রিয় মানুষ তাকে একটু সঙ্গ দিলে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়া খুব সহজ হয়ে উঠবে। এছাড়াও মেডিসিন, দেহের ওজন বাড়তে দেবেন না, পুষ্টিকর খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত।

মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়াটা কোন সমস্যা নয়, সমস্যা হল মানসিক অবসাদের কবলে পড়া। যখন মানুষ নিজেকে নিয়ে নিজে খুশি না হয়, নিজের খুশির ভার তুলে দেয় অন্যের হাতে,নিজের ভালো থাকাটা নির্ভর করে অন্যের উপরে তখনই মানুষ ডিপ্রেশন এ ভোগে। কারণ আপনি তো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। আপনাকে কেউ কম ভালোবাসলে আপনি কষ্ট পান, আপনাকে কেউ দেখতে খারাপ বললে আপনি দুঃখ পান, কেউ আপনার থেকে কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে গেলে আপনার নিজেকে অপরাধী মনে হয়, তার মানে আপনার হাতে কিছু নেই আপনি জীবন নির্ভর করেন অন্যের ইচ্ছা অনুসারে তাহলে আপনাকে একবার নয় বারবার ডিপ্রেশন এ ভুগতে হবে। তাই ডিপ্রেশন এর হাত থেকে রেহাই পেতে চাইলে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করুন। 

জিমেইলে বিভ্রাট, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা

বিভ্রাটের মধ্যে পড়েছে জিমেইল, গুগল ড্রাইভ ও ডক্সসহ গুগলের বেশ কিছু জনপ্রিয় সাইট। মেইল এবং এর সঙ্গে কোন ধরনের ফাইল সংযুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।

বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট) এমন সমস্যার কথা উল্লেখ করে খবর প্রকাশ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম।
 
গুগলের বিভ্রাটে পড়েছে বাংলাদেশেও। এ বিষয়ে পলাশ মাহমুদ নামের একজন বলেন, চার বার চেষ্টা করেও পূর্বের মেইল ফরয়োর্ড করতে পারেনি তিনি। এ রকম সমস্যায় পড়েছেন আরও অনেকে। কেউ কেউ টুইটারেও এ সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।

এদিকে, ডাউন ডিটেকটরের তথ্য অনুযায়ী, সমস্যার সূত্রপাত গুগল সার্ভারের বিভ্রাট থেকে। প্রায় ৬২ শতাংশ অভিযোগকারীই বলেছেন, তারা জিমেইলে মেইল পাঠাতে পারছেন না।

জিমেইলসহ তাদের অন্য সাইটের সমস্যা নিয়ে গুগল অ্যাপস স্ট্যাটাস পেইজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গুগল। সমস্যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, জিমেইলে এ ধরনের বিভ্রাট এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের জুলাই মাসেও ভারতের গুগল ব্যবহারকারীরা কয়েক ঘণ্টার জন্য বিপাকে পড়েছিলেন।

রামগড় বদলে দেওয়া একজন ইউএনও'র গল্প

নিউজ ডেস্কঃ সমতল ও পাহাড়ের সমন্বয়ে গঠিত খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলা। একটু পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অনেক অফিসাররাই এখানে থাকতে চান না। সেজন্য হয়তো সাধারনের সঙ্গে তাদের দূরত্বও কমেনি কখনো। কিন্তু সেই সঙ্কট এবার কিছুটা দূর হয়েছে।
রামগড়ে এখন আর সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব নেই। ধনী-গরিব ছোট-বড় সবাই এখন সরকারি কর্মকর্তাদের সান্নিধ্য পাচ্ছেন। আ.ন.ম. বদরুদ্দোজা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের জন্য নিজের অফিসের দরজা খুলে দেয়া এখন প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে।
উপজেলার অন্যতম প্রধান খাত পর্যটনও এগিয়েছে অনেক দূর। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ‘এক ইঞ্চি ভূমি ও অনাবাদী রাখা যাবে না’ এই ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে বদরুদ্দোজা পাহাড়ী অনাবাদী ভূমিগুলোকে আবাদী করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তার অনুপ্রেরণায় কুমিল্লার কিছু উদ্যোক্তা পার্বত্য শান্তি চুক্তি আইন মেনে অবহেলা এবং অযত্নে পড়ে থাকা ১৫ একর  ভূমি বাগান করেছেন। বাগান করতে স্থানীয় জমির মালিক মো. মুসা মিয়া এবং মো. শাহজাহানের থেকে ৩০ বছরের জমি লিজ নিয়েছেন।
১৫ একর জমিতে দেশি-বিদেশি প্রায় আট হাজার চারা রোপন করেছেন উদ্যোক্তারা। বাগানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক কাজ করে। ফলে করোনাকালীন দুর্যোগে অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। এমন কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত  হয়ে আশেপাশের জমির মালিকরাও তাদের অনাবাদি জমি আবাদী করতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
বদরুদ্দোজা রামগড়ে যোগদান করার কিছুদিনের মধ্যেই করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব দেখা দেয়। করোনাকালীন প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার পৌঁছে দিয়েছেন প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে। ত্রাণের প্যাকেট তৈরি থেকে বণ্টন পর্যন্ত অন্যদের সঙ্গে নিজে হাতে করেছেন সব কাজ।
স্থানীয় দিনমজুর জ্যোতি রানী ত্রিপুরা বলেন, করোনার মধ্যে কোনো কাজ ছিল না। তখন বাগানে কাজ করার সুযোগ পাই। যা পাই তা দিয়ে সংসার চলে।
রামগড় উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়ারম্যান আনোয়ার ফারুক জানান, ইউএনও আ.ন.ম. বদরুদ্দোজা  রামগড়ে যোগদানের কিছুদিনের মাঝেই সবার সাথে সমন্বয় ঘটিয়ে দীর্ঘদিনের অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাওয়া রামগড় পার্কের সৌন্দর্যবধর্নে পার্কের সংস্কার এবং আলোকসজ্জার কাজ করেছেন। পুরো উপজেলার নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে স্থাপন করেছিলেন সিসিটিভি ক্যামেরা। রামগড় সোনাইপুল টেলপ্লাজার ব্যপক অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন। যা পূর্বের কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা করেনি।
নির্বাহী কর্মকর্তা  আ. ন.ম.বদরুদ্দোজা ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। বিদায়লগ্নে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, অল্প সময়ে প্রকৃতি কন্যা রামগড় ও এর সহজ সরল মানুষগুলোকে ভালোবেসে ফেলেছি। ছেড়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে তবুও সরকারি আদেশে যেতে হবে। সব সময় শুভ কামনা থাকবে রামগড় বাসীর জন্য।
আ.ন.ম. বদরুদ্দোজার জন্ম চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলায়। পড়ালেখা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে । ২০১১ সালের ১ আগস্ট শরীয়তপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে কর্মজীবন শুরু করলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা এবং খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার দায়িত্বপালন করেছেন।